মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব অনেক আগেই দক্ষিণ এশিয়ায় পড়তে শুরু করে। দেখা দিয়েছে জ্বালানি সংকট। বাজার অগ্নিমূল্য। ভারতে এর প্রভাব যতনা দৃশ্যমান তার থেকেও প্রবলভাবে দৃশ্যমান পদ্মাপারে। সেখানকার অধিকাংশ পেট্রোল পাম্প বন্ধ। নতুন সরকার বলছে, তরল সোনা নিয়ে অযতা আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। দেশে তেল মজুদ রয়েছে। অযথা আশঙ্কা করতে হবে না। কিন্তু সরকারের সেই আশ্বাসে চিঁড়ে ভিজছে না। মানুষ এক পেট্রোলপাম্পে তেল না পেলে অন্য পেট্রোলপাম্পে ছুটে যাচ্ছে। প্রয়োজনের তুলনায় তেল কিনে রাখছে। পরিস্থিতির সঙ্গে কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, তা খতিয়ে দেখতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জরুরী বৈঠক ডাকেন। ওদিকে, হরমুজ প্রণালী কবে খুলবে তার কোনও দিনক্ষণ এখনও জানা যায়নি। ট্রাম্পের হুমকির কাছে কোনওভাবেই মাথায় নত করতে রাজি নয়। ফলে, এই যুদ্ধ যে আরও দীর্ঘ হবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কোনও কোনও মহল থেকে আবার বলা হচ্ছে এই যুদ্ধ আসলে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের হওয়ার কথা ছিল।
অভিযোগ উঠছে পূর্বতন ইউনূস সরকার এবং সেনাবাহিনীর একাংশ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশকে যুদ্ধে জড়িয়ে দেওয়ার ছক তৈরি করেছিল। এটা করা হয়েছিল খুব কৌশলে। এই প্রসঙ্গে বেশ কয়েকজন জুলাই যোদ্ধার নাম করতে হয়। তারা লাগাতার হুমকি দিয়ে এসেছে। বলে এসেছে সেভেন সিস্টার্স কেড়ে নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে জুড়ে দেবে। এখানেই শেষ নয়। হাদি হত্যার ঘটনায় এই জুলাই যোদ্ধারা এবং ইউনূস সরকার ভারতকে কাঠগড়ায় তোলার কম চেষ্টা করেনি। কিন্তু তাদের কোনও কৌশল কাজে আসেনি। আগের সরকারের গোপন অভিসন্ধি ছিল তারা দিল্লির সামনে টোপ দেবে আর দিল্লি সেই টোপ গিলে তাদের ওপর হামলে পড়বে। কিন্তু সাউথব্লকের কুটনীতির কাছে হার মানতে বাধ্য হয়েছে ইউনূস গ্যাং এবং জুলাই যোদ্ধারা। আর এই বিষয়ে আরও একটা কথা বলে রাখা ভাল। তাদের সঙ্গে ছিল পাকিস্তান।
ভারতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশকে রীতিমতো উস্কানি দিয়েছে পাকিস্তান। প্রকাশ্যে যুদ্ধের হুমকি দেন পাকিস্তান মুসলিম লিগের যুব শাখার সভাপতি কামরান সইদ উসমানি। তাঁর দাবি, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারত কোনও পদক্ষেপ নিলে ঢাকার পাশে দাঁড়াবে ইসলামাবাদ। ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষিতে পাকিস্তানের শাসক দলের নেতার এই মন্তব্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ, মত বিশ্লেষকদের।
ভিডিও বার্তায় কামরান সইদ উসমানি বলেন, ‘ভারত যদি বাংলাদেশের উপর আক্রমণ করে, যদি কেউ বাংলাদেশের স্বাধীনতার দিকে কুনজর দেয়, তা হলে পাকিস্তানের জনগণ, পাক সেনা এবং আমাদের মিসাইল বসে থাকবে না।’ তাঁর দাবি, বাংলাদেশকে ‘অখণ্ড ভারতে’র অধীনে আনতে চায় নয়াদিল্লি। মেনে নেবে না পাকিস্তান, বার্তা পিএমএল নেতার। এখানেই থামেননি। ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের অতীত সামরিক সংঘর্ষের প্রসঙ্গও টেনে আনেন। বলেন, ‘অপারেশন বুনিয়ান-ই-মার্সুস’-এর সময় যেভাবে ভারতকে চাপে ফেলা হয়েছিল, প্রয়োজনে সেই পরিস্থিতিই আবার তৈরি করা হবে।’
ওসমানির প্রস্তাব, পাকিস্তান যেন বাংলাদেশে একটি সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করে। আবার বাংলাদেশও যেন পাকিস্তানে একটি সামরিক ঘাঁটি গড়ে তোলে। দুই দেশের সামরিক বাহিনীর দুর্দশার প্রেক্ষিতে তা কার্যত অবাস্তব বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখনও পর্যন্ত পাকিস্তান সরকারের তরফে বা সে দেশের সেনাবাহিনীর তরফে কামরান সইদ উসমানির বক্তব্যের প্রেক্ষিতে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। একই ভাবে, বাংলাদেশ সরকারও এই মন্তব্য নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে। কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এটি আদতে এক যুবনেতার উগ্র বক্তব্য। এর সঙ্গে রাষ্ট্রীয় নীতি বা বাস্তবের সরাসরি মিল নেই। সবই ঘোলা জলে মাছ ধরে জনপ্রিয়তা লাভের চেষ্টা মাত্র। তবু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। এই ধরনের হুমকি-জোট প্রস্তাব কি দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি করছে?











Discussion about this post