ক্ষমতার স্বাদ যিনি একবার যিনি পেয়েছেন, তিনি তো চাইবেনই আরও কিছুদিন ক্ষমতায় থেকে যেতে। আর যিনি অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছেন, তাঁর বাসনা যে প্রবল হতে পারে, তা নিয়ে কারও মনে কোনও দ্বিমত নেই। দ্বিমত থাকতে পারে না। একটা কৌশল ব্যর্থ হলে তিনি আরও একটা কৌশল অবলম্বন করবেন। প্ল্যান ‘এ’ ফেল করলে তাঁর হাতে থাকে ‘প্ল্যান বি’। সেটা ফেল হলে ‘প্ল্যান সি’। এখন তদারকি সরকারের কৌশল হল ভোটের পরেও আরও কিছুদিন ক্ষমতা থেকে যাওয়া। সম্প্রতি গণভোট নিয়ে দ্য পোস্টে একটি কন্টেন্ট প্রকাশিত হয়। সেখানে বলা হয়, গণভোট ‘হ্যাঁ’ জিতলে আরও তদারকি সরকারের মেয়াদ আরও ছয়মাস। ভিডিওটিতে দাবি করা হয় ‘হ্যাঁ’ জিতলে নির্বাচনের পরে পরেই সরকার গঠিত হবে না। নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচিত এমপিরা তখন সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করবেন। তাদের হাতের সময় থাকবে ১৮০ দিন। এই ছয়মাস ধরে তারা সংবিধান কাটছাঁট করবেন। সংবিধান সংশোধন করবেন। প্রশ্ন উঠছে, এই ছয়মাস ক্ষমতায় কে থাকবে। বলা হচ্ছে, এই ছয় মাস অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় থাকবে। নির্বাচনের পরেও আরও ছয়মাস ক্ষমতায় থেকে যেতে পারে।
তবে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে বলে দেওয়া হয়, এই দাবি মিথ্যে। যদিও ততক্ষণে ঘটনা চারিদিকে ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়ে। প্রশ্ন উঠতে শুরু করে – ইউনূস সরকার হ্যাঁ ভোটের জন্য এত এত প্রচার চালাচ্ছেন? যদিও তদারকি সরকারের প্রেস উইং অবশ্য চাপে পড়ে অবস্থান জানিয়ে দেয়। আসলে এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’- ভোটে জয়ী করতে ইউনূস সরকার ভীষণ মরিয়া। এই প্রসঙ্গে তদারকি সরকার প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস কী বলছেন, সেটা একবার দেখে নেওয়া যাক।
এ দাবি সত্য নয় উল্লেখ করে ফ্যাক্ট বিভাগ জানায়, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫-এ স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হলে সংসদের দ্বৈত ভূমিকা থাকবে, যেখানে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা একইসঙ্গে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে কাজ করবেন। অর্থাৎ সরকার হিসেবে নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই কাজ করবেন, অন্তর্বর্তী সরকার নয়।
এই গণভোট নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান ইউনূস জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছেন গত সোমবার, ১৯ জানুয়ারি। বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়ার চাবি এখন আপনার হাতে। হ্যাঁ-তে সিল দিলে নতুন বাংলাদেশ গড়ার দরজা খুলে যাবে। তাঁর কথা হ্যাঁ-তে আপনি নিজে সিল দিন। আপনার পরিচিত সবাইকে সিল দিতে উদ্বুদ্ধ করুন এবং তাঁদেরকে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসুন। দেশ পাল্টে দিন।
দেশবাসীর উদ্দেশ্যে দেওয়া বার্তায় তদারকি সরকার প্রধান বলেন, “ এই লক্ষ্যে আমরা কিছু সংস্কার করেছি। আরও গভীর ও সুদুরপ্রসারী সংস্কারের জন্য দেশের সকল রাজনৈতিক দলের ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদ প্রণয়ন করেছি। জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাতির ইতিহাসে এক অসাধারণ অর্জন। ” ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে তদারকি সরকার প্রধান বলেন, “গণভোটে আপনি হ্যাঁ ভোট দিলে বৈষম্য, শোষণ ও নিপীড়ন থেকে মুক্ত হবে বাংলাদেশ। গণভোট মানে তত্ত্বাধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠনে সরকার ও বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করবে। সরকার ইচ্ছামতো সংবিধান সংস্কার করতে পারবে না। ”
ইউনূস আরও বলেন, “ বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদের গুরুত্বপূর্ণ কমিটির সভাপতিরা নির্বাচিত হবেন। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। বিচারব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করবে। ” তদারকি সরকার প্রধানের কথায়, “সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়বে। ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় পার্লামেন্ট একটি উচ্চকক্ষ গড়ে তোলা হবে। আপনার মৌলিক অধিকার আরও সুরক্ষিত হবে। রাষ্ট্রভাষা বাংলার পাশাপাশি অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর ভাষাও সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি পাবে। ” হ্যাঁ ভোটের গুরুত্ব কতখানি তা জানাতে তিনি অপরাধে দোষী সাব্যস্তের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে ইউনূস বলেন, ‘দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীকে রাষ্ট্রপতি ইচ্ছেমতো ক্ষমা করতে পারবেন না। সব ক্ষমতা একজন প্রধানমন্ত্রীর হাতে থাকবে না। এবং আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব এখানে রয়েছে। ’
ক্ষেত্র প্রস্তুত। এবার ভোটের মুখে সম্মুখ সমরে বঙ্গবন্ধু কন্যা ও তদারকি সরকার। আগামী ২৩ জানুয়ারি দিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হতে চলেছেন...
Read more












Discussion about this post