আওয়ামী লীগের তৎপরতা বাড়ছে। তারা মাঠে নেমে সক্রিয় হচ্ছে, সেটা খানিকটা আন্দাজ করা গিয়েছিল গোপালগঞ্জের ঘটনায়। এদিকে দেশের বাইরে আওয়ামী লীগ সম্পর্কিত কয়েকটি খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জায়গা করে নিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের নির্বাহী আদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও তৎপরতা থামানো যায়নি। এদিকে এক বছর পর শেখ হাসিনা দলটির ছয় গুরুত্বপূর্ণ নেতার সঙ্গে দিল্লিতে মুখোমুখি বৈঠক করেছেন। সেখানে তিনি বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। এই খবর সামনে আসতেই আরেকটি খবর সামনে এসেছে। রাজধানী ঢাকাতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা গোপনে বৈঠক করেছে। সেই বৈঠক থেকে ২২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এমনকি গেরিলা প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বলে খবর উঠে এসেছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে একজন মেজরকে আটক করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।
গত বছর ৫ই অগাষ্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটেছে। তারপরই বহু নেতা দেশ ছাড়া হয়েছেন। এমনকি কারাবন্দি হয়েছেন অনেকে। এরমধ্যে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে। তবে অনলাইনে অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে উঠেছে শেখ হাসিনার দল। এমনকি বিভিন্ন সময় অডিও বার্তা দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এই নিয়ে বহুবার চিঠি দেওয়া হয়েছে নয়া দিল্লিকে। কিন্তু আমলে নেয়নি ভারত সরকার। এদিকে দলটির ঝটিকা মিছিল দেখা গিয়েছে বেশ কয়েকবার। এরই মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ খবর সামনে এসেছে। শেখ হাসিনার সঙ্গে তার দলের ছয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। যে বৈঠকের খবর গণমাধ্যমে চাউর হয়। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, মোজাম্মেল হোসেন চৌধুরী মায়াবীর বিক্রম, জাহাঙ্গীর কোবির নানক, বাহাউতের নাসিম, সুজিত রায় নন্দী, কামাল হোসেন ছাড়াও আরও কয়েকজন। এর আগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেয়েছিলেন। খবর রয়েছে, ওই বৈঠকে বেশ কিছু নির্দেশনা পেয়েছেন তারা। এমনকি সাংগঠনিক দক্ষতা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে কিছু কর্মসূচি হাতে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে গোপালগঞ্জের হত্যাকাণ্ড এবং মানবধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা। যেগুলি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তুলে ধরার জন্য আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতির চিত্র নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে, সেটি প্রচারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ৩০ শে জুলাই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইট ওয়াচের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ক্ষমতায় বসার এক বছরেও মানবাধিকার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয়েছে, অন্তর্বর্তী কালীন সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনে গ্রেফতার করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা নিয়েও লেখা হয়েছে। এছাড়াও গোপালগঞ্জের ঘটনা। এমনকি রংপুরে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া। এমনকি প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৬ ই আগস্ট থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯২ হাজার ৪৮ টি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। যার বেশিরভাগ হত্যার অভিযোগ। এমন কি জানা যাচ্ছে, শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে জাতিসংঘের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম বিষয় তুলে ধরার বৈঠক হয়েছে।
এর মধ্যে আরও একটি খবর উঠে এসেছে। রাজধানী ঢাকার কনভেনশন হলে গেরিলা প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে আওয়ামী লীগ বিভিন্ন নেতাকর্মীদের। এছাড়া ওই বৈঠকে যুক্ত ছিলেন মেজর সাদিক নামে এক সেনা সদস্য। ফলে তাকেও আটক করা হয়েছে। এছাড়াও পহেলা আগস্ট পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে, ভাটারা থানায় পুলিশ ১৩ই জুলাই এই নিয়ে মামলা দায়ের করেছে। সেখানে বলা হয়, গত ৮ই জুলাই বসুন্ধরা এলাকায় কনভেনশন হলে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ বৈঠক করে। এই ঘটনায় খবর পেয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে যুবলীগ নেতা সোহেল রানা এবং আওয়ামী লীগ নেত্রী শামামা নাসরিন কে গ্রেফতার করা হয়।
প্রশ্ন উঠছে, একটি কনভেনশন হলে কি করে গেরিলা প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়? যে সমস্ত অস্ত্রের প্রয়োজন এক্ষেত্রে, সেই অস্ত্র গুলি কোথায়? এতদিন পর কেন সামনে আনা হল ঘটনাগুলি? এর পাশাপাশি জানানো, আগামী কয়েক দিন দেশে বড় কিছু ঘটতে পারে। সেই কারণেই বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি সরকার অন্য কিছু থেকে নজর ঘোরানোর জন্য এগুলোকে উত্থাপন করছে? বিশেষ করে যখন চাঁদাবাজির কারণে ছাত্র সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে আসছে, তখনই এই ঘটনাগুলো সামনে নিয়ে আসা হচ্ছে বলে দাবি অনেকের। তবে বাংলাদেশের মানুষ বোকা নয়। তারা বোঝে কোন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কোন ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। এখন দেখার, আসলে শেষমেশ কি হয়।












Discussion about this post