দেশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে পারে এমন মেগাপ্রকল্পগুলি বন্ধ করে দিতে চাইছেন ইউনূস সাহেব। তিনি বিভিন্ন অজুহাত দেখালেও আসল কারণ এই প্রকল্পগুলি শুরু করেছিলেন শেখ হাসিনা। তাই এই প্রকল্পগুলি চালু থাকলে বা সম্পন্ন হয়ে গেলে শেখ হাসিনার সুনাম আরও ছড়িয়ে পড়বে। সেটি মোটেই সহ্য করতে পারছেন না মহম্মদ ইউনূস। অনেকেই বলছেন পদ্মা সেতুর কাজও যদি হাসিনার সময়ে শেষ না হত তাহলে হয়তো পদ্মা সেতুর কাজও বন্ধ করে দিতেন মহম্মদ ইউনূস।যেমন বন্ধ হওয়ার পথে মেট্রোরেল এবং রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প। অন্তবর্তী সরকারের নীতিগত অবস্থান, বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রগতিকেই বদলে দিয়েছে।কারণ ইউনূস সাহেবের দলবল বুঝেছে শেখ হাসিনার বেশ কিছু প্রকল্প শেখ হাসিনার সরকারকে অন্য মাত্রায় উন্নিত করেছে। তার মধ্যে কয়েকটি হল পদ্মা সেতু,যমুনা রেল সেতু, তিস্তার উপর সেতু, মেট্রোরেল প্রকল্প, রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প, এবং ঢাকার চারপাশে উড়াল সড়ক।এই সব শুধু অবকাঠামো নয়, দেশের রাজনীতি অর্থনীতি এবং জাতীয় আত্মপরিচয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছিল। এই প্রকল্পগুলিই দেখিয়েছে যে বাংলাদেশের মত একটি ছোট দেশও চাইলে বড় বড় স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে পারে। কিন্তু ইউনূস সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরই চিত্রটা সম্পূর্ণ পাল্টে গেল। গত চৌদ্দ বছরে নতুন কোন প্রকল্প করাই হয়নি, অথচ চলমান প্রকল্প গুলিকে নানা অজুহাতে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। রাজধানীর গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত মাস র্যাপিড ট্রানজিট লাইন-৫ সাউদার্ন রুট মেট্রো রেল প্রকল্প আবারও অনিশ্চয়তায় পড়ল। সম্প্রতি প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য একনেক সভায় পাঠানো হলেও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, তা সুপারিশ না করে ফেরত দেন।
প্রকল্পটির ব্যয় আরো মূল্যায়ন ও যাচাই-বাছাই করে কমিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা। এর ফলে প্রায় ৫৪ হাজার ৬১৯ কোটি টাকার প্রস্তাবিত প্রকল্প ব্যয় পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে ৪৭ হাজার ৬৪৯ কোটিতে নামিয়ে আনার পরও চূড়ান্ত অনুমোদন আটকে গেল।
প্রকল্পটির প্রস্তাবনা সূত্রে জানা গেছে, গাবতলী থেকে পান্থপথ হয়ে হাতিরঝিল, আফতাবনগর হয়ে দাশেরকান্দি পর্যন্ত ১৭.২ কিলোমিটার দীর্ঘ এ রুট চালুর পরিকল্পনা ছিল।এর মধ্যে ১৩.১ কিলোমিটার হবে ভূগর্ভস্থ এবং বাকি ৪.১ কিলোমিটার হবে উড়াল রেলপথ। পুরো রুটে মোট ১৫টি স্টেশন রাখার কথা ছিল, যেখানে দৈনিক গড়ে ৯ লাখ ২০ হাজার যাত্রী পরিষেবা পেতেন।
পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি পুনর্মূল্যায়ন না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থা ঢাকা মাস ট্রানজিট কম্পানি লিমিটেডকেও আপাতত অপেক্ষায় থাকতে হবে।অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে, বিশেষ করে আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে প্রকল্পটির অনুমোদনের সম্ভাবনা খুবই কম।
ব্যয় হ্রাসকে প্রশংসা করা হলেও প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ এখন বেশ অনিশ্চিত।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এর সুফল হবে উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি যেতে যেখানে দুই ঘণ্টার বেশি সময় লেগে যায়, মেট্রো রেল চালু হলে যাওয়া যাবে মাত্র ২৮ মিনিটে। বছরে প্রায় ২১৪ কোটি ৯০ লাখ কর্মঘণ্টা সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে এডিবির এক সমীক্ষা অনুযায়ী, বছরে ৪১ হাজার ২২০ টন জ্বালানি সাশ্রয় হবে। প্রায় এক হাজার ৫০টি গাড়ির চাপ কমে যাবে, এর ফলে বছরে দুই লাখ সাত হাজার ৯৬৪ টন কার্বন নিঃসরণ কমে আসবে। এভাবে প্রকল্পটি শুধু যানজট নিরসন নয়, পরিবেশ সংরক্ষণেও বড় অবদান রাখবে। কিন্তু ইউনূস সরকার এগুলিকে বন্ধ করে দিতে চাইছে। একই ভাবে দূষন, আমেরিকার চাপ এই সব অজুহাতে রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পও বন্ধের মুখে। অর্থাৎ যে কোন অজুহাতে হাসিনার শুরু করে যাওয়া প্রকল্পগুলিকে বন্ধ করাই ইউনূসের মূল লক্ষ্য। তাতে দেশের মানুষের দুর্দশা যতই বাড়ুক না কেন।এবং দেশ আর্থিক এবং কূটনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়লেও ইউনূসের কিছু যায় আসে না।












Discussion about this post