যুগের পর যুগ ধরে আমেরিকা ডলারকে হাতিয়ারের মত ব্যবহার করে আসছিল, কিন্তু আজ ভারত সেই হাতিয়ার কেড়ে নিল। রুশ তো ভারতের সঙ্গে ছিলই, চিনও ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে। সেই সঙ্গে দক্ষিন আফ্রিকা সহ বাকি ব্রিকস-এর দেশগুলি ভারতের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। শুধু তাই নয় ইউরোপের কিছু দেশও ভারতীয় মুদ্রায় লেন দেন করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। এতদিন ডলারকে গোটা বিশ্বের লাইফ লাইন বলা হত। আর আজ সেই ডলারের জায়গা নিতে চলেছে ভারতীয় মুদ্রা। এর পর হয়তো দুবাইয়ে গিয়ে ভারতীয় মুদ্রায় পেমেন্ট করতে চাইবে সবাই। আফ্রিকা বলবে ডলার নয় রুপিয়া চায়। এমনকি ইউরোপের কোম্পানিগুলিও বিলে লিখবে পেমেন্ট ইন ইন্ডিয়ান রুপি ওনলি। এই পর্যন্ত শুনে আপনি অবাক হচ্ছেন, ভাবছেন এমন হবে নাকি। তাহলে বলি এমন হবে নয়, এমনটাই হচ্ছে। যে কারণে আমেরিকার মিডিয়াগুলি উত্তাল হয়ে উঠেছে। তারা বলছে ভারত নিশ্বব্দে আমেরিকান ডলারের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করে দিয়েছে। আমেরিকার সব থেকে বড় মিডিয়াতে বলা হচ্ছে। ভারত বিশ্বের অর্থনীতিকেই বদলে দিয়েছে। আর হোয়াইট হাউসে প্রতিদিন জরুরি মিটিং হচ্ছে। কিন্তু ভারত নিশব্দে তার পথে এগিয়ে চলেছে। ভারত আর এক নতুন স্বাধীনতার স্বাদ পেতে চলেছে।যখন ব্রিকস শুরু হয়েছিল,তখন থেকেই আমেরিকা সন্দেহের চোখে দেখতে শুরু করেছিল ব্রিকসকে। কিন্তু ব্রিকস থেকে বলা হয়েছিল আমরা এই সংগঠনটি তৈরী করছি বিশ্ব বানিজ্যকে বিস্তার ঘটানোর জন্য। আমেরিকা বুঝল বিশ্ব বানিজ্য বেড়ে ওঠা মানেই ডলারের শ্রীবৃদ্ধি। আর ডলারের শ্রীবৃদ্ধি মানেই আমেরিকার শক্তি বৃদ্ধি। এবার একটা জেনে নেওয়া যাক ডলার কিভাবে আমেরিকাকে বিশ্ব শক্তিতে এক নম্বরে করে রেখেছে। এর শুরুটা হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আমেরিকা তখন একমাত্র পরমাণুশক্তি ধর দেশ।
আমেরিকা বিশ্বের সব দেশগুলি সোনা নিয়ে রেখে তার পরিবর্তে বন্ড দিত। সেই বন্ড এক দেশ থেকে অন্য দেশে বানিজ্যের জন্য প্রয়োজন হত। কারণ আমেরিকার ঐ বন্ড গোটা বিশ্বে অর্থের মানদন্ড হিসাবে কাজ করত।তো দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর আমেরিকা বলল কোন দেশকে সোনা ফেরত দেওয়া হবে না। তোমরা বন্ড নিয়ে তোমাদের কাজ চালিয়ে নিয়ে যাও। তখন কোন দেশই তার প্রতিবাদ করতে পারেনি। কারণ তারা দেখল আমেরিকার কাছে পরমাণু বোমা আছে,এই শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে গেলে দেশও যাবে সোনাও যাবে।সেই বন্ডই আজ ডলার। যাকে আমেরিকা হাতিয়ারের মত করে ব্যবহার করেছে। যেমন কোন দেশ অন্য কোন দেশ থেকে কিছু ক্রয় বা বিক্রয় করলে ডলারে করতে হয়, এর ফলে অন্য দেশের সোনা যেমন আমেরিকার কাছে জমা রাখতে হয়, তেমন দুই দেশের বিনিময়ের মাধ্যম হিসাবে কাজ করার ফলে, দুই দেশ থেকেই শুধু ডলার লেন দেনের জন্যই অনেক বেশী মুনাফা লাভ করে আমেরিকা। ভারত যার ক্ষমতা কেড়ে নিতে চলেছে। আমেরিকা এখন থেকেই সেই দিনটির জন্য ভয় পাছে, যে দিন ব্রিকস মুদ্রার প্রচলোন শুরু হয়ে যাবে। আর কোন দেশ ডলার নিতে আগ্রহী হবে না। চিন এবং রাশিয়া যখন তাদের নিজেদের মুদ্রায় ব্যবসা করতে চেয়ে আমেরিকার ডলারের বিরোধীতা করেছিল, তখন আমেরিকা ততটা ভয় পায়নি, কারণ আমেরিকা মনে করে এই দুটি দেশে কোন গনতন্ত্র নেই, তাই অন্য কোন দেশ এই দেশগুলির মুদ্রাকে ততটা প্রাধান্য দেবে না। কিন্তু ভারত হল বিশ্বের বৃহত্তম গনতন্ত্র, যে কারণে সারা বিশ্ব ভারতের মুদ্রাকে বিশ্বাস করে।
আর সেই ভারতকে যখন ট্রারিফের হুমকি দিয়ে দাবিয়ে রাখতে চেয়েছিল, তখন ভারত তার বিকল্প রাস্তাই শুধু বার করে নেয়নি। উল্টে আমেরিকাকে পচ্ছন্ন হুমকি দিতে শুরু করেছে। এক তো আমেরিকার সঙ্গে ৫০ শতাংশ ব্যবসা কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং ভারত তার নিজের মুদ্রায় ব্যবসা করবে, সে যে কোন দেশের সঙ্গে, এবং সেই দেশের তালিকা থেকে আমেরিকাও বাদ নয়। ফলে ভারতকে ট্রারিফের ভয় দেখিয়ে চিন রাশিয়া থেকে দুরে সরাতে গিয়ে ফল এতটাই বিপরীত হল যে এখন আমেরিকার ডলার তার ধ্বংসের শেষ পর্যায়ে হাজির। ইতিমধ্যে ভারত তার নিজস্ব মু্দ্রায় ব্যবসা শুরু করে দিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে। যেখানে ইউরোপের বহু দেশও ভারতের মুদ্রাকে স্বাগত জানিয়েছে। এবার অপেক্ষা ২০২৯শে ব্রিকস মুদ্রার প্রচলনের।












Discussion about this post