প্রশ্নটা আরও একবার উঠতে শুরু করেছে। এই প্রশ্ন আমাদের সকলের জানা। বাংলাদেশে পূর্বতন তদারকি সরকারের আমেল এই নিয়ে কম চর্চা হয়নি। বিশেষ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ক্ষণ ঘোষণার পর প্রশ্নের গুরুত্ব আরও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়। তাঁর কারণ ছিল। দলটিকে নিষিদ্ধ। তাই, তারা নির্বাচনে অংশ নেয় কি না বা তাদের অংশ নিতে দেওয়ার বিষয়ে ইউনূস সরকারের মনের বদল হয় কি না, সেটা অনেকেই দেখতে চেয়েছিলেন। ভোটর দিন যত কাছে এসেছে আওয়ামী লীগের ব্যাপারে অবৈধ সরকারের দৃষ্টিভঙ্গী স্পষ্ট থেকে সুস্পষ্ট হয়েছে। তারা যে আওয়ামী লীগকে কোনওভাবেই ভোটযুদ্ধে অংশ নিতে দেবে না, সে ব্যাপারে কারও মনেই কোনও দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছিল না। অবৈধ সরকার গিয়েছে। জনতার রায়ে জয়ী হয়েছে বিএনপি। তারা পেয়েছে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হয়েছেন।
যদিও তার এই ক্ষমতায় আসীন হওয়া নিয়ে নানা মহল থেকে নানা প্রশ্ন উঠছে। কোনও কোনও মহল থেকে বলা হচ্ছে তারেক রহমানের ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পিছনে আমেরিকার একটা সক্রিয় ভূমিকা ছিল। তারা চেয়েছিল ক্ষমতার পালাবদল। এবং সেটা যে পুরোপুরি তাদের স্বার্থের সঙ্গে জড়িত তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। হাসিনা সরকারের দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষমতায় থেকে যাওয়া, সেই সরকারের পতন, ইউনূসের উত্থান ও পতন, তারেকের ক্ষমতায় আসীন হওয়া – সব কিছুই আসলে মার্কিন লুডোর চাল। এবার তারা কী চাল দেয়, সে দিকে তাকিয় সব পক্ষ।
প্রশ্ন এবার আওয়ামী লীগকে নিয়ে? হাসিনা তাঁর দলের নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ দিয়েছেন। যারা বিদেশে রয়েছেন, তাঁদের তিনি দেশে ফিরতে বলেছেন। কারণ, সামনেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটিকে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও যদি তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পারে, তাহলে দলটি অস্তিত্ব সংকটে পড়ে যাবে। তবে কি দল এবার স্বমহিমায় ফিরতে চলেছে। কোনও কোনও রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, আওয়ামী লীগ এই ব্যাপারে বেশ অনিশ্চিত। দলের অনেকে জেলে আছে। কখনও কখনও তারেক সরকারের দায়ের ওপর তাদের নির্ভর করতে হতে পারে। আওয়ামী লীগ এবং ওই দলের নেতাদের অনেকের বিরদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে।
যদিও সব মামলা হয়েছে তদারকি সরকারের আমলে। তাই, এই ক্ষেত্রে বিএনপির করণীয় কিছু নেই। তারা এসেছে মাত্র এক মাস হল। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের অনেকের সঙ্গে টেলিফোন বা সোশ্যাল মিডিয়ায় শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। দলের সঙ্গে এই প্রথম যে এই ধরনের ঘটনা ঘটল এমনটা নয়। আমিনা বেগমের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। তিনি আওয়ামী লীগ অফিসে প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখতেন। আবার জোহরা তাজুদ্দিনের মতো মাঝারি মানের নেতাকেও হাল ধরতে দেখা গিয়েছে। সংকটকালে তাদের মতো অনেকে হাল ধরেছিলেন।
কিন্তু দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ ক্ষমতার বাইরে থাকায়, দলের তেমন কোনও কার্যক্রম না থাকায় ভিত অনেকটা নরম হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। দলের কয়েকজন নেতার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তারা এই দীর্ঘ সময়ে ছিলেন নিষ্ক্রিয়। কোনও কোনও ব্লিশেষকেরা বলছেন, দীর্ঘ ২১ বছর বাদে একবার তারা ক্ষমতায় ফিরেছিলেন। এবার লাগ ৪২ বছর। বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য অত্যন্ত জরুরী ছিল আওয়ামী লীগ।
হাসিনা সেটা বুঝতে পেরেছেন। বুঝতে পেরেছেন দলে এমন কিছু নেতা রয়েছেন, যারা দলের হয়ে কিছু করেননি। দলের প্রভাব খাটিয়ে তারা ধনশালী হয়েছেন। এদিকে, আবার জামায়াতের রকেট গতিতে উত্থান ঘটেছে। এই অবস্থায় আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন নিয়ে আরও একবার আলোচনা শুরু হয়েছে। সেই আলোচনা উস্কে দিয়েছে তারেক রহমানে একটি মন্তব্য। তিনি কোনও রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণার পক্ষে নয়। তারেক সরকারকে ঘিরে মানুষের প্রত্যাশা কিন্তু অনেক। সেই প্রত্যাশা সরকার কতটা পূরণ করতে পারে সেটাই দেখার।












Discussion about this post