শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রর সম্পর্ক একেবারেই ভাল নয়। মহুয়া মৈত্রের করা শুয়োর মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগে তিনি পরিষ্কার বলেছিলেন, তিনি মহুয়া মৈত্রকে পছন্দ করেন না। এবার মহুয়ার ওপর ক্ষুব্ধ হয়েই কি তৃণমূলের মুখ্য সচেতক বা চিফ হুইপের পদ থেকে পদত্যাগ করলেন গুঞ্জ? তবে ইস্তফা দিয়েই থেমে থাকেননি, বিস্ফোরক কয়েকটি মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে কল্যাণ জানান, এবার থেকে লোকসভায় তিনি পিছনের বেঞ্চে বসতে চান। এমনকি তিনি বলেন, এবার দিদি সামলান। অনেকে বলছে, এই তিনটি শব্দের মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে তার দলের প্রতি দীর্ঘদিনের ক্ষোভ।
অন্যদিকে লোকসভাতে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে দলনেতা করা হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সেটা নিয়েও মন্তব্য করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, এতে তার কোনও সমস্যা নেই। তবে তার ইস্তফা দেওয়াতে অনেক প্রশ্নের উত্থাপন হচ্ছে। এদিকে জানা যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করে আরও কয়েকদিন চিফ হুইপের পদে থেকে কাজ করার কথা অনুরোধ করেন। টুইট করে কল্যাণ জানান, সম্প্রতি একটি পাবলিক পডকাস্ট এ মিসেস মহুয়া মৈত্রের করা ব্যক্তিগত মন্তব্য আমি লক্ষ্য করেছি। তার শব্দ নির্বাচন, যার মধ্যে একজন সহকর্মী সাংসদকে শুয়োরের সঙ্গে তুলনা করার মত অমানবিক ভাষা ব্যবহার করেন। সেটা শুধু দুর্ভাগ্যজনক নয়, বরং নাগরিকের মৌলিক নিয়মের প্রতি গভীর অবজ্ঞার প্রতিফলন। তিনি বলেন, এই ধরনের ভাষা একজন মহিলার দ্বারা পরিচালিত করা হলে, দেশব্যাপী ক্ষোভের সঞ্চার হবে ঠিকই, কিন্তু যখন একজন পুরুষ লক্ষ্য হন, তখন সেটা খারিজ করা হয়। অথবা প্রশংসা করা হয়। তিনি আরও বলেন। তিনি বলেন, এই ভাষা কেবল অশ্লীল নয়, এটি একটি বিষাক্ত দৈত্য মানকে আরও শক্তিশালী করে, যেখানে পুরুষদের কাছ থেকে নীরবে এমন কিছু শত্রু করার আশা করা হয়, যা ভূমিকা বিপরীত হলে, কখনোই সহ্য করা হবে না। যদি মিসেস মৈত্র মনে করেন, যে অপমানজনক মন্তব্য নিজের ব্যর্থতাকে ঢেকে দেবে বা নিজের রেকর্ড সম্পর্কে গুরুতর প্রশ্নগুলি থেকে মনযোগ সরিয়ে দেবে, তাহলে তিনি নিজেকে প্রতারিত করছেন। যারা উত্তরের পরিবর্তে নির্যাতনের উপর নির্ভর করে, তারা গনতন্ত্রের চ্যাম্পিয়ন নন। তারা এর লজ্জা এবং এই দেশের মানুষ এই ঘটনাটি বুঝতে পারেন। এমন মন্তব্য করেন কল্যাণ।
এদিকে শুরু থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দলের একনিষ্ঠ সৈনিক বলে উল্লেখ করেছেন। শুধু তাই নয়, দলের হয়ে একাধিক মামলায় লড়েছেন তিনি। একাধিক বিষয় সামলাতে হবে বলে মন্ত্রী হতে চাননি। সাংসদ হয়েই থেকে গিয়েছেন। তবে সাংসদ মহুয়া মৈত্রের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে নানা সময় রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ফের নতুন করে এই ইস্যুতে চর্চা শুরু হয়। আসলে, সম্প্রতি একটি প্রশ্নের উত্তরে মহুয়া মৈত্র বলেন, শুয়োরের সঙ্গে কুস্তিতে নামব না। আর তা থেকে শুরু হয় নতুন করে আলোচনা। তবে কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিফ হুইপের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়াতে এই জল্পনা এবং মহুয়া মৈত্রের সঙ্গে সম্পর্কের প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।












Discussion about this post