বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আর ছয়দিন বাদে। ভোট নেই আওয়ামী লীগ। কিন্তু না থেকেও তারা প্রবলভাবে আছে। তদারকি সরকার দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। কিন্তু জনতার মনে তাদের নিষিদ্ধ করতে পারেনি। জনমানসে তারা প্রবলভাবে রয়ে গিয়েছে। তার প্রমাণ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও। যদিও নিউজ বর্তমান এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি। ঘটনা বাংলাদেশের জাতীয় প্রেসক্লাব।
ভাইরাল হওয়া ভিডিও এক তরুণীকে বলতে শোনা যায় “ জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। ” তরুণী মুখে এই স্লোগান শুনে আওয়ামী বিরোধী এক নেতা মেজাজ হারিয়ে ফেলেন। অকথ্য ভাষায় দেন গালি। ওই নেতাকে ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে মন্তব্য করেন। এখানেই শেষ নয়। তুই-তোকারি সম্বোধন করে ওই নেতাটিকে তরুণী বলেন, ‘তুই বেয়াদব। তুই যা এখান থেকে।তোরা বাংলাদেশে থাকার দরকার নেই। এই বাংলাদেশ ছাড় তুই। তোর এই বাংলাদেশে থাকার কোনও অধিকার নেই। ’
এই ভিডিও আরও একটি বিষয় প্রমাণ করে দিল যে আসন্ন ভোটকে আওয়ামী লীগ প্রবলভাবে প্রভাবিত করবে। পদ্মাপারে বইতে শুরু করেছে এক অদৃশ্য আওয়ামী হাওয়া। এই হাওয়ার শক্তি এতটাই যে জাতীয় রাজনীতির সব হিসেব উল্টে দেওয়ার মতো ক্ষমতা রাখে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের হিসেব, নেতাদের অনুমান সব কিছু খড়কুটোর মতো উড়ে যাবে। পদ্মায় এতোদিন ধরে তৈরি হচ্ছিল একটি ঘূর্ণাবর্ত। এখন সেটি স্থলভাগে প্রবলভাবে আছড়ে পড়তে চলেছে। এই ভিডিও তার জ্বলন্ত উদাহরণ।
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেও তার প্রভাব যে কোনওভাবেই প্রতিহত করা যাবে না, সেটা জানিয়ে দিল ব্রিটেনের প্রথম সারির একটি দৈনিক গার্ডিয়ান।প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে,and I quote“From her well-guarded, secret hideout in the Indian capital, Delhi, Hasina spends her days in hours of party meetings and calls with her cadre back in Bangladesh. Her political activities take place under the watchful eye of the Indian government – a close ally of Hasina’s when she was in power – which has pointedly ignored Bangladesh’s requests for her extradition.Over the past year, senior party leaders including former MPs and cabinet ministers, have been routinely summoned from Kolkata to meet Hasina to discuss party strategy. Saddam Hussain, president of the Awami league students wing, Bangladesh Chhatra League, was among them.”
আওয়ামী লীগ নেতারা দেশে ফেরার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত। ফিরবেন দলনেত্রী হাসিনাকে সঙ্গে নিয়েই। নির্বাচন হলেও তারা ফিরবেন, না হলেও তারা ফিরবেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের ধারণা হয়েছিল, আওয়ামী অধ্যায় শেষ। দেশে এক নতূন সূর্য উঠবে। এই ভবিষ্যত্বাণী করার আগে তারা ভুলে গিয়েছিল একটি কথা –“শেষ নাহি যে, শেষ কথাটি বলবে, /আঘাত হয়ে দেখা দিল/ আগুন হয়ে জ্বলবে। ” তাদের ক্ষেত্রে যেটা হয়েছিল তা হল “ফুরায় যা তা ফুরায় শুধু চোখে।”
আওয়ামী লীগ শুধু চোখেই ফুরিয়ে ছিল। মানুষ মনন থেকে, হৃদয় থেকে নয়। ব্রিটেনের ওই পত্রিকা তাদের প্রতিবেদনে সেটাই তুলে ধরেছে। প্রতিবেদনে কলকাতায় আশ্রয় নেওয়া আওয়ামী লীগ নেতা তানভির শাকিল জয়ের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। জয় স্বীকার করে নিয়েছেন তাদের শাসনামলে কিছু ভুল ত্রুটির কথা। দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছেন, এটা স্বীকার করে নিতে হয় যে আমরা পুরোপুরি নিষ্কলুসিত নই। (I can admit we were not saints.)এমনকী দীর্ঘ ১৫ বছরের তাদের শাসনে যে আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে সেটাও স্বীকার করে নিয়েছেন ওই আওয়ামী লীগ নেতা। বলেছেন, “irregularities, definitely.There were financial things that should not have taken place and we have to take blame for that”. একই সঙ্গে এটাও বলেছেন, আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে ২০০ বিলিয়ন ডলার সাইফুন করার যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা অসত্য।
প্রশ্ন হল, কেন আওয়ামী লীগকে কোনওভাবে প্রতিহত করা সম্ভব নয়। প্রথমত সাংগঠনিক ভিত্তি। দলটাকে তিলে তিলে তৈরি করেছেন মুজিব এবং পরবর্তীকালে তাঁর কন্যা। দ্বিতীয় কারণ, দলটির আর্থিক সামর্থ্য। এটিকে সচল রাখার জন্য আওয়ামী লীগ এখন তহবিল করতে শুরু করেছে। তৃতীয়ত তাদের রয়েছে আন্তর্জাতিক সংযোগ। এছাড়াও রয়েছে ভারত সরকারের নীরব সমর্থন। প্রবাসে থাকা বহু বাংলাদেশির এখনও আওয়ামী লীগের প্রতি সমর্থন রয়েছে। আওয়ামী লীগ মানে একটি আবেগ, যে আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধ। সেই দলকে যে কোনও পরাশক্তি প্রতিহত করতে পারবে না, সেটা ক্রমেই যেন স্পষ্ট হয়ে উঠছে।












Discussion about this post