একটা দেশের আর্থিক অবস্থা বুঝিয়ে দেয় সে দেশের পরিস্থিতি কতটা সঙ্কটজনক। আইনের শাসন তো কবেই উঠে গিয়েছে। চলছে দুঃশাসন। দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসছে অনভিপ্রেত ঘটনার খবর। সেই অশান্তির আগুনে ঘি ঢেলেছে বেছে বেছে সংখ্যালঘু নির্যাতন ও নিপীড়ন। তদারকি সরকার যে কিছু জানে না বা দেখতে পাচ্ছে না, তা নয়। কিন্তু সব কিছু দেখে শুনে তাঁকে চুপ করে থাকতে হচ্ছে। কারণ, এই নৈরাজ্যের পিছনে যারা রয়েছে, তাদের হাত ধরেই তো তিনি ক্ষমতায় আসীন হয়েছেন। এখন তাদের বিরুদ্ধাচরণ করলে তো মহাবিপদ। তাঁর হাতে আর বেশি সময় নেই। ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ধরে নেওয়া হচ্ছে সেই ভোটের মধ্য দিয়ে ইতি ঘটবে দুঃশাসন জমানার।
এখনও পর্যন্ত যা পরিস্থিতি তাতে তারেক রহমানের দল ক্ষমতায় আসতে চলেছে। তারা সরকারের এলেও মাথায় যে তাদের বড়ো ঋণের বোঝা নিয়ে দেশ শাসনের দায়িত্ব সামলাতে হবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। ঋণের বিষয়ে কথা বলতে হবে আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার এবং বিশ্বব্যাঙ্কের সঙ্গে। এই দুই প্রতিষ্ঠান তদারকি সরকারকে জানিয়ে দিয়েছে, তারা আর বাংলাদেশকে এক পয়সা দেবে না। নতুন সরকারের সঙ্গে তারা এই নিয়ে কথা বলবে। এই রকম সংঙ্কটজনক পরিস্থিতিতে এল আরও ভয়াবহ খবর।
দেশের সবচেয়ে বড় আয়ের খাত পোশাকশিল্প বড় মন্দায় পড়েছে। টানা পাঁচ মাস ধরে এই খাতে রপ্তানি কমেছে। এ ছাড়া পোশাক রপ্তানির বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশসহ ২৬টি দেশে আগের অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বরের প্রথমার্ধের তুলনায় রপ্তানি কমেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ প্রকাশিত পরিসংখ্যানে এমন চিত্র দেখা যায়। সদ্য সমাপ্ত ডিসেম্বরে পণ্য রপ্তানি কমেছে ১৪ শতাংশ, যা গত দেড় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পতন। এ মাসে রপ্তানি হয়েছে ৩৯৭ কোটি ডলারের পণ্য। আগের অর্থবছরের একই মাসে রপ্তানি হয়েছিল ৪৬২ কোটি ডলারের পণ্য। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) অবশ্য গতকাল বৃহস্পতিবার পণ্য রপ্তানির তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানির ৮০ শতাংশের বেশি আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। ফলে এই খাতের রপ্তানি কমলে সামগ্রিক রপ্তানিতেও প্রভাব পড়ে। গত আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত টানা চার মাস তৈরি পোশাকের রপ্তানি কমেছে। ইপিবি গত মাসের হিসাব প্রকাশ না করায় ডিসেম্বরের তৈরি পোশাক রপ্তানির পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।
সাধারণত ইপিবি এনবিআর থেকে রপ্তানির প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করে। তবে, ডিসেম্বরে মোট রপ্তানি আয় নভেম্বরের তুলনায় ১ দশমিক ৯৭ শতাংশ বেড়েছে, যা কিছুটা ফিরে আসার আশা তৈরি করছে। এক বিবৃতিতে ইপিবি জানিয়েছে, এই বৃদ্ধি চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে রপ্তানি খাতে কিছুটা স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইপিবি জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) মোট রপ্তানি আয় ২৩ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২৪ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন।
গত অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৪ হাজার ৮২৮ কোটি ডলারের, যা তার আগের অর্থবছরের তুলনায় সাড়ে ৮ শতাংশ বেশি। তবে ইপিবি ও এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে পণ্য রপ্তানি হয়েছে ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের ২ হাজার ৪৫২ কোটি ডলারের তুলনায় ২ শতাংশ কম। চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে পণ্য রপ্তানি হয় ৪৭৭ কোটি ডলারের পণ্য, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি। তবে আগস্টে রপ্তানি ৩ শতাংশ কমে ৩৯২ কোটি ডলারে নামে, যা আগের অর্থবছরের একই মাসে ছিল ৪০৩ কোটি ডলার।
বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান উৎস রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ২৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৩৩ কোটি ডলার। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে দেশে এসেছে ১ হাজার ৬২৬ কোটি ডলারের প্রবাসী আয়, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ শতাংশ বেশি। সেপ্টেম্বর মাসে রপ্তানি আরও কমে ৩৬৩ কোটি ডলার হয়, যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ৪ দশমিক ৬১ শতাংশ কম। অক্টোবর ও নভেম্বরে যথাক্রমে ৩৮২ কোটি ও ৩৮৯ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই দুই মাসে রপ্তানি কমেছে যথাক্রমে ৭ শতাংশ ও সাড়ে ৫ শতাংশ।
তদারকি সরকার প্রধান ইউনূস বুঝে গিয়েছেন, এই দেশ তাঁর পক্ষে আর নিরাপদ নয়। তাই তাঁর সামনে একটাই রাস্তা – সেফ এগজিট। কিন্তু তিনি কি নিরাপদে দেশ ছাড়তে পারবেন? সেটা সব থেকে বড়ো প্রশ্ন।












Discussion about this post