দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সে দেশের সেনাবাহিনী বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম হল, নামাজ বা অন্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সময় উচ্চস্বরে গান বাজানো যাবে না।
পুজোর সময় দিনে ৫বার মসজিদ লাগোয়া মণ্ডপগুলিতে মাইক বন্ধের রাখুন। এমন কথাই শোনা গেল পশ্চিমবঙ্গের আমডাঙা বিধানসভার তৃণমূল বিধায়ক রফিকুর রহমানের গলায়। কেন মাইক বন্ধ রাখতে হবে? তৃণমূল বিধায়কের যুক্তি, ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা সেই সময় প্রার্থনা করবেন।
এই দুই চিত্র কি বার্তা দিচ্ছে? বাংলাদেশের সংখ্যাগড়িষ্ঠ মুসলিম ধর্মাবলম্বী। শেখ হাসিনার বিদায়ের পর সে দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর চলছে অকথ্য অত্যাচার। এবারও দুর্গাপুজোর মুখে একাধিক ফতোয়া জারি করছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মুহাম্মদ ইউনূসের আমলে বাংলাদেশে যে ভাবে মৌলবাদী ইসলামিক সংগঠনগুলির বাড়বাড়ন্ত হয়েছে, তাতে সেখানে নমাজের সময় লাউড স্পিকারে গান বা মন্ত্রপাঠ বন্ধ রাখার নিদান খুব একটা আশ্চর্যের নয়। কিন্তু প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক দেশ ভারতবর্ষের একজন জনপ্রতিনিধি কীভাবে এমন নিদান দিতে পারেন? উঠছে প্রশ্ন।
বাংলাদেশের নবম পদাতিক ডিভিশনের অধীনস্থ সেনা ইউনিট জানিয়েছে, দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল কোনো ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেই সঙ্গে বেশ কয়েকটি নির্দেশিকাও তাঁরা জারি করেছে। এরমধ্যে অন্যতম হল, নামাজ বা অন্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সময় উচ্চস্বরে গান বাজানো যাবে না। যদিও বয়স্ক ও শিশুদের কথা উল্লেখ করে অত্যন্ত আন্তরিক এবং নম্রভাবে ওই সেনাকর্তা এই আবেদন জানিয়েছেন।
অপরদিকে, ব্যারাকপুর লোকসভার অন্তর্গত আমডাঙা বিধানসভার বিধায়ক রফিকুর রহমান দুর্গাপুজো উপলক্ষ্যে এক সভায় তিনি নির্দেশ দিলেন নমাজের সময়গুলিতে কোনও ভাবেই মাইক বাজানো যাবে না। কেন বাজানো যাবে না, সেটাও বলে দিয়েছেন তিনি।
রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী রফিকুরকে পশ্চিমবঙ্গের ইউনূস বলে তোপ দেগেছেন। তাঁর দাবি, দুর্গাপুজোয় কথন মাইক বাজবে, কখন মন্ত্রপাঠ হবে সেটা তিনি ঠিক করে দেবেন না। পঞ্জিকায় যা লেখা আছে সেটা মেনেই হবে।
বিরোধীরা দাবি করছেন, ভোট বৈতরণী পার করতে সংখ্যালঘু তোষণের নির্লজ্জ ভূমিকা নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। বারবার তাই এই রাজ্যে পুজোপাঠের জন্য নানান নির্দেশ জারি করে তৃণমূলের বিধায়ক-সাংসদরা। সম্প্রতি দক্ষিণ ২৪ পরগণার এক পুজো কমিটিকে অপারেশন সিঁদূর থিম করার জন্য হুমকির মুখে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই পুজো কমিটিকে মণ্ডপ খুলে নিতে বাধ্য করানো হয় বলেও অভিযোগ। এবার আমডাঙার তৃণমূল বিধায়কের মুখে শোনা গেল দিনে পাঁচবার ১০-১৫ মিনিটের জন্য মাইক বন্ধ রাখার কথা। কারণ, তখন সংখ্যালঘুরা নমাজ পড়বেন। বিজেপির প্রশ্ন, উল্টোটা কেন হয় না?












Discussion about this post