নয়া দিল্লিতে শেখ হাসিনার গোপন আস্তানার খোঁজ আজও কেউ জানে না। বিগত প্রায় এক বছর ধরে দিল্লির লুটিয়েন্স এলাকার কোনও এক সরকারি বাংলোকে নাকি রাখা হয়েছে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে। আর তাঁকে একজন রাষ্ট্রনেতার মর্যাদাই দিয়েছে ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকার। অর্থাৎ, রাষ্ট্রপ্রধানের মতোই ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা, বাছাই করা কর্মচারী ও অফিস স্টাফ। পাশাপাশি তাঁকে দেওয়া হয়েছে সুরক্ষিত টেলিফোন লাইন ও হাইস্পিড ইন্টারনেটের বিবিধ সুযোগ-সুবিধা। এমনকি নিয়মিত তাঁর শরীর-স্বাস্থ্য পরীক্ষাও করানো হয়। তবে বিগত এক বছরে তাঁর সঙ্গে বাইরের কাউকেই দেখা করতে দেওয়া হয়নি শুধুমাত্র তাঁর মেয়ে কর্মসূত্রে দিল্লির বাসিন্দা সাইমা ওয়াজেদ পুতুল ছাড়া। এবার ভারতে আশ্রয় নেওয়া বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর দল আওয়ামী লীগের একগুচ্ছ নেতার বৈঠক হয়ে গেল বলেই সূত্রের খবর। আর এই অনুমতি দিয়েছে খোদ ভারত সরকার। ফলে এটা একটা তাৎপর্যপূর্ণ দিক বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল। গত শনিবার হওয়া ওই বৈঠক অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে হয়েছে এবং কে বা কারা এই বৈঠকে ছিলেন, সে ব্যাপারে সঠিকভাবে কেউ বলতে চাইছেন না। তবুও কানাঘুঁষো আসছে, এবং দিল্লির অসমর্থিত সূত্র থেকে কয়েক টুকরো খবর বেরিয়ে আসছে।
গত ঈদে প্রথমবার হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে তাঁর মায়ের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। হাসিনার দেশ ছাড়ার তাও প্রায় দশ মাস বাদে। কিন্তু বিগত একমাসে ছবিটা বদলেছে। জানা গিয়েছিল, বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একই অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার অনুমতি পেয়েছিলেন। জানা গিয়েছে, মামলা নিয়ে আলোচনার জন্য সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়। তবে এবার আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা ও পদাধিকারীকে শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করার অনুমতি দিয়েছে ভারত সরকার। কারা কারা ছিলেন সেই তালিকায়, স্পষ্ট করে জানা না গেলেও কয়েকটি নাম ভেসে আসছে। জানা যাচ্ছে, শেখ হাসিনার তৈরি করা তালিকা অনুযায়ী ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাঁরাই দিল্লিতে ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। যেমন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, মেজর জেনারেল তারেক রহমান সিদ্দিক, যিনি শেখ হাসিনার প্রাক্তন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ছিলেন। এছাড়া ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জেল হোসেন চৌধিরী মায়া, জাহাঙ্গির কবীর নানক। হাসিনার সংসদীয় দলের চিফ হুইপ নূর এ আলম চৌধুরী লিটন। আরও জানা যাচ্ছে একজন হিন্দু নেতা ওই বৈঠকে ছিলেন বলে জানা যাচ্ছে। তিনি হলেন, আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মৃণালকান্তি দাস। আরও কয়েকজন সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যও ওই বৈঠকে ছিলেন বলে জানা যাচ্ছে। এবার আসা যাক, ওই বৈঠকে ঠিক কি কি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
যেটা জানা যাচ্ছে, ওই বৈঠকে আওয়ামী লীগ নেত্রী দলের কৌশলগত ও সাংগঠনিক পরিকল্পনা নিয়ে গভীর আলোচনা করেছেন। অর্থাৎ, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কিভাবে দলের সংগঠন নতুন করে তৈরি করা যায়, কাদের কি দায়িত্ব দেওয়া যায় সেটা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। হাসিনার দলের বহু নেতাই মনে করছেন, দলের ঘুরে দাঁড়ানোর সময় এসে গিয়েছে। তাই মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিভিন্ন অমানবিক দিক তুলে ধরতে হবে আরও বেশি করে। জানা যাচ্ছে, আওয়ামী নেতারা এখনও আশাবাদী যে তাঁরা ভোটে অংশ নিতে পারবেন। তাই এই মুহূর্তে সংগঠন ঢেলে সাজানো সম্ভব নয়। যারা আছেন সবাই মিলেই ঝাঁপিয়ে পড়ার শপথ নেওয়া হয়। পাশাপাশি ঠিক হয়েছে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একাত্তরের মত একটি নির্বাসিত বাংলাদেশ সরকার গঠন করা হবে। বাংলাদেশের শেথ হাসিনা সরকার নির্বাচিত সরকার ছিল। যাদের পরিকল্পিতভাবে ষড়ষন্ত্র করে হঠিয়ে একটি অবৈধ দখলদার সরকার ক্ষমতায় এসেছে। আন্তর্জাতিকমহলে এটা আরও ভালোভাবে তুলে ধরতে হলে একটি নির্বাসিত সরকার গঠন আবশ্যক। ঠিক যেমনটা হয়েছিল ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কলকাতা থেকে একটি স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার গঠনের মাধ্যমে। তাজুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে সেই সরকারকে তৎকালীন ভারত সরকার ন্যয্যতা দিয়েছিল। এবারও সেই ধরণের একটি নির্বাসিত সরকার গঠনের দিকে এগোচ্ছেন শেখ হাসিনা। এমনটাই জানা যাচ্ছে। আর তা হলে ভারতের পক্ষেও সুবিধা হবে তাঁকে স্বীকৃতি দিয়ে বাংলাদেশে পুনর্স্থাপিত করতে। অর্থাৎ, এবার অল আউট ঝাঁপাতে চাইছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এখন দেখার জল কোন দিকে গড়ায়।












Discussion about this post