বাংলাদেশের মূল ধারার রাজনীতি দুইভাগে বিভক্ত। এক আওয়ামী লীগ, দুই আওয়মী বিরোধী। বাংলাদেশে দীর্ঘকাল ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগ। ক্ষমতায় ছিল বিএনপিও। সময়ের হাত ধরে সব কিছু বদলে যায়। বাংলাদেশের রাজনীতির গতানুগতিক ধারার পরিবর্তন হয়েছে। বিশেষ করে ২৪-য়ের গণঅভ্যুত্থানের পর। জণগনের দ্বারা নির্বাচিত একটি সরকারকে সরিয়ে অবৈধ উপায়ে ইউনূস ক্ষমতা দখল করেন। মানুষ যে আশা নিয়ে ইউনূসকে ক্ষমতায় আসীন করেছিল, তাদের সেই আশা পূরণ হয়নি। উল্টে বাংলাদেশ সব দিক দিয়ে পিছনের সারিতে চলে গিয়েছিল। ফলে, দেশবাসী চেয়েছিল দ্বিতীয় দফায় আরও একটি পরিবর্তন। সই পরিবর্তনের হাত ধরে বিএনপি ক্ষমতায় আসীন হয়েছে। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। অনেকে বলছে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ছিল একটি সাজানো নির্বাচন। সব কিছু আগে থেকেই সাজানো ছিল। দরকার ছিল একটা সিলমোহরের। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন আসলে সেই সিলমোহরের কাজ করেছে। এই অবস্থায় আওয়ামী লীগ এবং হাসিনার ঘরওয়াপসির বিষয়টি নিয়ে ফের শুরু হয়েছে গুঞ্জন।
তারেক রহমানকে একটি গণমাধ্যমের তরফ থেকে আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। জানতে চাওয়া হয়, দলটির বিষয়ে তাঁর বা তাঁর দলের অবস্থান কি? জবাবে তিনি আওয়ামী লীগের নাম উচ্চারণ করেননি। তবে জানিয়েছেন, তিনি কোনও রাজনৈতিকদলকে নিষিদ্ধ ঘোষণার পক্ষে নন। কারণ, আজ যদি তিনি কোনও একটি রাজনৈতিকদলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন, তাহলে আগামীদিনে তাঁর দলকে অন্য কোনও দল নিষিদ্ধ ঘোষণা করবে না, তার নিশ্চয়তা কোথায়? এই বিবৃতির পর মনে হতেই পারে, তারেক রহমান চাইছেন আওয়ামী লীগ দেশে ফিরুক। এর পিছনে বেশ কয়েকটি যুক্তিও উঠে আসতে শুরু করেছে। সেই যুক্তি নিয়ে পর্যালোচনা দূরে সরিয়ে রেখে আলোচনা করা যাক বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি। বাংলাদেশের রাজনৈতিকমহলে এখন একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে যে আওয়ামী লীগ কি বিএনপির ভরসায় রাজনীতি করবে?
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম জানিয়ে দিয়েছেন, তারা আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তোলার পক্ষপাতি নন। অথচ নির্বাচনের প্রাক্কালে এই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গলায় শোনা গিয়েছিল ঠিক উল্টো কথা। অনেকে এখন বলছেন, আওয়ামী লীগের ভোট বিএনপির দিকে টানতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই কথা বলেছিলেন। আর ভোট মিটতেই ঝুলি থেকে বেড়াল বেরিয়ে পড়েছে। এর থেকে বোঝা যাচ্ছে অবৈধ ইউনূস সরকার তাদের মেয়াদ আরও বাড়িয়ে নেওয়ার জন্য তারেক রহমানকে ক্ষমতায় বসিয়েছেন। সমস্যা হল বাংলাদেশের রাজনীতি কোনওভাবেই আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে হয় না। তবে কি তারেক সরকার ওই দলটি ওপর জারি করা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে? বিশ্লেষকেরা বলছেন, অবৈধ ইউনূস সরকারের নির্বাহি আদেশের কোনও মূল্য নেই। কারণ, এই সরকার জনগণের ভোটে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসীন হয়নি। তারা গোলেমালে ফাঁকতালে ক্ষমতা দখল করেছি। জুলাই-অগাস্টের গণঅভ্যুত্থানের কারণে জাতীয় রাজনীতিতে যে শূন্যতা তৈরি হয়, ইউনূস সরকার সেই শূন্যস্থান দখল করে।
বলা হচ্ছে বিএনপি সরকার আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা না তুললেও দলের কিছু যাবে না কিছু আসবে না। কারণ, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না থেকেও মানুষের মনের গভীরে জায়গা করে নিয়েছে। হাসিনা সরকারের সব কিছু যে ঠিক ঠাক ছিল, তা নয়। তবুও এত কিছুর পরেও হাসিনার শাসনমলে বাংলাদেশের সার্বিকভাবে উন্নত হয়েছে। আর বিএনপি ক্ষমতায় আসার ফলে যারা মনে করছে, দেশে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে, তারা ভ্রান্ত ধারণার মধ্যে রয়েছেন। যদি তারেক রহমান হাসিনার দলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিতেন, তাহলে প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হওয়ার কয়েকদিনের মধ্যে ঘোষণা করতেন।বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফেরার নতুন অঙ্গীকারের স্থিতিশীলতা, ও টেকসইতা নির্ভর করবে, তারেক রহমান কীভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু এড়িয়ে যাওয়া সমস্যার বিষয়টি পরিণত করার মোকাবিলা করেন, তার ওপর।












Discussion about this post