‘অনাচার করো যদি, রাজা তবে ছাড়ো গদি/যারা তার ধামাধারী, তাদেরও বিপদ ভারি/করিবে শোষণ পাপ, ক্ষমা চেয়ে নাহি মাপ/নাহি কোনো পরিত্রাণ।হীরকের রাজা শয়তান’
এই সংলাপ কোন ছবির, তা আমাদের সকলের জানা। সত্যজিৎ রায় এই ছবি তৈরি করেছিলেন ছোটোদের কথা ভেবে। তবে বইয়ের বিষয়বস্তু একেবারেই ছোট নয়। রাজা যদি শয়তান হয়, তাহলে মানুষ তাকে যে কোনও উপায়ে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়। বাংলাদেশেও রয়েছেন এমন এক রাজা। হীরক রাজার মতো তিনিও গত ১৫-১৬ মাস ধরে অনাচার করে এসেছেন। হীরক রাজার মতো ইউনূসেরও রয়েছে বহু ধামাধারী। আর তারা গত ১৫-১৬ মাস ধরে তাঁকে অনাচার করার জন্য ইন্ধন জুগিয়েছেন। সেই ইন্ধনের জেরে বাংলাদেশ এখন জ্বলন্ত অগ্নিপিণ্ডে পরিণত হয়েছে। চারিদিকে হিংসার আগুন, অশান্তির আগুন। সেই আগুন থেকে রাজা ইউনূস এবং তাঁর ধামাধারীরা নিজেদের বাঁচাতে চাইছেন। কিন্তু বাঁচার সব পথ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। অন্ধকূপে তাদের নিশ্চিত মৃত্যু। অপেক্ষা শুধু সময়ের। বাংলাদেশবাসীকে বাঁচাতে পারেন একমাত্র হাসিনা। এই ভাবনা ভারতের তো বটেই। এমনকী আন্তর্জাতিকমহলও মনে করছে অশান্ত বাংলাদেশকে শান্ত করার একমাত্র উপায় বঙ্গবন্ধুকন্যার স্বদেশে প্রত্যাবর্তন।
গণঅভ্যুত্থানের পরে পরে আপামোর বাংলাদেশবাসীর মনে হয়েছিল, ক্ষমতায় যিনি আসীন হতে চলেছেন, তিনি দেশকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যাবেন। হাসিনার আমলে সব কিছুই ঠিকঠাক ছিল, এমনটা নয়। দিনকয়েক একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পুত্র জয় সেটা স্বীকার করে নিয়েছেন। কিন্তু দেশজু়ড়ে যে নৈরাজ্যের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে, সেটা হাসিনার আমলে ছিল না। তারেক রহমান দেশে ফেরার পর জাতির উদ্দেশ্য ভাষণ দিয়েছিলেন। সেই ভাষণে তাঁকে একটা কথা বলতে শোনা যায় I hava a plan. যদিও কী সেই পরিকল্পনা, সেটা কিন্তু তারেক গোপন রেখেছেন। তবে এটা ধরে নেওয়া যেতে পারে, দেশজুড়ে যে দুঃশাসন চলেছে, তিনি তাঁর অবসান চাইছেন। দেশবাসীও সেটাই চাইছে। তবে একটা প্রশ্ন এখানে থেকেই যাচ্ছে। তারেকের দল ক্ষমতায় ফিরলে দিল্লির সঙ্গে ঢাকার সম্পর্ক কেমন হবে? আওয়ামী লীগের আমলে সম্পর্ক যেমন ছিল, তেমন থাকবে?না কি সম্পর্ক হবে উষ্ণ-শীতল।
তবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরলে দিল্লি-ঢাকা সম্পর্ক যে হার্দিক হবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। বঙ্গবন্ধু কন্যা কিছুদিন আগে একটি অডিওবার্তা দেন। সেই বার্তায় ঢাকা রীতিমতো চটেছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, দলীয় কর্মীদের জন্য তাঁর বার্তা “যেখানে ব্যালটে নৌকা নেই, সেখানে কেউ ভোট দেবে না। কেউ ভোট দিতে যাবেন না। আমি আমার আওয়ামী লীগের সকল নেতা-কর্মীদের বলব যে, যেখানে আওয়ামী লীগ ইলেকশন করতে পারছে না… ইলেকশন করতে দিচ্ছে না… আমি ইলেকশন করতে চাই। ঠিক আছে। আমরা চাই আওয়ামী লীগ ইলেকশন করবে… অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে। জনগণ তাঁর মতামত দেবে .. জনগণ যে ম্যানডেট দেবে আমরা সেটা মাথা পেতে নেব। আওয়ামী লীগ ভালো কি মন্দ, সেটা ইউনূসের মতো একটা দুষ্কৃতীকারীর মুখে শুনতে চাই না। জনগণ বলুক … জনগণ দেখাক… কাজেই আমি এটাই চ্যালেঞ্জ দেব .. যে ভোটের মধ্য দিয়ে মানুষ সিদ্ধান্ত নিক… জনগণ…তারা কাকে চায় ?”
ভোটমুখী বাংলাদেশ মানুষ এখন কিন্তু তুলনা করতে শুরু করে দিয়েছে। কোন আমলে তারা সব থেকে ভালো ছিল – আওয়ামী? না কি বিএনপি? প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কে সব থেকে বেশি সফল – হাসিনা না কি জিয়া? তবে বেগম অধ্যায় এখন অতীত। দলের ব্যাটন এখন তারেকের হাতে। আসন্ন ভোটে বিএনপি ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করতে পারলে তারেক যে প্রধানমন্ত্রী হবেন, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। প্রশ্ন এখানে অন্য। তারেকের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা শূন্য। তার হাতে দেশ শাসনের দায়িত্ব গেলে তিনি আদৌ সুষ্ঠুভাবে তা পালন করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে রীতিমতো সন্দেহ হয়েছে। আর বর্তমান বাংলাদেশকে তার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া বেশ কঠিন কাজ। রাজনীতিতে যিনি অভিজ্ঞ, একমাত্র তাঁর পক্ষেই এটা সম্ভব। তাই, দিল্লি চাইবে হাসিনাকেই প্রধানমন্ত্রী পদে দেখতে। তাঁকে ফিরিয়ে দিতে আপ্রাণ চেষ্টা চালাবে। অপেক্ষা এখন শুধু সময়ের।












Discussion about this post