বিগত কয়েকমাসে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস ভারতের সেভেন সিস্টার্স বা উত্তর পূর্বে সাতটি রাজ্যকে নিয়ে লাগাতার হুমকি দিয়েছে। যা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে একটা চাঞ্চল্যও সৃষ্টি হয়েছিল। বাংলাদেশের মতো ছোট্ট একটা দেশের অনির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধান কোন সাহসে ভর করে ভারতের মতো শক্তিশালী দেশের সাতটি অঙ্গরাজ্য নিয়ে প্ররোচনামূলক হুমকি দেন, সেটা ভেবেই অনেকে অস্থির হয়েছিলেন। যদিও ভারত এই মন্তব্যগুলির সমালোচনা করলেও খুব বড় কোনও পদক্ষেপ নেয়নি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। কিন্তু দেখা গিয়েছে, ইউনূসের ওই মন্তব্যের পরই উত্তর-পূর্বের মণিপুরে নতুন করে অশান্তি শুরু হয়। গত ১৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাতীয় সড়ক-২-এ ধরে সড়কপথে ইম্ফল বিমানবন্দর থেকে চুরাচাঁদপুর জেলায় গিয়েছিলেন। তিনি যে প্রধান সড়ক ধরে যাতায়াত করেছিলেন, সেই রাস্তায় গত ১৯ সেপ্টেম্বর আসাম রাইফেলের একটি কনভয়ে প্রাণঘাতী হামলা হয়। তাতে অসম রাইফেলের দুই জওয়ান শহীদ হন। এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখেনি ভারতের নিরাপত্তা এজেন্সিগুলি। মণিপুরের ইম্ফল পশ্চিমের কামেং এলাকায় সশস্ত্র জঙ্গিদের উপস্থিতি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য পায় গোয়েন্দারা। এরপরই আভিযানে নামে মণিপুর পুলিশ, আসাম রাইফেলস এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর একটি যৌথ দল। বুধবার রাত ১টার দিকে একটি বিশেষ অভিযানে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে মণিপুর পুলিশ জানিয়েছে, অসম রাইফেলের ওপর হামলার মূল অভিযুক্ত নিষিদ্ধ মেইতেই বিদ্রোহী গোষ্ঠী পিপলস লিবারেশন আর্মির সদস্য খুন্দোংবাম ওজিত সিংকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ওই সংগঠনের আরও কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে, উদ্ধার হয়েছে বিপুল আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র। উল্লেখ্য, মায়ানমার থেকে পরিচালিত এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি ১৯৭৯ সাল থেকে নিষিদ্ধ এবং ভারত থেকে মণিপুরের বিচ্ছিন্নতার পক্ষে কাজ করে চলেছে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের দাবি, জামাত-উল মুজাহিদীন বাংলাদেশ বা জেএমবি একসময় বাংলাদেশের বাইরে ভারতে একটি বিপজ্জনক সন্ত্রাসী সংগঠন ছিল। যারা ভারতের জাতীয় স্বার্থের জন্য হুমকিস্বরূপ ছিল। তবে, শেখ হাসিনার শাসনকালে বিগত আট বছর ধরে এই সংগঠনের কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছিল। এই সময়কালে নিষিদ্ধ এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কোনও কার্যকলাপের লক্ষণ দেখা যায়নি। তবে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর বাংলাদেশে অনেক মৌলবাদী গোষ্ঠী আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে এবং এর ফলে জেএমবি-সহ বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী পুনরুজ্জীবিত হয়েছে। ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারগুলিকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে যে জেএমবি ব্যাপকভাবে পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে, এবং এটি উত্তর-পূর্ব এবং পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যগুলির জন্য সরাসরি ঝুঁকি তৈরি করছে। এর সঙ্গেই মুহাম্মদ ইউনূসের সেভেন সিস্টার্স নিয়ে হুমকির সরাসরি যোগ রয়েছে বলেও বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ দাবি করছেন। মণিুপরের মেইতেই বিদ্রোহী গোষ্ঠী পিপলস লিবারেশন আর্মির মাথা খুন্দোংবাম ওজিত সিংকে গ্রেফতারের পর তাঁকে জেরা করে গোয়েন্দারা নিশ্চিত হয়েছে তাঁদের অস্ত্রশস্ত্র জোগান আসছে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে। এর পিছনে কাজ করছে বাংলাদেশের জঙ্গি গোষ্ঠী জেএমবি।
জেএমবির পুনরুজ্জীবন ভারতের জন্য বিপজ্জনক, কারণ এই সংগঠন বিপুল সংখ্যক শরণার্থী এবং অবৈধভাবে অনুপ্রবেশকারীকে তাঁদের সৈনিক হিসেবে ব্যবহার করে। গোয়েন্দারা জেনেছে, আইএসআই এবং জামাত-ই-ইসলামির ইচ্ছানুযায়ী, এই গোষ্ঠীটি বর্তমানে বিপুল সংখ্যক অবৈধ অনুপ্রবেশে সহায়তা করছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্য বলছে, পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই এবং জামাত-ই-ইসলামির মদতে, এই জঙ্গি গোষ্ঠীটি বর্তমানে ভারতে বিপুল সংখ্যক অবৈধ অনুপ্রবেশে সহায়তা করছে।
মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হওয়ার পর জামায়তে ইসলামী তাঁদের ক্ষমতা হাতে পায়। জামাত নেতৃত্বের চাপে ইউনূস পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইকে বাংলাদেশে ঢোকার ছাড়পত্র দিয়ে দেন। তারপর থেকে বেশ কয়েকজন আইএসআই কর্মকর্তা বাংলাদেশ সফর করেছেন। বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর নেতাদের সাথে বৈঠক করেছে আইএসআই কর্তারা। আইএসআই চায় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলি এক হয়ে কাজ করুক এবং তাঁরা ভারতের বিরুদ্ধে নতুন করে ছায়া যুদ্ধ করুক। এই জেমএমবি বা আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের মতো আল কায়দা নিয়ন্ত্রিত জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি উত্তর পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যকে টার্গেট করেছে। কিন্তু সেই চেষ্টা প্রাথমিকভাবে ব্যর্থ করে দিল ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। আমরা জানি মণিপুর সীমা্ন্তে মিয়ানমারের বুকে বেশ কয়েকটি বিদ্ধংশী ড্রোন আক্রমণ হয়েছিল। তাতে বহু জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস হয়েছিল। এর পরের লক্ষ্য কী বাংলাদেশের জঙ্গিঘাঁটি?
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসন পেয়েছে। এটা নিঃসন্দেহে ভূমিধস জয়, তা নিয়ে কোনও মহলেই কোনও সন্দেহ নেই।...
Read more












Discussion about this post