এই রাজ্যে বিরোধী ইন্ডিয়া জোটে নেই তৃণমূল। বাংলার ৪২টি আসনের সবকটিতেই লড়ছে শাসকদল। তবুও লোকসভা ভোটের চারটি পর্ব হয়ে যাওয়ার পর আচমকা শোনা যাচ্ছে তৃণমূল নেত্রীর মুখে ইন্ডিয়া জোটের নাম। তবে এই রাজ্যে বাম-কংগ্রেস জোট করলেও তৃণমূলের সঙ্গে সরাসরি লড়াইয়ে রয়েছে। এই আবহে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী প্রতি পদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করছেন। যা নিয়ে উস্মা প্রকাশ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার সেই অধীর চৌধুরী প্রসঙ্গে কড়া শব্দ শোনা গেল জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের মুখে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইন্ডিয়া জোটের অংশ। এটা অধীর চৌধুরী মানতে বাধ্য। আর এটা যদি তিনি না মানতে পারেন তাহলে বেরিয়ে যেতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি।
২০২৪ লোকসভা ভোটের আগে বিজেপি বিরোধী জোটের নাম ‘ইন্ডিয়া’ রেখেছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। মূলত তিনিই সমস্ত বিরোধী দলকে এক ছাতার তলায় নিয়ে আসার কাজে ব্রতী হয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর নিজের রাজ্যেই জোটধর্ম পালন করেননি বলে অভিযোগ অধীরের। এই রাজ্যে কংগ্রেসের সঙ্গে আসন রফা করার চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে একাই ৪২ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেন মমতা। পাল্টা কংগ্রেস সিপিএম জোট করে রাজ্যে লোকসভার লড়াইয়ে অবতীর্ণ। শাসকদল তৃণমূলের বক্তব্য, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর বাম প্রীতিই এর জন্য দায়ী। বাংলায় চার দফা ভোট ইতিমধ্যেই হয়ে গিয়েছে। আর বাকি তিন দফা। এবার ভোট দক্ষিণবঙ্গে। এই আবহে তৃণমূল নেত্রীর মুখে বারবার প্রতিধ্বনিত হচ্ছে ইন্ডিয়া জোটের কথা। তিনি বলছেন, তৃণমূলই নেতৃত্ব দিয়ে দেশে ইন্ডিয়া জোটের সরকার গড়ে দেবে। তৃণমূল নেত্রীর এই বক্তব্যকে কটাক্ষ করেছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। যা নিয়ে উস্মা প্রকাশ করেন মমতা।
এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে জাতীয় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে কড়া প্রতিক্রিয়া দিলেন। তিনি বলেন, ভোটের পর সরকার গঠনের প্রক্রিয়া কি হবে সেটা নিয়ে অধীর চৌধূরী কেউ নন। সেটা ঠিক করবে কংগ্রেস হাইকমান্ড।এরপরই অধীর চৌধুরীকে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে খাড়গে বলেন, ‘হয় হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত মানতে হবে, না হলে বেরিয়ে যেতে হবে’।












Discussion about this post