বাংলাদেশের ক্ষমতায় বিএনপি। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর সরকার গঠন করেছে তারেক রহমান। জয়ের পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। এই আলাপচারিতাকে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেখুন সব কিছুরই কিছু দিক রয়েছে। আর রাজনীতিতে পরিবর্তন এমনি এমনি হয় না। কারও সঙ্গে কারও কথা বা, দেখা করা বা ফোনালাপ এমনি এমনি হয় না। ইতিহাস বলছে, প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা-দেখা, সাক্ষাৎয়ের যথেষ্ট কারণ থাকে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিএনপির সঙ্গে তারেকের এত ভালো সম্পর্ক, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কিছু reason আছে। লন্ডন থেকে তারেক ফেরার পর খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর যান। তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেন। তারেকের সঙ্গে দেখা করলেও কিন্তু জয়শঙ্কর ইউনূসের সঙ্গে দেখা করেননি। যা নিয়ে কম চর্চা হয়নি এপার বাংলা, ওপার বাংলায়। অন্যদিকে তারেক শপথ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের সামনে মুখোমুখি হয়ে বলেছিলেন, ‘‘আমরা আমাদের বিদেশনীতি নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছি। এই নীতি তৈরি হবে বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশিদের স্বার্থের উপর। সেখানে সর্বদাই বাংলাদেশ এবং দেশের নাগরিকদের স্বার্থ অগ্রাধিকার পাবে। হাসিনার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, পুরোটাই আইনি ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করবে। কারণ শেখ হাসিনা ভারতে রয়েছে। বাংলাদেশের গুঞ্জনে এখন প্রায় শোনা যাচ্ছে, বিএনপি ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনবেন। শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনবেন। বিরোধী দল হিসেবে জামাত না আওয়ামী লীগ থাকবে। একটা বিষয়, তারেক প্রধানমন্ত্রী হবার পর তারেককে উদ্দেশ্য করে কোনও কটু কথাও বলেননি। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে আওয়ামী লীগের একের পর অফিস, কার্যালয় খুলে দেওয়া হচ্ছে। শুধু যে অফিস, কার্যালয় খুলে দেওয়া হচ্ছে সেটার থেকেও বড় ব্যাপার বিএনপির নেতারা পাশে দাঁড়িয়ে এই কাজগুলি করছে। আওয়ামী লীগের অনেক নেতারা যারা গট ১৮ মাসে বাড়ির বাইরে ছিলেন, ইউনূসের অত্যাচারের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে তারা এখন ফিরে এসেছে। তারা বলছে, আমরা এই দিনটির জন্যই অপেক্ষা করছি। আবার শেখ হাসিনা ভারতে বসেই ভোটের আগে, ভোটের পরে একের পর এক বক্তব্য দিচ্ছেন। ঠিক আর একদিন পর ফেব্রকুয়ারী শেষ তারপরি মার্চ। কেন বললাম হঠাৎ করে মার্চের কথা? মার্চ মানে আবেগ, মার্চ মানে ইতিহাস, মার্চ মানে আন্দোলন। কারণ মার্চ মাস বাংলাদেশের ইতিহাসে ‘স্বাধীনতার মাস’ বা ‘গণজাগরণের মাস’ হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই মাসেই ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ডাক দেন, ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনী গণহত্যা শুরু করলে ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয় এটি বাঙালি জাতির দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের সূচনা এবং জাতীয়তাবোধের প্রতীক। মঙ্গলবার শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালী ওয়ার্কিন কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে বঙগবন্ধুর মেয়ে বলেন, মানসিক প্রস্তুতি নিতে হবে। সবাইকে দেশে ফিরতে হবে। নামতে হবে ময়দানে। তিনি জোর গলায় দাবি করেছেন, আন্তর্জাতিক মহল বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অনুমোদন করবে না। তারেকে চাপে ফেলতে আওয়ামী লীগ তিনটি তারিখ বেছে নিয়েছেন। তারিখগুলি হল ৭, ১৭ এবং ২৬ মার্চ। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ৭, ১৭ এবং ২৬ মার্চের কারণে মার্চ মাসকে সে দেশে বলা হয়ে থাকে স্বাধীনতার মাস। মঙ্গলবার দলের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে নেতাদের হাসিনা বলেছেন ওই দিনগুলি সর্বশক্তি দিয়ে পালন করতে হবে। গলি থেকে রাজপথ সর্বত্র স্বাধীনতা দিবসের বেদি বানিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতে হবে। শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যেতে হবে ধানমন্ডি ৩২-এ বঙ্গবন্ধুর বাড়ি এবং গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তাঁর সমাধি ক্ষেত্রে। তারেক ক্ষমতায় বসার পর শেখ হাসিনা হঠাৎ করে কেন বা ৩ দিন বেছে নিলেন, কী বার্তা তিনি দিতে চাইছেন? হাসিনা মনে করেন এই ৩ দিনে যদি সকলে একত্রিত হয়ে মাঠে নামেন তাহলে বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস ফিরে আসবে। মার্চ মাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন হল ১৭ ই মার্চ। ওই দিন হাসিনার পিতা শেখ মুজিবর রহমানের জন্মদিন। এই দিনটি আওয়ামী লীগের অস্বিস্তের প্রতীক। শেখ হাসিনা চাইছেন জাতির পিতা জন্মদিন পালন করার অদিকার সবার। এটি বর্তমান সরকারের বার্তা দিলেন নেত্রী , জাতীয় প্রতীককে নিষিদ্ধ কার যাবে না। ২৬ য়ে মার্চ স্বাধীনতা দিবস ওই দিন যদি আওয়ামী লীগ ময়দানে না থাকে তাহলে প্রশ্ন উঠবে, স্বাধীনতা দজিবস কী দলীয়? হাসিনার বার্তা পরিস্কার, এই দিনটি পালন করা নাগরিকের অধিকার। এই বার্তার মদ্যে দিয়ে নেত্রী চাপ দিয়েছেন, প্রশাসনকে এবং সরকারকে। নেত্রী দেখতে চাইছেন নতিন সরকার তাদের উপর কতটা সহনশীল। দেখতে চায় নেত্রী যে বিএনপি তাদের মাঠে নামতে দেয় না কি বাধা দেবে। যদি তারেকের সরকার বাঁধা দেয় তাহলে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠবে, জাতীয় দিবস পালন করতে না দেওয়াল কী গণতন্ত্রের আচরণ। ২৬ বয়ে মার্চ স্বাধীনবতা দিবস েই দিনগুলিতে যদি কোনও সরকার বাধা দেয় তাহলে আন্তর্জাতিক মহলে নজর পড়লেও পড়তে পারে। নেত্রী বক্তব্যে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, আমরা নিষিদ্ধ হতে পারি, দল নিষিদ্ধ হতে পারে তবে ইতিহাস নয়। মানুষ ইতিহাসকে কোনও দিন ভুলতে পারবে না। কঠিন কথা বলেছেন শেখ হাসিনা বলেন, জেলকানার কয়েদিরা আপনারা স্বাধীনতা দিবস পালন করুন যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজডনৈতিক মহলে। এখন দেখার এই ৩দিন অর্থার ৭, ১৭ এবং ২৬ মার্চ কী হবে?












Discussion about this post