ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চিঠি লিখেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব আরও দৃঢ় করার বার্তাও দিয়েছেন। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাই কমিশন বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানিয়েছে। চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের জনগণ ও সরকারের পক্ষ থেকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের এই আনন্দঘন উৎসব উপলক্ষে আপনাকে এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা।’ রমজান মাসের আধ্যাত্মিক তাৎপর্য তুলে নমো বলেন, ‘পবিত্র রমজান উপলক্ষ্যে গত এক মাস ধরে ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা রোজা ও ইবাদতের মাধ্যমে সময় অতিবাহিত করেছেন।’
ঈদের মূল্যবোধের কথা উল্লেখ করে প্রধামন্ত্রী বলেন, ‘ঈদুল ফিতর উদযাপন আমাদের সহানুভূতি, ভ্রাতৃত্ব ও একাত্মতার চিরন্তন মূল্যবোধের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। আমরা বিশ্বব্যাপী মানুষের শান্তি, সম্প্রীতি, সুস্বাস্থ্য ও সুখ কামনা করি।’ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সৌহার্দ্যের বন্ধন আরও দৃঢ় হোক।’ বার্তার শেষে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেকের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান ও শুভকামনা পুনর্ব্যক্ত করেন। এর পরেই দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের কথা তোলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। চিঠিতে লেখেন, ‘‘বিশ্বের সকলের জন্য শান্তি, সম্প্রীতি, সুস্বাস্থ্য কামনা করছি। আমাদের এই দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব, সৌহার্দ্যের বন্ধন আরও দৃঢ় হোক।’’
চাঁদ দেখা না যাওয়ায় শুক্রবার বাংলাদেশে ঈদ পালিত হচ্ছে না। সে দেশের সংবাদমাধ্যমগুলি জানিয়েছে, বাংলাদেশে ঈদ উদ্যাপিত হবে শনিবার। মোদি তাঁর শুভেচ্ছাবার্তায় লিখেছেন, ‘‘ভারতের মানুষ এবং ভারত সরকারের পক্ষ থেকে আপনাকে এবং বাংলাদেশের মানুষকে ঈদ-উল-ফিতরের শুভেচ্ছা। গত এক মাস ধরে ভারত-সহ গোটা বিশ্বের মুসলিমরা নিষ্ঠার সঙ্গে রমজান মাস পালন করেছেন। ঈদের উদ্যাপন তাঁদের সহানুভূতি, ভ্রাতৃত্ব এবং একতার মতো চিরন্তন মূল্যবোধগুলিকে স্মরণ করিয়ে দেয়।’’ এর পরেই দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের কথা তোলেন প্রধানমন্ত্রী।
গত মাসে বাংলাদেশে ক্ষমতায় এসেছে তারেকের দল বিএনপি। শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশের শাসনভার ছিল মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে। সেই সময় ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের পারস্পরিক সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল। বরং পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে নিয়েছিল ঢাকা। তারেক ক্ষমতায় আসার পর ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার বার্তাই দিয়েছেন। এখনও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী হাসিনা ভারতে আশ্রয়ী। তাঁকে ফেরত চেয়ে ঢাকার লেখা চিঠির কোনও জবাব দেয়নি নয়াদিল্লি। অনেকে আশঙ্কা করেছিলেন, হাসিনা প্রসঙ্গে তারেকের সরকারের সঙ্গে দিল্লির সম্পর্কের আরও অবনতি হতে পারে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তেমন ইঙ্গিত মেলেনি। তারেকের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারত সরকার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে ঢাকায় পাঠিয়েছিল। এ বার ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তারেককে লেখা চিঠিতেও সুসম্পর্কের বার্তাই দিলেন মোদি।
বাংলাদেশে হাসিনা বা আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন যে সম্ভব নয়, সে ব্যাপারে নিশ্চিত ছিল সাউথব্লক। তারা আরও একটা বিষয়ে নিশ্চিত ছিল যে বিএনপি ক্ষমতায় আসছে। জলে বাস করে কুমীরের সঙ্গে যে বিবাদ করা যায় না, করাটা ঠিক নয়। সাউথব্লক একটি মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় ছিল। বলা হচ্ছে জিয়ার মৃত্যু সেই মাহেন্দ্রক্ষণ তৈরি করে দেয়। সাউথব্লকের কূটনীতি তারেক রহমানের কুটনীতি হয়ে ওঠে। তারেকও চাইছেন না দিল্লির সঙ্গে কোনওরকম ঠাণ্ডা লডা়ইয়ে যেতে। গেলে সেটা তাঁর পক্ষে কোনওভাবেই শুভ হয়ে উঠবে না। কারণ, চিন আর পাকিস্তান বাংলাদেশের ওপর তাদের প্রভাব বিস্তারের জন্য মুখিয়ে রয়েছে। এই অবস্থায় দিল্লির সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখাই দরকার বলে মনে করছেন তারেক জিয়া। কূটনৈতিকমহল মনে করছে, আওয়ামী লীগের আমলে দিল্লি-ঢাকার সম্পর্ক যতটা আন্তরিক এবং হার্দিক ছিল, তারেকের আমলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক তেমনই আন্তরিক এবং হার্দিক হবে।












Discussion about this post