নন্দীগ্রামের মতোই এই রাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন হল ভাঙড়। কারণ গত বিধানসভা নির্বাচনে এই একটি মাত্র আসন পেয়েছিল বাম-কংগ্রেস-আইএসএফ জোট। বছর ঘুরলেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। ফলে ভাঙড়ের জমি দখলে রাখতে মরিয়া আইএসএফ। অপরদিকে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস চাইছে ভাঙড়ে নিজেদের কর্তৃত্ব ফিরিয়ে আনতে। গত বিধানসভা ভোটে ভাঙড় থেকে জয়ী হয়েছিলেন আইএসএফ প্রার্থী নওশাদ সিদ্দিকী। তিনি ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা। সম্প্রতি ফুরফুরা শরিফের আরেক পীরজাদা কাশেম সিদ্দিকি তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। এর ফলে ভাঙ্গড়ের রাজনৈতিক পরিবেশে অনেকটাই বদল এসেছে। এমতবস্থায় আইএসএফ এবং তৃণমূল পরস্পরের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক মনোভাব নিয়েই লড়াইয়ে নেমেছে।
একদিকে আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকী এবং অন্যদিকে তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লা। রাজনৈতিক ময়দান থেকে সামাজিক মাধ্যম, কোনও জায়গাতেই একে অপরকে আক্রমণ করতে ছাড়ছেন না তাঁরা।
বুধবার শওকত মোল্লার বিরুদ্ধে ব্যাঙ্কশাল কোর্টে মানহানির মামলা করতে আদালতে হাজির হয়েছিলেন নওশাদ সিদ্দিকী। মামলা দায়ের করার পর আদালত থেকে বেরিয়ে বিস্ফোরক দাবি করেন ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ‘‘আমাকে সবসময়ই বলা হচ্ছে যে ,তৃণমুল থেকে চলে আসুন৷ এখন নতুন একটা ট্রেন্ড শুরু করেছে, আপনার আসনটা বাঁচিয়ে রাখতে হবে৷ আপনি দিদির সঙ্গে একটু যোগাযোগ করুন৷’’
অপরদিকে প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীকে জঙ্গি বলে কটাক্ষ করেছিলেন ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা। এরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় শওকতের সেই বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় রাজনৈতিক তরজা।
এরও জবাব দিয়েছেন নওশাদ। এ প্রসঙ্গে তিনি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কথা টেনে আনেন।
প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে জঙ্গি বলায় অপমানিত বোধ করে বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী ব্যাঙ্কশাল কোর্টে মামলা করছেন বলে দাবি। এ বিষয়ে নওশাদ সিদ্দিকী বলেন, “আমি কোর্টের কাছ থেকে জানতে চাইছি। এভাবে প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে আমার বিরুদ্ধে যে কুরুচিকর মন্তব্য করছেন তাতে আমি যথেষ্ট অপমানিত।”
এখানেই থেমে থাকেনি তরজা। পীরজাদা নওশাদ আরও বলেন, “শওকত মোল্লা তাঁর বক্তব্যে এক জায়গায় বলেছেন, আমি নাকি বিজেপির কাছ থেকে ৩০ কোটি টাকা নিয়েছি। এই বিষয়ে আমার নামে মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছেন। তাতে সামাজিক মাধ্যমে আমার সম্মানহানি ঘটেছে। আইনের মাধ্যমে শওকত সাহেবের কাছ থেকে জানতে চাইছি। কবে কোথায় টাকা নিয়েছি, ৫০০ টাকার নোট নাকি ১০০০ টাকার নোট নিয়েছি, কার মাধ্যমে নিয়েছি, কোর্ট কেসে জানান।” তিনি জানিয়েছেন, ক্রিমিন্যাল সাইট থেকে মামলা করেছেন। শওকত মোল্লাকে জবাব দিতে হবে। তিনি বলেন যে যা খুশি বলে বেরিয়ে যাবেন, তা তো হতে পারে না। আমাকে ১৯টা মিথ্যে কেস দিয়েছে।
সেটা মাথায় নিয়ে লড়াই চালাচ্ছি। অফার দিয়ে যখন আমাকে আটকাতে পারছে না, সামাজিকভাবে আমার মানসম্মান খারাপ করতে চাইছে। আমি স্বচ্ছ আছি, আত্মবিশ্বাস আছে, আইনের মাধ্যমে জবাব চাইছি।” এদিন নওশাদ এও জানান যে, তিনি তৃণমূলের কাছে মাথা নত করবেন না। তিনি ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে লড়াই করবেন। সবমিলিয়ে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের অনেকটা আগে থেকেই ভাঙড়ের লড়াই জমে উঠেছে।












Discussion about this post