লজ্জা বললে কম বলা হবে? লজ্জাস্কর শব্দটিও ঘটনার সঙ্গে বেমানান।
একটি দেশ আচমকাই জন্মগ্রহণ করে না। বিভিন্ন ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করে, একের পর এক বাধা পেরিয়ে একটি দেশের আত্মপ্রকাশ ঘটে। ভারত একসময় ব্রিটিশদের শাসনাধীন ছিল। দেশটিকে তাদের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করতে প্রাণ দিতে হয়েছে বহুজনকে। তাদের মধ্যে বহু বিপ্লবীর নাম আমাদের জানা। ইতিহাসের পাতা উলটে আমরা জেনেছি দেশ স্বাধীন হওয়ার পিছনে তাদের অবদানের কথা। স্বাধীনতা আন্দোলনের পথ কী হবে, তা নিয়ে শীর্ষস্তরে মতপার্থক্য থাকলেও একটি বিষয়ে তাদের মধ্যে কোনও মতপার্থক্য ছিল না। আর সেটি হল স্বাধীনতা। ভারত আজ স্বাধীন একটি রাষ্ট্র। আর দেশ স্বাধীন হওয়ার পিছনে যে সব বিপ্লবীদের অবদান ছিল, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ভারতের ক্যালেন্ডারে বেশ কয়েকটি দিন রয়েছে। দু একটি দিনের কথা উল্লেখ করতে হয়। ২৩ জানুয়ারি। আমরা জানি দিনটি নেতাজি জন্মজয়ন্তী হিসেবে পালিত হয়। নেতাজির জন্ম বাংলায় হলেও তিনি গোটা দেশের মানুষের কাছে স্বাধীনতা আন্দোলনের মুখ হয়ে উঠেছিলেন। আবার ভগত সিংয়ের কথাও বলা যেতে পারে। বলা যেতে পাবে জাতির জনক মহাত্মা গান্ধির কথা।
এই গৌড়চন্দ্রিকা রচনার কারণ বাংলাদেশ। আরও সুস্পষ্টভাবে সে দেশের পূর্বতন সরকার। তারা যা করেছে, সেটা কুকীর্তি বললে কম বলা হবে। তাদের কীর্তির নিন্দা করার মতো ভাষা খুঁজে পাওয়া যাবে না। একে অনেকে বলছেন, দেশের সঙ্গে, দেশবাসীর সঙ্গে সর্বোপরি মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করেছেন। দেশবাসীর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। দেখে নেওয়া যাক একবার তাদের সেই সব কুকীর্তির নমুনা। ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের উত্তর রহিমাপুর এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায় (৭৫) ও তাঁর স্ত্রী সুবর্ণা রায় (৬০)-এর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।তৎকালীন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এক পর্যায়ে বলেন, ‘হত্যা বন্ধে কোনো ম্যাজিক বা সুইচ অন-অফের মতো কিছু নেই।’ অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অন্যতম আলোচিত ঘটনা ছিল মুক্তিযোদ্ধার গলায় জুতার মালা পরিয়ে ঘোরানো।
২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের বাতিসা ইউনিয়নের কুলিয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই কানুকে এমন নজিরবিহীন অপমান করা হয়। ২০২৫ সালের ১৮ জুলাই দিনাজপুরের খানসামায় মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন সরকার ফজরের নামাজ পড়তে মসজিদে যাওয়ার সময় তাঁর ওপর হামলা চলে। ওই বছর ৬ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে টাঙ্গাইল শহরের আকুরটাকুরপাড়ায় মুক্তিযোদ্ধা বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। শরীয়তপুরে জমিসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই মুক্তিযোদ্ধার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর পর থেকে একজন কার্যত এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। ঘটনাটি ২০২৫ সালের ৩১ মার্চের। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রশিদ সিকদার এবং তাঁর তিন ছেলে নিজেদের জমি মাপজোখ করতে গেলে প্রতিবেশী জব্বার শিকদার বাধা দেন। এ বিষয়টি পুলিশকে জানানোর পরদিন সকালে জব্বারের লোকজন মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁর তিন সন্তানের ওপর হামলা করে। ওই ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা রশিদ গুরুতর আহত হন।
২০২৫ সালের ১৮ জুলাই দিনাজপুরের খানসামায় মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন সরকার ফজরের নামাজ আদায় করার জন্য মসজিদে যাওয়ার পথে হামলার শিকার হন। তাঁকে হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। ২০২৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে টাঙ্গাইল শহরের আকুরটাকুরপাড়ায় মুক্তিযোদ্ধা বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
আবার ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের তারাব পৌরসভার রূপসী বাগবাড়ী এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা এ বি এম শামসুল আলমের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। ২০২৫ সালের ২৬ এপ্রিল চাঁপাইনবাবগঞ্জে অপদস্থ হন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ইউনিটের সাবেক সহকারী কমান্ডার মো. তরিকুল আলম। এছাড়াও তাদের আরও কুকীর্তি রয়েছে। যা বলে শেষ করা যাবে না। অপেক্ষা শুধু হাসিনার প্রত্যাবর্তনের।












Discussion about this post