ভোটমুখী বাংলাদেশে ক্রমেই বেড়ে চলেছে সংখ্যালঘু নির্যাতন। লাগাতার চলছে ভারত-বিরোধী প্রচার। ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, বাংলাদেশ যেন আরও অশান্ত হয়ে উঠছে। এই প্রতিবেদন যেদিন লেখা হচ্ছে, সেদিন বাংলাদেশের কুমিল্লায় সংখ্যালঘু সেই দিন বাংলাদেশের কুমিল্লায় সংখ্যালঘু হিন্দু মধু চন্দ্র শীল নামে এক ব্যক্তিকে খুন করা হয়। জমি নিয়ে বিবাদের জেরেই এই খুন বলে পুলিশ জানিয়েছে। খুনের ঘটনা ঘটেছে নরসিংদীতেও। অভিযোগ উঠেছে হিন্দু যুবককে পুড়িয়ে মারার। ২৩ বছরের ওই হিন্দু যুবকের নাম চঞ্চল ভৌমিক। সে একটি গ্যারেজে কাজ করত। চঞ্চল ভৌমিক নরসিংদী পুলিশ লাইনের কাছে মসজিদ মার্কেট এলাকার একটি গ্যারেজে কাজ করতেন এবং নিয়মিত সেখানেই ঘুমাতেন।গভীররাতেঅজ্ঞাতব্যক্তিরাগ্যারেজেরশাটারবন্ধকরে, পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। দেশজুড়ে চলছে নৈরাজ্য। পরিস্থিতি তদারকি সরকার প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের হাতের বাইরে চলে গিয়েছে। অনেকে বলছেন, একমাত্র সেনাবাহিনীকে মাঠে নামালে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাবে। যদিও বাহিনীর তরফে আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তারা আর দেশ শাসনের দায়িত্ব নিতে নারাজ। তাদের কাজ দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করা। সেটা ঝুঁকির মুখে পড়লে তারা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে দায়িত্ব তুলে নেবে। প্রশ্ন ওঠে, পরিস্থিতির আর কতটা অবনতি হলে ওয়াকার বাহিনী মাঠে নামবে। এই অবস্থায় এল আরও উদ্বেগজনক খবর।
কোনও রকম নোটিশ ছাড়াই রামপাল পারমাণবিক কেন্দ্রের ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কর্পোরেশেন-য়ের (এনটিপিসি) নয়জন ভারতীয় কর্মী দেশে ফিরে এসেছেন। বিদ্যুৎকেন্দ্রের উপব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) আনোয়ারুল আজিম খবরের সত্যতা স্বীকার করে নিয়েছেন। যারা ফিরে এসেছেন, তাদের মধ্যে আটজন ইঞ্জিনিয়ার। একজন অর্থবিভাগের আধিকারিক। গত শনিবার ২৪ জানুয়ারি তারা ভারতে চলে আসেন বলে খবর। তাদের এই ফিরে আসাকে কেন্দ্র করে একটা প্রশ্ন ঘোরাঘুরি করছে –ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই কি এই সিদ্ধান্ত? না কি এর আড়ালে আছে আরো বড়ো কোনও হিসেব? ভারত থেকে কি তাদের ফিরে আসার বার্তা দেওয়া হয়েছে? না কি তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন বলেই ওই আটজন দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন? এই নয়জন কিন্তু কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেয়নি বলেই খবর। এটা শুধু বিস্ময়কর নয়, রীতিমতো উদ্বেগজনক। আনোয়ারুল জানিয়েছেন, “ আটজন ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ার এবং অর্থবিভাগের একজন ভারতীয় আধিকারিক শনিবার কোনও ধরনের আনুষ্ঠানিক নোটিশ ছাড়াই বিদ্যুৎকেন্দ্র ছেড়েছেন। সকালে তাদের কর্মস্থলে দেখতে না পাওয়া শুরু হয় খোঁজ খবর। পরে জানা যায় এই নয়জন ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে চলে গিয়েছে।” যদিও এর ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজকর্মে কোনও প্রভাব পড়বে না বলে দাবি করেন আনোয়ারুল। যদিও এই নিয়ে এনটিপিসির তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওযা যায়নি।
পরে প্রকল্পের পরিচালক রামমাথ পুজারীকে জানানো হলে তিনি সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পুজারী কিন্তু কর্তৃপক্ষকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এনপিটিসির ওই নয়জন কর্মী চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন। যদিও কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিয়েছে, আধিকারিকদের এই হঠাৎ বেরিয়ে যাওয়ায় কারণ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। এই বিদ্যুৎকেন্দ্র কোনও সাধারণ প্রকল্প নয়। এটি এনটিপিসি এবং বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের যৌথ উদ্যোগ।
গত ২০ জানুয়ারি বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশন এবং অন্য কেন্দ্রে নিযুক্ত ভারতীয় কর্মীদের পরিবারকে দেশে ফিরে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভারত বাংলাদেশিদের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে ভিসা। জয়শঙ্করের দফতর থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের পরিস্থিতি বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে হাইকমিশন খোলা থাকবে। সেখানে কাজ হবে স্বাভাবিক নিয়মে। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট। সেখানে মাঝে-মধ্যেই ঘটছে হিংসাত্মক ঘটনা। এই পরিস্থিতিতে ভারতের বিদেশমন্ত্রক সেখানে হাই কমিশন, সহকারী হাই কমিশন এবং অন্যান্য কেন্দ্রে নিযুক্ত কর্মীদের পরিবারদের দেশে ফিরে আসার পরামর্শ দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এই আহবে এনটিপিসির নয়জন কর্মীর বিনা নোটিশে ভারতে চলে যাওয়ার বিষয়টি বিশেষ বার্তা দিচ্ছে।












Discussion about this post