বাংলাদেশে সংরক্ষণ বিরোধী আন্দোলনকারীদের বড় জয়। সে দেশের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে, ফিরছে পুরোনো নিয়মই। ৯৩ শতাংশ নিয়োগ হবে মেধার ভিত্তিতে। রবিবার বাংলাদেশে সংরক্ষণ নিয়ে হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে মামলার শুনানি হয় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে। শুনানির পর বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিনউদ্দীন বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, হাইকোর্টের রায় বেআইনি ছিল। মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য সরকারি চাকরিতে পাঁচ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। অন্যান্য শ্রেণির জন্য থাকবে আরও দুই শতাংশ সংরক্ষণ।’ আপিল বিভাগের তরফে বলা হয়েছে, “এবার থেকে সরকারি চাকরিতে ৯৩ শতাংশ নিয়োগ করা হবে মেধার ভিত্তিতে। বাকি ৭ শতাংশ সংরক্ষিত থাকবে। এর মধ্যে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের জন্য, ১ শতাংশ নৃগোষ্ঠী এবং ১ শতাংশ প্রতিবন্ধী-তৃতীয় লিঙ্গের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।” শুনানি শেষে আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের প্রতিনিধি শাহ মঞ্জুরুল হক বলেন, “এটি ঐতিহাসিক রায়। সকলে যেন এই রায় মেনে নেন। শিক্ষার্থীরা ঘরে ফিরে যান।”
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা, মহিলা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এবং প্রতিবন্ধী মোট পাঁচ শ্রেণির জন্য মোট ৫৬ শতাংশ সংরক্ষণ ছিল। সেই সংরক্ষণ বাতিলের দাবিতে প্রতিবাদ শুরু হয়। গত কয়েক দিন ধরে সংরক্ষণ সংস্কারের দাবিতে উত্তাল বাংলাদেশ। ঢাকার রাস্তায় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারী ছাত্রদের সংঘর্ষে প্রাণ গিয়েছে ১১৫ জনের। আহত একাধিক। পরিস্থিতি সামাল দিতে নামানো হয়েছে সেনা। শুক্রবার রাত থেকে সেদেশে কার্ফু জারি করেছে শেখ হাসিনা সরকার।
উল্লেখ্য, জনজাতিদের ৫ শতাংশ এবং প্রতিবন্ধীদের ১ শতাংশ সংরক্ষণ সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে গিয়েছিল মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবার। চলতি বছরের ৫ জুন হাইকোর্ট সংরক্ষণের সিদ্ধান্তকে খারিজ করে পুরোনো নিয়মই ফিরিয়ে আনে। আগের মতো সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালু হয় বাংলাদেশে। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল সরকার। রবিবার বাংলাদেশের সুপ্রিমকোর্ট খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্টের নির্দেশ।












Discussion about this post