ভারতকে বাংলাদেশের তদারকি সরকার প্রধান ইউনূস যে কোনওভাবেই সহ্য করতে পারছেন না, ভারতের নাম শুনলে তেলেবেগুনে জ্বলে উঠছেন, সেটা অনেক আগেই বোঝা গিয়েছিল। এবার এল সরকারি বয়ান। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ এবং মধ্য এশিয়া বিযয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোরের সঙ্গে একান্ত আলাপ চারিতায় ভারত নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। এই সার্জিও গোর ভারতের পরবর্তী মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব নিতে চলেছেন।
প্রধান উপদেষ্টা তাকে বলেন, ‘‘ছাত্ররা গত বছর যা করেছে সেটি ভারত পছন্দ করেনি। এ কারণে ভারতের সঙ্গে আমাদের সমস্যা রয়েছে। ভারতীয় মিডিয়াগুলোর ভুয়া খবর পরিস্থিতি আরও খারাপ করেছে। ভারত থেকে অনেক ভুয়া খবর আসছে। তারা প্রোপাগান্ডা ছড়িয়েছে যে গত বছরের গণবিপ্লব ছিল একটি ইসলামি আন্দোলন।’
এখানেই শেষ নয়, মহম্মদ ইউনূস আরও বলেন, ভারত শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে সমস্যা তৈরি করেছে। এতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। তদারকি সরকার প্রধান জানিয়েছেন, বাংলাদেশে অস্থিরতা ও তরুণদের মৃত্যুর জন্য দায়ী প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারত থেকে বাংলাদেশকে নিয়ে অনেক অপপ্রচার চলছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে ইসলামি আন্দোলনের ভূয়ো খবরের দিকে ইঙ্গিত করে ড. ইউনূস বলেন, এই সব খবরের সঙ্গে তালিবান প্রশিক্ষণ সম্পর্কিত খবর যুক্ত হয়েছে। এমনকী তারা বলেছে, আমি তালিবান। আমার দাঁড়ি আমি বাড়িতে রেখে এসেছি।’
ইউনূসের দাবি, ছাত্ররা গত বছর যা করেছে, সেটা ভারতের পছন্দ হয়নি। এ কারণে ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতি হয়েছি। ভারত হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো করে তুলেছে। সার্ক কাজ করছে না। কারণ, একটি দেশের রাজনীতির সঙ্গে এটি ফিট হচ্ছে না।
সার্ক সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, সার্কের পুরনো ধারণা বাংলাদেশে এবং বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের রাজনীতিতে এই ধারণা প্রচার করে এসেছে। সার্ক একটি পরিবারের মতো। যার মূল ভাবনা ছিল দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলিকে একত্রিত করা। সার্কগোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলির তরুণ প্রজন্ম একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারে, শিক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে।
উল্লেখ করা যেতে পারে, সর্বশেষ ২০১৪ সালে সার্ক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এর ঠিক দুবছরের মাথায় পাকিস্তানে সার্ক সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু উরিতে সন্ত্রাসী হামলার কারণে ভারত সার্ক সম্মেলনে যোগ দিতে অস্বীকার করে। জানিয়ে দেয়, আলোচনা এবং সন্ত্রাস এক সঙ্গে চলতে পারে না। তার পর থেকে সার্ক কার্যত অচল হয়ে গিয়েছে। ভারত এক বিমস্টেককে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। যার মাধ্যমে বাংলাদেশকেও বিভিন্ন বার্তা জানিয়ে থাকে।
কথা বলেছেন রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়েও। তদারকি সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আসিয়ানের বর্তমান চেয়ার মালয়েশিয়া। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সমঝোতায় আসতে হবে। তারা হয়তো এগিয়ে আসবে না। তবে আমরা কাজ চালিয়ে যাব। আমরা মনে করি না, এটা মায়ানমার এবং বাংলাদেশের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি করবে। সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিকভাবে আসিয়ানের সদস্য হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
একটি পৃথক বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীদের বিচার হবেই। তদারকি সরকার অন্য বিষয়ের পাশাপাশি এই বিষয়টিকেও গুরুত্ব সহকারে দেখছে।











Discussion about this post