নিউইয়র্কের মাটিতে দাঁড়িয়ে ভারতকে ধ্বংসের জন্য লড়াইয়ের হুমকি দিলেন জামায়াতে ইসলামির নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লা মহম্মদ তাহের। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশে ‘কম করে ৫০ লক্ষ’ যুবক ভারতের সঙ্গে লড়াই করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এরপরই জানা গেল, পাকিস্তানে নিষিদ্ধ সন্ত্রাসবাদী সংগঠন তেহরিক–ই–তালেবানে যোগ দিয়ে সেনা অভিযানে নিহত হয়েছেন ফয়সাল হোসেন নামে বাংলাদেশি এক তরুণের। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এই দুটি ঘটনার মধ্যে মিল খুঁজে পাচ্ছেন কি? দুবাই বা সারজার মতো মধ্যপ্রাচ্যে কাজের টোপ দিয়ে বাংলাদেশের যুবকদের পাকিস্তানে পাঠানো হচ্ছে সন্ত্রাসবাদী প্রশিক্ষণের জন্য। সেই কারণেই জামায়াতে ইসলামির নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লা মহম্মদ তাহের জোর গলায় বলতে পারছেন, ‘কম করে ৫০ লক্ষ’ যুবক ভারতের সঙ্গে লড়াই করার জন্য প্রস্তুত। গত শনিবার নিউইয়র্কে এক কর্মী সমাবেশে জামায়াতে ইসলামির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা ভাষণ দিতে গিয়ে এই দাবি করেছেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমি খুব চাই, ভারত বাংলাদেশকে আক্রমণ করুক। ১৯৭১ সালে যে বদনাম আমাদের উপরে চাপানো হয়েছে, তা হলে সেই বদনাম দূর হবে। আমরা তখন ভারতের সঙ্গে লড়াই করে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে নিজেদের প্রমাণের একটা সুযোগ পাব। উল্লেখ্য, জামায়তে ইসলামী বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধ-বিরোধী বলেই আখ্যা দেওয়া হয়। প্রসঙ্গত, প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সফরসঙ্গী হিসাবে যে পাঁচ জন রাজনীতিক রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে আমেরিকার নিউইয়র্কে গিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে জামায়াতের অন্যতম শীর্ষ নেতা এই তাহেরও রয়েছেন।
ভারতের বিভিন্ন গোয়েন্দা শাখা এবং গুপ্তচর বাহিনীর একাধিক রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে যে বাংলাদেশে এখন জঙ্গি-জিহাদিরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে একাধিক জঙ্গি সংগঠন রোহিঙ্গাদের এবং অন্যান্য যুবকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। পাশাপাশি চাকরির টোপ দিয়ে দুবাই বা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর নাম করে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশি যুবকদের। সেখানে তাঁদের জঙ্গি প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এদেরই পরবর্তী সময় সুযোগ বুঝে ভারতে অনুপ্রবেশ করানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলাদেশিদের জঙ্গি প্রশিক্ষণ দিয়ে ভারতে পাঠানোর সুবিধা হল ভাষাগত সাজুর্ষ। পশ্চিমবঙ্গের ভাষাও বাংলা, ফলে বাংলাদেশিরা খুব সহজেই ভারতের অন্যান্য রাজ্যে বাঙালি সেজে বসবাস করতে পারে। সম্প্রতি এমন বেশ কয়েকজন জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, যাদের কাছ থেকে পশ্চিমবঙ্গের ঠিকানায় পরিচয়পত্র পাওয়া গিয়েছে। আবার ভারতে বসবাসকারী যে সমস্ত অবৈধ বাংলাদেশিদের ধরে সে দেশে পুশব্যাক করা হয়েছে তাঁদের কাছেও পশ্চিমবঙ্গের ঠিকানায় ভোটার ও আধার কার্ড পাওয়া গিয়েছে। ফলে কোনটা ভুয়ো বা কোনটা সঠিক সেটা নিয়েই তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। আর এই সুযোগটাই কাজে লাগাতে চাইছে বাংলাদেশের কট্টরপন্থী মৌলবাদী সংগঠনগুলি। মুহাম্মদ ইউনূসের জমানায় অন্তর্বর্তী সরকার বিগত এক বছরে শতাধিক জঙ্গিনেতাকে জেল ছেড়ে দিয়েছে। তাঁরা এখন বাংলাদেশে প্রকাশ্যে নানা মৌলবাদী ফতোয়া জারি করছে। এমনকি প্রকাশ্যেই তাঁদের সংগঠনের জন্য অর্থ সংগ্রহের পাশাপাশি সদস্য জোগার করছেন। যেমন ২২ বছরের ফয়সাল হোসেন, যার বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নে ছোট দুধখালী এলাকায়। গত শুক্রবার রাতে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের কারাক জেলায় পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর এক অভিযানে ১৭ টিটিপি সদস্য নিহত হয়েছিল। তার মধ্যে ফয়সালও ছিল। এই ঘটনা অনেক কিছুই প্রমান করছে। বাংলাদেশ যে জঙ্গিদের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছে, সেটাই প্রমান করছে ফয়সালের মৃত্যু।












Discussion about this post