বেজায় গরম। গাছতলায় দিব্যি ছায়ার মধ্যে চুপচাপ শুয়ে আছি। তবু ঘেমে অস্থির। ঘাসের ওপর রুমালটা ছিল, ঘাম মুছবার জন্য যেই সেটা তুলতে গিয়েছি, অমনি রুমালটা বলল “ম্যাও ”। কি আপদ! রুমালটা ম্যাও করে কেন?
চেয়ে দেখি রুমাল তো আর রুমাল নেই। দিব্যি মোটা-সোটা লাল টকটকে একটা বেড়াল গোঁফ ফুলিয়ে প্যাট্প্যাট্ করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
কি মুশকিল ! ছিল রুমাল, হয়ে গেল একটা বেড়াল।
প্রতিবেদনের সূত্রে সুকুমার রায়ে হ-য-ব-র-ল কে ধার করতে হচ্ছে। একটা রুমাল এক আশ্চর্য জাদুতে যে বেড়াল হয়ে যেতে পারে, সেটা সুকুমার রায় প্রথম দেখিয়েছিলেন। আর তেমন একটি রুমাল থেকে বেডা়লের জন্ম হল বাংলাদেশে। জন্ম দিলেন তদারকি সরকার প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস। আসলে ভারতের কাছে ধাক্কা খেয়ে বাতিল করা অর্থনৈতিক অঞ্চলে এবার নিজেদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করতে চলেছে বাংলাদেশ। বেছে নেওয়া হয়েছে চট্টগ্রামের মিরসরাই। প্রস্তাব ছিল সেখানে গড়ে তোলা হবে ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল। ইকোনমিক জোন। সেই চুক্তি বাতিল হয়েছে। ওই জায়গাতেই গড়ে উঠবে বাংলাদেশের নিজস্ব সামরিক অর্থনৈতিক জোন বা ডিফেন্স ইকোনমিক জোন। সোমবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের উপস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকের পর তদারকি সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।
মিরসরাইযে যে জায়গায় সামরিক অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে, তার আয়তন ৮৫০ একর। ঢাকার বেইলি রোডে অবস্থিত ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে সাংবাদিক সম্মেলনে অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয় এতদিন যুদ্ধাস্ত ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক বিভিন্ন দ্রব্যের উৎপাদন নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। অবশেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। পৃথিবীজুড়ে সামরিক দ্রব্যের বিপুল চাহিদা রয়েছে জানিয়ে বলা হয়েছে, নতুন প্রকল্পের বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, প্রতিরক্ষা, সামরিক দফতর ও অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ এক সঙ্গে কাজ করেছিল। সামরিক অর্থনৈতিক অঞ্চল ছাড়াও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, আনোয়ারায় ৬০০-৬৫০ একর জায়গা মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল ও কুষ্টিয়ার চিনিকলে শিল্প উৎপাদন গড়ে তোলার।
সাংবাদিক সম্মেলনে বেজার (বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন অথরিটি) নির্বাহী চেয়ারাম্যা আশিক চৌধুরী বলেন, “সামরিক শিল্পে অস্ত্র ও অন্যান্য উপকরণ উৎপাদন নিয়ে অনেক দিন ধরে আলোচনা হচ্ছে। এগুলোর বৈশ্বিক চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশের নিজেদেরও কিছু সক্ষমতা থাকা জরুরি। এই নিয়ে সশস্ত্র বাহিনী, বেজা প্রতিরক্ষা মন্ত্রক, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় একসঙ্গে মিলে কাজ করছিল। অবশেষে প্রস্তাবটি বেজার গভর্নিং বডিতে নীতিগত অনুমোদন করা হয়। ”
তিনি বলেন, “মিসরাইয়ে অবস্থিত জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের (এনএসইজেডে) অভ্যন্তরে প্রায় ৮৫০ একর খালি জায়গাকে আমরা চিহ্নিত করেছি। জায়গাটি গত বছরের জুন মাস পর্যন্ত ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে প্রস্তাবিত ছিল, যা পরে বাতিল হয়ে গেছে। সেটিকেই এখন বেজার মাস্টারপ্ল্যানে সামরিক অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবে।”
সামরিক অর্থনৈতিক অঞ্চলে কী ধরনের পণ্য উৎপাদনহবেএবংকারাবিনিয়োগকরতেপারে – এমনতথ্যজানতেচানসাংবাদিকেরা।জবাবেআশিকচৌধুরীবলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে, এমন একাধিক দেশের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। সামরিক কী কী উপকরণ তৈরি হবে, সেটি এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। চাহিদার কথা মাথায় রেখে সেটি নির্ধারিত হবে।
কুষ্টিয়ার চিনিকলকে বেজার সঙ্গে যুক্ত করে জায়গাটিকে একটি শিল্পপার্ক করার বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে বেজার গভর্নিং বোর্ড। আশিক চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রায় ২০০ একরের চিনিকলটিতে গ্যাস, বিদ্যুৎ, সড়ক এবং অবকাঠামোর সুযোগ রয়েছে। ফলে, বিনিয়োগকারীদের প্রাথমিক অনেকগুলো সমস্যা ইতিমধ্যে সমাধান হয়ে গিয়েছে। জায়গাটিকে সহজে ব্যবহার করা যাবে।












Discussion about this post