বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন হটকেক নির্বাচন। সরকার জানিয়েছে, আগামী ফেব্রুয়ারিতে ভোট হচ্ছেই। এই ব্যাপারে কমিশনের যা যা করার, কমিশন সেটা করছে। তবুও সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা অনাস্থা, একটা সংশয় কাজ করছে। সেটা হল ভোট কী আদৌ ফেব্রুয়ারিতে হবে! আপাত দৃষ্টিতে প্রশ্নটা খুবই সাধারণ মনে হলেও একেবারেই সাধারণ নয়। প্রশ্নের মূল্য কয়েক কোটি টাকা। কেন তারা সংশয়ের মধ্যে রয়েছে? কেন সংশয়ে রয়েছেন, সে ব্যাপারে তারা কিন্তু কোনও যুক্তি তুলে ধরতে পারছে না।
আসলে বাংলাদেশে এমন কিছু ঘটনা ঘটছে, যা পরোক্ষাভাবে ভোট নিয়ে দেশবাসীর মধ্যে একটা সংশয়ের বাতাবরণ তৈরি করেছে। সেই সব ঘটনার দিকে একবার আলোকপাত করা যাক। জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন এবং খেলাফৎ মজলিস সহ বেশ কয়েকটি দল রাজপথে নেমেছে। তারা জুলাই সনদের বাস্তবায়ন সহ পাঁচ দফা দাবিতে অনড় রয়েছে। তারা তিনদিনের একটি কর্মসূচি নিয়েছে, শুরু বৃহস্পতিবার থেকে। ওই দিন তারা কয়েকটি জায়গায় বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করেছে। পরের দিন ১৯ সেপ্টেম্বর বিভাগীয় শহরগুলিতে তারা অবস্থান বিক্ষোভ দেখাবে। জেলা এবং উপজেলাতে একই কর্মসূচি ২০ সেপ্টেম্বর।
জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘সংস্কার এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে নির্বাচন করলে পুরনো স্বৈরাচারী ব্যবস্থাই ফিরে আসবে। তাই, আমরা বাস্তবায়নের দাবি নিয়ে যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়েছি।’
এদিকে জামায়াতের এই বিক্ষোভকর্মসূচিকে অন্য চোখে দেখছে বিএনপি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের এক নেতা জানিয়েছেন, ‘সংস্কার বা জুলাই সনদ নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে আলোচনা চলছে। কিন্তু আলোচনার টেবিল থেকে বিষয়টিক রাজপথে নামিয়ে আনা হচ্ছে। এই সব ঘটনা নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তার বাতাবরণ তৈরি করবে। ’ যদিও জামায়াত, খেলাফৎ মজলিস এবং ইসলামী আন্দোলনের নেতারা ওই সব বক্তব্য মানতে নারাজ। তাদের বক্তব্য, সংস্কার বা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা না হলে ভোটের পরে তার বাস্তবায়ন হবে কি না, তা নিয়ে ঘোর সন্দেহ রয়েছে।
গত জুলাইয়ে অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা শাসনের পতনের পর সংবিধান সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের দাবি সামনে আসে। অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের জন্য ১৪টি কমিশন গঠন করে। এই সব কমিশনের প্রস্তাব বা সুপারিশ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলিকে এক বিন্দুতে নিয়ে আসার জন্য তৈরি হয় আরও একটি কমিশন। সেইই জাতীয় ঐকমত্য কমিশন দলগুলির সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছে। সংস্কারের বিভিন্ন বিষয়ে তাদের একমত হওয়ার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু সংবিধান সংস্কারের মূল কিছু বিষয় এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে বিএনপি সহ তাদের মিত্রদলগুলি। অপরদিকে জামায়াত সহ ধর্মভিত্তিক দলগুলি বিপরতীমুখী অবস্থান নিয়েছে। ফলে ভোট নিয়ে তৈরি হয়েছে এক অনিশ্চয়তা। সেনাবাহিনীও কিন্তু ইউনূস সরকারকে ভোটে যাওয়ার জন্য বাইরে থেকে চাপ বাড়িয়ে চলেছে। চাপ বাড়িয়ে চলেছে আন্তর্জাতিক মহল।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস লন্ডন সফরের সময় গত ১৩ এপ্রিল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকের পর নির্বাচন নিয়ে যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরিস্থিতি এখন বদলে গিয়েছে। দলের সঙ্গে ইউনূসের শুরু হয়েছে ঠাণ্ডা লড়াই।
এদিকে, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গত দুই মাসে রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছে। বৈঠকের নিট ফল হাতে রইল পেন্সিল।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post