বাংলাদেশের ভোট নিয়ে এমনিতেই আঁতান্তরে রয়েছেন তদারকি সরকার প্রধান। ঘরে চাপ, বাইরে চাপ । আর ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, সেই চাপ আরও ঘনিভূত হচ্ছে। গোদের ওপর বিষফোঁড়া হয়ে উঠেছে একের পর এক ঘটনাপ্রবাহ। এবার ইউনূসের চিন্তা বাড়ালেন টবি ক্যাডম্যান। ব্রিটেনের এই আইনজীবীকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজমুল ইসলামের বিশেষ পরামর্শদাতা পদে তাঁর মেয়াদ ছয় মাস বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি সেই প্রস্তাবে রাজি হননি। এর আগে আজ বিকেলে ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান ফেসবুকে লেখেন, চিফ প্রসিকিউটরের বিশেষ পরামর্শক পদ থেকে টবি ক্যাডম্যান পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করেছেন টবি ক্যাডম্যান। ১৯ জানুয়ারি বিকেলে ব্রিটিশ সাংবাদিক ভিড বার্গম্যান ফেসবুকে লেখেন, চিফ প্রসিকিউটরের বিশেষ পরামর্শক পদ থেকে টবি ক্যাডম্যান পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করেছেন টবি ক্যাডম্যান।
ব্রিটিশ আইনজীবী ক্যাডম্যান লন্ডনের গর্নিকা ৩৭ ল’ফার্মের যুগ্ম প্রধান। অতীতে ৭১-য়ের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের সময়ও বাংলাদেশে যেতে চেয়েছিলেন। অভিযুক্তদের আইনজীবী হিসাবে লড়তে চেয়েছিলেন। তবে তখন তাঁকে বাংলাদেশে যেতে দেওয়া হয়নি। পরবর্তী সময়ে হাসিনা সরকারের পতনের পরে বাংলাদেশে যান তিনি। ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর তাঁকে আইসিটির চিফ প্রসিকিউটরের বিশেষ পরামর্শদাতা হিসাবে নিয়োগ করা হয়। ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা চলছিল। সেই মামলার তিনি চিফ প্রসিকিউটর ছিলেন। গত বছরের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে। তখনও তিনি স্বপদে বহাল ছিলেন। সেই ক্যাডম্যান দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চাওয়ায় বাংলাদেশের অন্দরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সোমবার বিকেলে চিফ প্রসিকিউটর জানান, ক্যাডম্যানের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়নি।
একটি সূত্র বলছে, টবি ক্যাডম্যান নিজেও তাঁর মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য সরকারের কাছ অ্যাপ্রোচ করেছিলেন। তিনি এক্সেটনশন চান। কিন্তু আইন মন্ত্রক সিদ্ধান্ত নেয়, যেহেতু তাদের মেয়াদ আর মাত্র কয়েকদিন আছে, তাই নতুন করে ব্রিটেনের এই আইনজীবীর সঙ্গে তারা আর চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে চাইছে না। তাজুল ইসলাম বলেন, ২০২৪-য়ের ১৯ নভেম্বর বিশেষ পরামর্শক পদে তাঁকে নিয়োগ করা হয়। মেয়াদ শেষ হয়ে যায় গত বছর ১৯ নভেম্বর। বাংলাদেশের একটি গণমাধ্যমের তরফে টবি ক্যাডম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এই ব্রিটিশ আইনজীবী বলেন, আমি পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর আগে আইন উপদেষ্টা ও চিফ প্রসিকিউটর জানানোর পর প্রধান উপদেষ্টাকে বিষয়টি জানিয়েছি। আমার নিয়োগ ছিল ১২ মাসের জন্য। গত নভেম্বরে মেয়াদ শেষ হয়েছে। এর পর আমাকে ছয় মাসের জন্য মেয়াদ বৃদ্ধি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। আমি সেই নবায়ন গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিই। পদত্যাগের বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয়কে অবহিত করি।
এই বিবৃতির মধ্যে একটি বিবৃতি কিন্তু নজর কা়ড়ার মতো। আইন মন্ত্রক নিশ্চিত যে তাদের ফেরার সম্ভাবনা প্রায় নেই। তাই, তারা টবি ক্যাডমানের মেয়াদ বৃদ্ধি করতে আর রাজি হচ্ছে না। সেই সঙ্গে আরও একটি প্রশ্ন কিন্তু এখন থেকেই ঘোরাফেরা করতে শুরু করেছে। আগামীদিনে বাংলাদেশে বিএনপি বা জামায়াত সরকার গঠন করলে এই বিচার প্রক্রিয়ার কী হবে? আবারও কি পদ্মাপার থেকে শোনা যাবে হাসিনাকে ফেরত দাও? না কি সরকার দেশের জ্বলন্ত সমস্যার সমাধানে ব্রতী হবে? আগামী ১২ তারিখের পর থেকে আমাদের সকলের চোখ থাকবে কিন্তু বাংলাদেশে।












Discussion about this post