বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী মহলেও এবার জুলাই আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বিতৃষ্ণা সৃষ্টি হতে শুরু করেছে। যে বুদ্ধিজীবীরা গত বছর জুলাই আন্দোলনে পথে নেমেছিলেন তথাকথিত ছাত্র-জনতার পাশে। তাঁদেরে মধ্যে অন্যতম জেড আই খান পান্না। যিনি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছিলেন, তেমনই বাংলাদেশের খ্যাতনামা আইনজীবীদের মধ্যে একজন। সেই বর্ষীয়ান আইনজীবীই এখন বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে পরিতাপ করছেন। বাংলাদেশের এক বিশিষ্ট সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্নার ইউটিউব চ্যানেলে সম্প্রতি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন জেড আই খান পান্না। সেখানেই তাঁর অনুতাপ, হাসিনা সরকার যেমন ভুল ছিল, তেমনই তাঁর মতো বাংলাদেশের জনগণেরও ভুল হয়েছে। আজ মুহাম্মদ ইউনূসের তুঘলকি কাণ্ডের জেরে কার্যত বিপুল ঋণের বোঝা চেপে গিয়েছে বাংলাদেশের জনগণের মাথায়। কিন্তু বাংলাদেশ চেয়েছিল ঋণের বোঝা কমাতে। পরবর্তী সরকার যেই আসুক না কেন, তাঁকে অনেক লড়াই করতে হবে পরিস্থিতি পাল্টাতে। তবে বাংলাদেশের বিশিষ্ট আইনজীবী মনে করেন, “চক্রান্তকারীরা দীর্ঘস্থায়ীভাবে থাকতে পারে না”।
বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পূর্ণ হল। আর তা মহাধুমধামের সঙ্গে পালন করল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী মহল বলছেন, এটা করার প্রয়োজন ছিল না। কারণ, বিগত এক বছরে বাংলাদেশের বিশেষ কোনও উন্নতি করতে পারেনি বাংলাদেশ। উল্টে বিদেশী ঋণের জালে হাঁসফাঁস করছে দেশের জনগণ। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মজে আছে গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি ও জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা নিয়ে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে
মঙ্গলবার জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠের কয়েক ঘণ্টা আগে বাংলাদেশের সনামধন্য অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বীর প্রতীক এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা তথা বিশিষ্ট আইনজীবী জেড আই খান পান্নার মতো বেশ কয়েকজন বিশিষ্টজন “মঞ্চ ৭১” নামে একটি সংগঠন গড়ে তুলেছেন। আর তাঁরাই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, জুলাই ঘোষণা পত্রে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে কোনওভাবে খাটো করার চেষ্টা তাঁরা বরদাস্ত করবেন না। প্রয়োজনে জীবন বাজি রেখে পথে নামবেন। দেশবাসীর প্রতি সংগঠনটি মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে ৫ দফা দাবিও উপস্থাপন করেছে।
মঞ্চ ‘৭১-এর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধ শুধু ভূখণ্ড, পতাকা বা জাতীয় সঙ্গীতের নাম নয়। এটি বাঙালি জাতির আত্মমর্যাদার প্রতীক। হাজার বছরের স্বপ্ন ও আত্মত্যাগের ফসল। অথচ আজ আমরা গভীর বেদনা ও ক্ষোভ নিয়ে দেখছি, সেই ইতিহাস মুছে ফেলার একটি গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। অগস্ট অভ্যুত্থানের পর ঘোষিত কথিত ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ এবং বিভিন্ন বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে অবমাননা ও বিকৃত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এই সংগঠনের পাঁচ দফা দাবির অন্যতম হল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনা বাদ দিয়ে তথাকথিত নতুন সংবিধান প্রণয়নের যে চেষ্টা চলছে, তা বাঙালি জাতি কখনও মেনে নেবে না। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ বা শেখ হাসিনার পক্ষ না নিয়েই তাঁদের বক্তব্য, কোনও রাজনৈতিক দলের ব্যর্থতার দায়ে সকল মুক্তিযোদ্ধাকে দায়ী করা যাবে না। আবার বর্তমান ছাত্রনেতা ও সহযোগী সংগঠনগুলির প্রতিও তাঁদের বার্তা, যারা মুক্তিযুদ্ধবিরোধী বক্তব্য দিচ্ছে, ইতিহাস বিকৃত করছে, মুক্তিযোদ্ধাদের হেয় করছে—তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা ও বিচার করতে হবে। বোঝাই যাচ্ছে, জুলাই ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধান পরিবর্তনের সামান্য চেষ্টা হলেও ফুঁসে উঠবেন সে দেশের বুদ্ধিজীবী মহলের একটা বড় অংশ। এমনিতেই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার প্রচেষ্টা, মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা, বঙ্গবন্ধুকে অপমান করা, ৩২ নম্বর ধানমন্ডি ফেঙে দেওয়া এবং বর্তমান সংবিধানকে কবর দেওয়ার ডাক দেওয়া বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ খুব একটা পছ্ন্দ করছে না। এর ওপর মব জাস্টিটের নামে বাংলাদেশে যে ক্রমাগত অরাজকতা সৃষ্টি, ভয় দেখানোর প্রচেষ্টা চলছে, তাতেও তিতিবিরক্ত সাধারণ মানুষ। তাই আজ এনসিপি বা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে আর হাজার হাজার মানুষ বা পড়ুয়া অংশগ্রহন করছেন না। কেউ কেউ বলছেন, মীরজাফররা একবারই সফল হন, কিন্তু দ্রুতই তাঁদের পতন হয়। এটাই দেওয়াল লিখন।












Discussion about this post