বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি এক কথায় বর্ণনা করতে গেলে রবীন্দ্রনাথের এই গানের লাইনটি বিকল্প আর কিছু হতে পারে না। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হাসিনার দল যাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পারে, তার জন্য চেষ্টার ত্রুটি রাখেনি তদারকি সরকার এবং তার সর্বময় কর্তা মহম্মদ ইউনূস। আওয়ামী লীগের মিটিং মিছিল, জনসভার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে তদারকি সরকার। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ তেড়ে ফুঁড়ে উঠেছে। ঠিক যেভাবে একজনের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেল বাঁচার জন্য মরণকামড় দেয়, আওয়ামী লীগও মরণকামড় দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। তার হাতে গরম প্রমাণও মিলেছে। গত ৫ সেপ্টেম্বর তেজগাওঁয়ের নোবিস্ক কারখানার সামনে তারা একটি বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করে। শুরু হয় দুপুর ২টো থেকে। বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন কয়েক আওয়ামী লীগের কয়েক হাজার কর্মী সমর্থক। পুলিশ প্রথম দিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি রোখার চেষ্টা চালায়। কিন্তু পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে আন্দাজ করে ইউনুসের পুলিশ সে ভাবে সক্রিয়তা দেখায়নি।
দলের এক নেতা বলেন, ‘ঘরে বসে থাকলে আমাদের আর ঘুরে দাঁড়াবার সুযোগ থাকবে না। একটা বেআইনি সরকার দলনেত্রী হাসিনা, দলের অন্য নেতাকর্মীদের হেনস্থা করছে। তার প্রতিবাদেই আমরা এই বিক্ষোক্ষ কর্মসূচির ডাক দিয়েছি।’ প্রতিবাদ বিক্ষোভের কর্মসূচির খবর এসেছে ধানমন্ডী থেকেও। চলতি মাসের গোড়ার দিকে এই ধানমন্ডীতে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেয় আওয়ামী লীগ। বিক্ষোভ কর্মসূচি হয়েছিল গুলিস্তানে।
কে বা কারা গুজব রটিয়ে দেয়, যে আওয়ামী লিগ মাঠে বা রাস্তায় নামলে সাধারণ মানুষ তাদের পিটিয়ে ছাতু করে দেবে। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা গেল ঠিক উলটো ছবি। আওয়ামী লিগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে হাত হাত মিলিয়ে মিছিল হাঁটল সাধারণ মানুষ। প্রশ্ন উঠছে, আওয়ামী লীগের নেতারা কী করে এতটা ঝুঁকি নিচ্ছেন। গত সপ্তাহে জুম্মার নমাজের পর রাজপথে নেমেছিলেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।
এদিকে, রাজধানীতে ঝটিকা মিছিল সহ নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য সাদ্দাম হোসেন (পাভেল) এবং দলের আরও সাত নেতাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ এদের গ্রেপ্তার করে।
প্রশ্ন উঠছে, অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান ড. মহম্মদ ইউনূস কি এটা বুঝতে পেরেছেন, যে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেও তাদের ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। দলের নেতাকর্মীদের জেলে ঢোকালেও কোনও লাভ হবে না। নেতাকর্মীদের সমর্থক খোঁজার দরকার পড়ছে। ইউনূস আসলে আওয়ামী লীগকে বুঝতে ভুল করেছেন। অথচ আওয়ামী লীগ বা তাদের অঙ্গ সংগঠনের এমন একজনও নেতাকে খুঁজে পাওয়া যাবে না, যার বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তী সরকারের পুলিশ হত্যা মামলা রুজু করেনি। তারপরেও কিন্তু তাদের দমিয়ে রাখা যাচ্ছে না। আরও একটা ভুল করছেন ইউনূস। সেটা হল তিনি গুনতে ভুল করেছেন। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর সংখ্যা, সেটা তিনি জানেন না। তাই, নেতা কর্মীদের গ্রেফতার করে, তাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা রুজু করেও পুলিশ কিছু করতে পারছে না। বাংলাদেশের আকাশ বাতাসে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে মুজিবের সেই বিখ্যাত স্লোগান – … দাবায়ে রাখতে পারবা না। বাঙ্গালী মরতে শিখেছে। তাদের কেউ দাবাতে পারবে না। রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেব।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post