আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে নির্বাচন কী আদৌ হবে? এখন এই প্রশ্নটাই সর্বত্র ঘোরাঘুরি করছে। ১২ ফেব্রুয়ারিকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ সহ বৃহৎ রাজনৈতিকদলগুলি তাদের মতো করে জল মাপছে। হিসেব নির্বাচন হওয়া না হওয়া নিয়ে। এই ভোটে আওয়ামী লীগ নেই। ফলে, প্রশ্নটা আরও বেশি করে গুরুত্ব পেয়েছে। তারেক রহমান একটি ভার্চুয়াল সভায় বক্তৃতা দিতে গিয়ে এই নিয়ে রীতিমতো আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তারেক বলেন, “অন্য একটি গোষ্ঠী… তারা আবার কিছু কিছু ষড়যন্ত্র করছে যেন নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হয়। এই ব্যাপারে আপনাদের সকলকে সচেতন থাকতে হবে। ১২ তারিখে ইনশআল্লাহ… ১২ তারিখে … এখানে যারা মুসলমান ভাই আছেন, আপনারা তাহাজ্জতপুরে স্ব স্ব নির্বাচনী এলাকায় স্ব স্ব ভোটকেন্দ্রে গিয়ে… ভোরে ফজরের জামাত… ওখানে ভোটকেন্দ্রের সামনে আদায় করবেন এবং যারা মুসলমান… অন্য ধর্মের ভাই-বোনেরা আছেন, তাঁদেরকে সাথে নিয়ে যাবেন, যাতে করে সকাল সকাল সবাই ভোট কেন্দ্রের সামনে লাইন দিয়ে দাঁড়াতে পারে। ”
এই ভাবনা একা তারেকের নয়। সূত্রের খবর একই ইচ্ছা হাসিনারও।তাদের আশা, নির্বাচন না হলেই তাদের স্বপ্ন পূরণ হবে। আওয়ামী লীগ আরও একটি রাস্তা খুলে রেখেছে। সেই রাস্তা হল ভোটের দিন বুথ বয়কট করা। আওয়ামী লীগ সুপ্রিমোর মতে তাঁর দলের ১২ তারিখ বুথে না গেলে নির্বাচন প্রশ্নে বিদ্ধ হবে। ভোটের ফল যাই হোক না কেন, তাকে বৈধতা দেবে না আন্তর্জাতিকমহল। এই অনিশ্চয়তার দোলাচলে একটা ভয়াবহ খেলা চলছে। খেলছেন তদারকি সরকার প্রধান মুহাম্মদ ইউনুস। তাঁর লক্ষ্য যে কোনও উপায়ে ক্ষমতায় টিকে যাওয়া। অন্তর্বর্তী সরকার এমন কিছু প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে যা তাঁকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার পক্ষে যথেষ্ঠ। ভোট না হলেও তিনি ক্ষমতায় টিকে যাবেন। এটা কোনও গুজব নয়। সরকারের কর্মকাণ্ড দেখলে বোঝা যায় তারা হাত গুটিয়ে বসে নেই। তারা তাদের পরিকল্পনামাফিক এগিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপি জোটের প্রার্থী ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে আমরা শুরু থেকেই নানা কথা শুনেছি। একটা পর্যায়ে আমরা বুঝতে পারছিলাম যে নির্বাচনকে একটা বিপরীত দিকে দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে। আমরা যারা বিচার এবং সংস্কার চেয়েছি, আমরা বলেছি, নির্বাচন তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যারা নির্বাচন বানচাল করতে চায়, তারা বাংলাদেশের বিরোধিতা করছে।’
বাংলাদেশের ভোটকে কেন্দ্র করে দুটি গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে। একটি গোষ্ঠী ভোটের পক্ষে, অপরটি ঠিক তার বিপরীত মেরুতে। তদারকি সরকার প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, ভোট হবে অবাধ ও সুষ্ঠ। ভোট হবে উৎসবমুখর পরিবেশে। আর সেটা হলে তিনি যে ক্ষমতা থেকে বিদায় নেবেন, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। সেটা নিশ্চই তিনি চাইবেন না। তাঁর ইচ্ছা ক্ষমতায় থেকে যাওয়া। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে একটা বিষয় স্পষ্ট হয়ে যাবে যে বাংলাদেশ কোন দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। একটা কথা জানিয়ে রাখা ভালো যে হাসিনা কিন্তু তাঁর প্রধানমন্ত্রী পদে ইস্তফা দেননি। ফলে, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু তদারকি সরকারকে যে কোনও সময় বরখাস্ত করতে পারেন।
সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের সঙ্গেও বৈঠক সারেন কুক। তার পরে রবিবার জামাতের আমির শফিকুরের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। অনেকেই মনে করছেন, সে দেশের নির্বাচনের আগে জল মেপে নিতে চাইছে ব্রিটেন। বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কট্টর ইসলামপন্থী দল জামাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি করতে আগ্রহী হয়েছে আমেরিকাও। ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে এমনটাই জানানো হয়েছে।
মাঝখান থেকে জল মাপছেন সেনাপ্রধান। সম্প্রতি তিনি তাঁর বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে একটি বৈঠক করেন। বৈঠকে জানিয়ে দেন ১২ তারিখ, ভোটের দিন বাহিনীকে নিরপেক্ষ ভূমিকা নিতে হবে। বাহিনী যদি সেটা করে, তাহলে সেটা ইউনূসের পক্ষে অশনি সংকেত।












Discussion about this post