বাংলাদেশে অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় পালাবদল ঘটেছে। পালাবদল ঘটেছে নেপালেও। বাংলাদেশে পালাবদল পূর্ণ করেছে এক বছর। নেপাল সে দিক থেকে অনেক পিছিয়ে। কিন্তু একটা বিষয় তারা বাংলাদেশকে চরম লজ্জার মধ্যে ফেলে দিল। সে দেশের অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়ে দিয়েছে, কবে নেপালে সাধারণ নির্বাচন? আর ইউনূস বলছে ভোট ফেব্রুয়ারিতে। তিনি ঘোষণাও করে দিয়েছেন। আবার সেনাবাহিনী চাইছে ভোট এগিয়ে নিয়ে আসতে। বাংলাদেশের তদারকি সরকার এবং তাঁর প্রধান পড়েছে মহাফ্যাসাদে।
এমনিতেই বাহিনীর সঙ্গে তার এখন তেমন ভাব-ভালোবাসা নেই। এখন বাহিনীর বিরুদ্ধে কথা বললে বাহিনী তাদের বন্দুকের নল তাঁর দিকে ঘুরিয়ে দেবে। তাতে ইউনূসের বিপদ আরও বাড়বে। আগে স্বপ্ন ছিল দেশ শাসন করার। এখন ক্ষমতার প্রতি মায়া শেষ হয়ে গিয়েছে। দেশের প্রতিও তার আর তেমন ভাব ভালোবাসা নেই। এখন মানে মানে কেটে পড়তে পারলে ভালো।
বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়েছিল সে দেশের তরুণ প্রজন্ম। নেপালের ক্ষেত্রেও তাই। অশান্ত বাংলাদেশকে শান্ত করার দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছিল মহম্মদ ইউনূসের কাঁধে। কিন্তু তিনি সব দিক থেকে ব্যর্থ। এমনকী যে আমেরিকা একসময় তাঁর মিত্র ছিল, সেই আমেরিকাও এখন ইউনূসের কাজকর্মে তিতিবিরক্ত। অথচ নেপালের তরুণ প্রজন্ম দেশ শাসনের ভার তুলে দিয়েছিলেন সে দেশের সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কুর্কির হাতে। তিনি ক্ষমতায় আসীন হয়ে জানিয়ে দেন, নেপালে সাধারণ নির্বাচনের দিন তারিখ। সরকার চালাতে গেলে দরকার মন্ত্রিসভা। তিনি কাজ চালানোর মতো মন্ত্রিসভা তৈরি করেছেন।
ইউনূস সরকার বলছেন, তিনি ফেব্রুয়ারিতে ভোট করাতে বদ্ধপরিকর। সেনা চাইছে ভোট এগিয়ে আনতে। এও শোনা যাচ্ছে, দেশের অভ্যন্তরে একটি স্বার্থাণ্বেষী গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে, যারা নাকি ভোট বানচাল করে দিতে নীল নকশা তৈরি করেছে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যর্থ কেন? নানা কারণে ব্যর্থ। মূল কারণ বাংলাদেশ বাইরে থেকে বুদ্ধিজীবী নিয়ে এসে তাদের থেকে পরামর্শ নেওয়ার একটা রেওয়াজ তৈরি করে ফেলে। তারা যে এতোদিন সুবুদ্ধির বদলে কুবুদ্ধি দিয়েছেন, সেটা ইউনূস বুঝতে পারছেন। তবে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। ইউনূস সরকার এবং তার সঙ্গী সাথিরা চেয়েছিল বাংলাদেশবাসীকে মুক্তিযুদ্ধের প্রভাব থেকে মুক্তি করতে। আর সেটা করতে গিয়ে ইউনূস সরকার কার্যত বাংলাদেশকে আরও অনিশ্চয়তায় ফেলে দিয়েছেন। এক সময় যারা ইউনূসের পাশে ছিলেন, এখন তারা আর তার পাশে নেই। তারাও চাইছেন ইউনূস মানে মানে করে কেটে পড়ুক। কারণ, যে আশা নিয়ে তারা ইউনূসকে ক্ষমতায় বসিয়েছিলেন, সেই আশা তো পূরণ হয়নি। উলটে তাদের ক্ষতি হয়েছে। একটু একটু করে জমি পুনরুদ্ধার করতে শুরু করেছে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ। আর হাসিনা দিল্লি থেকে তাদের মদত দিচ্ছেন। ফলে, হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরালে যে লাভ হবে বলে আশা করেছিলেন ইউনূসের শুভানুধ্যায়ীরা, তারা এখন দেখছে সব ভোঁ ভা। আসলে এমন একটা লোককে দেশ শাসনের দায়িত্ব তুলে দিয়েছিলেন, যে অংকে বেশ কাঁচা। একটি জটিল হিসেব করতে বসলেই ইউনূসের মাথা খারাপ হয়ে যায়। মাথা ঠিক রাখতে পারেন না। বিএনপি ক্ষমতায় এলেও তাদের কোনও লাভ নেই। সুতরাং, আম –ছালা দুটোই গেল। শুধু তাদের নয়, ইউনুসেরও। হিমালয়ের কোলে ছোট্ট একটি দেশ দেখিয়ে দিল, তারা পারে। এ লজ্জা একা ইউনূসের নয়, তার সঙ্গী সাথীদেরও।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post