হাতে আর মাত্র কয়েকদিন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। হাসিনা ক্ষমতাচ্যূত হওয়ার পর এই প্রথম বাংলাদেশের মানুষ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি তাদের নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করবেন। এখনও পর্যন্ত যা চিত্র, তাতে এটা স্পষ্ট যে বিএনপি ক্ষমতায় আসীন হতে চলেছে। আর জিয়া-পুত্র তারেক জিয়া বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। তারেক জিয়া সরাসরি কোনওদিন রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। মায়ের প্রয়াণের পর দল পরিচালনার ভার তাঁর হাতে ন্যস্ত হয়। ফলে, দলকে সঠিক পথে নিয়ে যাওয়াটা তাঁর কাছে বেশ চ্যালেঞ্জিং। দেশে ফেরার পর তারেক জিয়া দেশবাসীর উদ্দেশ্যে একটি ভাষণ দিয়েছিলেন। সেই ভাষণে তিনি নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেন। জানিয়েছিলেন, তাঁর নিজস্ব কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও কী সেই পরিকল্পনা, সেটা তিনি স্পষ্ট করে কিছু জানাননি। ফলে, তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে একটা রহস্য তৈরি হয়েছে। যা নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও রহস্য বা জটিলতা নেই, সেটি হল দেশবাসী কিন্তু একটা পরিবর্তন চাইছে। তারা ইউনূসের প্রতি বীতশ্রদ্ধ। বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিক, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম আশা করেছিল, দায়িত্বভার গ্রহণের পর ইউনূস দেশের আর্থিক ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবেন। কর্মসংস্থান হবে। এক কথায় দেশের সার্বিক উন্নতি হবে। কিন্তু হয়েছে ঠিক উল্টো। দেশ একেবারে খাদের কিনারে চলে গিয়েছে। এই অবস্থায় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে হতে চলেছে জাতীয় নির্বাচন। সবাই ধরে নিয়েছেন যে তারেকই দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন। কিন্তু তাঁর পথ কি পুরোপুরি মসৃণ?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, তারেকের পথের কাঁটা রয়েছে তাঁর দল বিএনপি’র অন্দরেই। বিএনপি রীতিমতো চাপে রয়েছে। সম্প্রতি দলের ভিতের গুপ্ত বা সুপ্ত উপস্থিতি নিয়ে তারেক রহমান যে মন্তব্য করেছেন, এখন সেটি আর কেবল বক্তব্য নয়। রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গীতে এটি একটি বিরাট সতর্ক সংকেত। রাজননৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্য হালকাভাবে দেখার কোনও সুযোগ নেই। হালকাভাবে দেখাও উচিত নয়। কারণ, রাজনৈতিক বাস্তবতাতেও এই নির্বাচনের মূল ভারসাম্য স্বাভাবিকভাবেই বিএনপিকে ঘিরে। এখন প্রশ্ন উঠছে তলে তলে এতোদিন ধরে এমনভাবে বিএনপি’র ভিতরে যে জামায়াত যে জাঁকিয়ে বসে আছে, সেটা কি তারেক নেতৃত্ব কিছুই আঁচ করতে পারেনি। বাইরে যতটা নয়, ততটা ভিতরে বড়ো ঝুঁকি।
রাজনীতিতে একটি কথা প্রচলিত – বাইরের শত্রুকে দেখা যায়। কিন্তু ভিতরের শত্রুকে চিহ্নিত করা বেশ মুশকিল। বিএনপির বর্তমান অবস্থাটা অনেকটা সেই জায়গাতেই এসে ঠেকেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিএনপি’র ভিতরে যে গুপ্ত অংশটির কথা বলা হচ্ছে, সেটা মূলত জামায়াতপন্থী একটি গোষ্ঠী। তাদের মতে, সংখ্যাটা ১০ শতাংশ হলেও এই সন্দেহ সহজেই জেঁকে বসে। গুপ্ত উপস্থিতির বড়ো সমস্যা হল তারা নিজেদের আলাদা করে প্রকাশ করে না। নিজেদের তাঁরা এমনভাবে উপস্থাপন করে যেন তারাই আসল বিএনপি পন্থী। অতিরিক্ত আনুগত্যই তাদের ঢাল। তারা প্রকাশ্যে বিএনপির পক্ষে সব থেকে বেশি সওয়াল করে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বে নাম উচ্চার করে দেয় আবেগি বক্তব্য। আন্দোলনের ভাষায় কথা বলে। মাঠে বাস্তব অবদান সীমিত থাকে। ভিন্নমত যারা দিয়ে থাকে, তাদের দলবিরোধী আখ্যা দেয়। এই প্রক্রিয়ায় তারা নিজেদেরকে আস্থাভাজন হিসেবে গড়ে তোলে। একবার সেই জায়গায় পৌঁছে গেলে সিদ্ধান্তের টেবিলে বসা খুব একটা কঠিন হয় না। বরং সহজ হয়ে যায়। এই কারণে এই গুপ্ত উপস্থিতিকে আলাদা করে শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব।
জামাতের এ টিম, বি টিমের রাজনীতি এখন ওপেন সিক্রেট। বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামাতের এ টি বা বি টিম কথাটা অনেকটা ফিস ফিস করে বলা হত। প্রকাশ্যে এক চেহারা, ভিতরে অন্য চেহারা। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, জামাতের রাজনীতি এখন আর সেই পর্যায়ে নেই। এখন তারা অনেক বেশি খোলামেলা। অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। তারা বুঝে গিয়েছে, বড়ো দলগুলির ভিতরে একবার ঢুকে পড়তে পারলে আলাদা করে মাঠে নামার দরকার পড়ে না। জামাত সেটাই করেছে।
ক্ষেত্র প্রস্তুত। এবার ভোটের মুখে সম্মুখ সমরে বঙ্গবন্ধু কন্যা ও তদারকি সরকার। আগামী ২৩ জানুয়ারি দিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হতে চলেছেন...
Read more












Discussion about this post