ক্ষমতার মধুর স্বাদই আলাদা। ভাণ্ডারে যতদিন তা মজুত থাকে, ততদিন দু’হাত দিয়ে চেটেপুটে খাওয়া যায়। ভাণ্ড তলানিতে ঠেকলে শুরু হয় আবার মধুর খোঁজ। মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে খেতে হয় হুলের খোঁচা। সেই খোঁচা কেমন, সেটা যারা খেয়েছেন, তারা জানেন। প্রসঙ্গ তোলার কারণ তদারকি সরকার এবং তাঁর সঙ্গী-সাথিরা। তারা একসময় ক্ষমতায় ছিল। সেই সুবাদে তারা গত ১৮ মাস ধরে দু হাত ভরে মধু খেয়েছে।বিলিয়েছে। শুধু দেশে নয়, বিদেশেও। তাদের হাতে মধু খেয়ে ডিপ স্টেট এই দেড় বছরে কত কারসাজি করেছে, তা আর নতুন করে বলার দরকার পড়ে না। কিন্তু আমেরিকাকে চিনতে তারা মারাত্মক ভুল করেছিল। তাদের ভুল হয়েছিল বোঝার ক্ষেত্রে। আমেরিকা ততক্ষণ পর্যন্ত সেই দেশের মাথা বা মাথাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখে যতদিন না তাদের স্বার্থ পূরণ হচ্ছে। স্বার্থ মিটলে তারা দেশটিকে জঞ্চালে পাঠিয়ে দিতে দ্বিতীয়বার ভাবে না। বাংলাদেশের তদারকি সরকারের ক্ষেত্রে সেটাই হয়েছে। বাংলাদেশে পালাবদলের পিছনে যে তাদের হাত ছিল সেটা এখন দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এই প্রসঙ্গে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের কথা উল্লেখ করতে হয়।
হাসিনা যখন ক্ষমতায় ছিলেন, সেই সময় এই দ্বীপ আমেরিকা তাদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য নানাভাবে চাপ দিয়েছিল। হাসিনা পরিষ্কার জানিয়েছিলেন, তিনি কোনওভাবেই দেশের স্বাধীনতা জলাঞ্জলি দিয়ে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ তাদের হাতে তুলে দেবেন না। তার জন্য তাঁকে ক্ষমতা থেকে চলে হলে তিনি চলে যাবেন। হাসিনা চলে গিয়েছেন। ইউনূস ক্ষমতায় এসেছেন। আমেরিকা যখন দেখল তাঁকে দিয়ে তাদের আর কোনও স্বার্থ পূরণ হবে না, তারা তখনই ইউনূসকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিল। এবার ক্ষমতায় আসীন হয়েছেন তারেক। তিনি কতদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেন সেটা এখন দেখার। তবে তিনি তাঁর গদি মজবুত করতে একের পর এক পদক্ষেপ নিয়ে চলেছেন।
একে একে ধরা পড়ছেন ১/১১ য়ের কুশীলবেরা। প্রথমে গ্রেফতার করা হয় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে। তারপরে গ্রেফতার করা হয় ডিজিএফআইয়ের প্রাক্তন শীর্ষকর্তা জেনারেল শেখ মামুন খালেদকে। তবে এই ১/১১ প্রসঙ্গ এলে সবার আগে নাম আসে পূর্বতন তদারকি সরকার প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের। তাঁকেই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে সূত্রের খবর। তবে তিনি ক্ষমতায় আসীন হতে চাইছিলেন না বলেই খবর। কারণ, তার ইচ্ছা ছিল, বলা ভালো পরিকল্পনা ছিল স্বল্প মেয়াদে ক্ষমতায় টিকে থাকা নয়, দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষমতায় টিকে যাওয়া। প্রধান উপদেষ্টার পদে আসীন হওয়ার কোনও ইচ্ছে তার ছিল না বলেই তিনি তাঁর ঘনিষ্ঠমহলে জানিয়েছিলেন। তাঁর পরিকল্পনা ছিল ভোটে জনতার রায় মাথায় নিয়ে ক্ষমতায় আসীন হতেন।
সূত্রের খবর, ১/১১-য়ের সময় থেকেই তিনি এই পরিকল্পনা চালিয়ে গিয়েছিলেন। প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায় বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। ফলে, তাদের চাপে পড়ে ইউনূসের দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতায় থেকে যাওয়ার বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়। এখন প্রশ্ন উঠেছে, ১/১১-য়ের চক্র ভেদ হওয়ার পর কি ইউনূস আইনের আওতার বাইরে থাকবেন। কারণ, এই সব পরিকল্পনা তো তাঁর মস্তিষ্ক প্রসূত। তাঁর দাবি, ২০২৪-য়ের গণঅভ্যুত্থান আসলে মার্কিন ডিপ স্টেটের একটি পরিকল্পনা। তবে ২০০৭-য়ের ঘটনাকে কী হিসেবে দেখা হবে, সেই প্রশ্ন এখন উঠতে শুরু করেছে। ২০০৭ সালের ঘটনায় সব থেকে বেশি যে দলটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, সেই দলটির নাম বিএনপি। তাই, বিএনপি এখন ক্ষমতায় এসে, সেই মেটিকুলাশ ডিজাইনের কুশীলবদের বিচারের আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রথম গ্রেফতার করা হয় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে। প্রশ্ন উঠছে, গত দেড় বছরে যে লোকটির জন্য একটি দেশ কার্যত আমেরিকার কাছে বিক্রি হয়ে গিয়েছিল, সেই ইউনূসকে কবে গ্রেফতার করা হবে?












Discussion about this post