সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। আর তার আগে তৃণমূলে নতুন করে নবীন বনাম প্রবীনের দ্বন্দ্ব। তবে এবার অন্য আঙ্গিকে। এবার তৃণমূল নেত্রী নিজেই দলের ব্যাটন তাঁর ভাইপো অভিষেকের হাতে তুলে দিয়েছেন। তাঁকে লোকসভার দলনেতা করেছেন তিনি। আর তাতেই ক্ষুব্ধ বর্ষীয়ান সাংসদ ছাড়লেন চিপ হুইপের পদ। এই কোন্দল কি ক্রমেই বাড়বে?
তৃণমূল কংগ্রেসে শ্রীরামপুরের সাংসদ ছাড়াও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আরেকটি পরিচয় হল, তিনি একজন দুঁদে আইনজীবী। রাজ্য সরকারের হয়ে একাধিক মামলা লড়েন। এহেন কল্যাণকে কি শেষমেশ প্রায় ছেঁটেই ফেলল তৃণমূল? অন্তত বিগত ৪৮ ঘণ্টার ঘটনাপ্রবাহ দেখলে তেমনটাই মনে হতে পারে। আর কল্যাণও ফেসবুকে আবেগঘণ পোস্ট দিয়ে সেটাই বোঝাতে চাইছেন। সোমবার তৃণমূলের সাংসদদের নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠকের ঠিক পরেই দলনেত্রীকে চিফ হুইপ পদে ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বলা ভালো ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দু’টি বৈঠক হয়েছে তৃণমূলের। প্রথম বৈঠকে শ্রীরামপুরের সাংসদ সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। দ্বিতীয় বৈঠকে তাঁকে দেখাই গেল না। আর দুই বৈঠকের মাঝে গৃহীত হয়ে গেল মুখ্য সচেতক পদ থেকে তাঁর ইস্তফা। আসলে রাজনীতিতে উত্থান যেমন ভীষণ ঠুনকো, তেমনই পতনও। বিগত বছরগুলিতে দেখা গিয়েছিল, যথন তৃণমূল কংগ্রেসের খারাপ সময় এসেছে, তখন এই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে মোকাবিলা করেছেন। আবার এমনটাও হয়েছে, তিনি মুখ খুলে দলকে প্রায় ডোবাতে বসেছিলেন। অর্থাৎ বিতর্ক তাঁর নিত্যসঙ্গী। আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঠারেঠোরে বোঝাতে চাইলেন, তুমি যতই গুরুত্বপূর্ণ মামলা লড়ো, লোকসভায় ভাল ভাষণ দাও, তুমি কেউকেটা নও। তোমাকে ছাড়াও সংসদে তৃণমূলের অবস্থান ও কার্যকলাপ ঠিক থাকবে। যদিও তাঁর ইস্তফাপত্র গৃহীত হওয়ার পরও দলনেত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি এক্স হ্যন্ডলে একটি পোস্ট করেন।
তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভার দলনেতা হিসেবে দীর্ঘকাল ধরেই কাজ চালিয়ে আসছিলেন উত্তর কলকাতার সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি তাঁকে সরিয়ে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সেই দায়িত্ব দিয়েছিলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এটা তৃণমূলের আভ্যন্তরীণ একটি সমস্যা। গত লোকসভা নির্বাচনের আগেই তৃণমূলের অন্দরে নবীন বনাম প্রবীনের একটা দ্বন্দ্ব ছিল। এবার বিধানসভা নির্বাচনের আগেই সেটা প্রকট হচ্ছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যে ধীরে ধীরে দলের ব্যাটন নিজের হাতে নিচ্ছেন সেটা তৃণমূলের অনেক প্রবীন নেতাই বুঝতে পারছেন। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো দীর্ঘদিনের সাংসদদের বাদ দিয়ে অভিষেককে লোকসভার দলনেতা করাটা সেই ভুল। কিন্তু দলনেত্রী সেটাই করলেন। ওয়াকিবহাল মহল বলছেন, এটা শুরু, এখনও অনেক খেলা বাকি। এবার তৃণমূলে ফুটবে অভিষেক ফুল।












Discussion about this post