বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দিল্লির সঙ্গে ঢাকার সম্পর্ক কেমন ছিল, তা আর নতুন করে বলার দরকার পড়ে না। যে দেশের চাল-ডাল-আলু খেয়ে সে দেশের মানুষ বেঁচে থাকে, সেই ভারতের সঙ্গে চূড়ান্ত বিশ্বাসঘাতকতা করেছে ইউনূস সরকার। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এতো তলানিতে চলে গিয়েছিল যা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমে পড়ে পাকিস্তান। সে দেশের “বীর সন্তান” অর্থাৎ জঙ্গিদের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছিল বাংলাদেশ। তলে তলে ইউনূস যে চিনের সঙ্গেও হাত মিলিয়ে রেখেছিলেন এখন সেটা স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের জেরে হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরে যেতে হয়েছে। মসনদে আসীন হন ইউনূস। সিংহাসনে বসার পর থেকে তাঁর কার্যকলাপ শুধু ভারত-বিদ্বেষী ছিল না। বাংলাদেশকেও দায়িত্বের সঙ্গে পদ্মায় ডুবিয়ে দিয়েছেন। বলা হচ্ছে ছাত্র-আন্দোলন আসলে আমেরিকার তৈরি। হাসিনা যেহেতু তাদের স্বার্থ পূরণ করতে পারেনি, তাই, তারা তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছে। বসিয়েছে ইউনূসকে। যার বিন্দুমাত্র রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নেই। ইউনূস ছিলেন আমেরিকার হাতের মোয়া। তার বড়ো প্রমাণ বাংলাদেশ-আমেরিকা শিল্প-বাণিজ্য চুক্তি। তদারকি সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার মুখে মুখে ইউনূস এই চুক্তি করে বসেন। তদারকি সরকারের তরফে বলা হয়েছিল, এই চুক্তির শর্ত কোনওভাবেই প্রকাশ করা যাবে না। পরে আমেরিকা সেই চুক্তি প্রকাশ করে দেয়।
এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যেতে পারে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি চিঠি। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ট্রাম্প এই “শুভেচ্ছা চিঠি” পাঠিয়েছিলেন। শব্দটিকে বন্ধনীর মধ্যে রাখার কারণও রয়েছে। এটা কোনও দিক থেকেই শুভেচ্ছা চিঠি নয়। ইউনূস আমলে হওয়া চুক্তিগুলি তারেক সরকার যাতে বাস্তবায়ন করেন, সেই বার্তা দিতেই ওই চিঠি পাঠানো হয়। এখন এটাও বলা হচ্ছে, তারেক যে দেশে ফিরতে পেরেছেন, সেটা আমেরিকার কৃপায়। ডিপ স্টেট রাস্তা তৈরি করে না দিলে তারেকের বাকি জীবন লন্ডনেই কাটাতে হত। মা জিয়া যখন সংকটজনক সেই সময় তারেক জানান যে তিনি দেশে ফিরতে বদ্ধ পরিকর। কিন্তু চাইলেও তো আর ফেরা যায় না। ডিপ স্টেট থেকে সবুজ সংকেত না পেলে। তারেক এখন বুঝতে পারছেন যে ভারত ছাড়া বা ভারতের সাহায্য ছাড়া তিনি আর বেশিদিুন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেন না। তাই, দিল্লির সঙ্গে তিনি দোস্তি চাইছেন। দিল্লিও কিন্তু ঢাকার সঙ্গে দোস্তি চায়। তার একটা বার্তা আমেদের প্রধানমন্ত্রী আগেই দিয়ে রেখেছিলেন।
প্রশ্ন উঠছে, তারেক রহমানের বাংলাদেশে ফেরা, বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন এবং তারেকের প্রধানমন্ত্রী হওয়া – এই তিনটি ক্ষেত্রে কোনওভাবেই কি ভারতের হাত ছিল? দিল্লি কি কোনওভাবেই এই তিন ক্ষেত্রে তার প্রভাব খাটায়নি? কোনও কোনও মহল থেকে দাবি করা হচ্ছে, দিল্লির ভীষণরকম প্রভাব ছিল। তার একটা উদ্দেশ্যে ছিল। তদারকি সরকারের আমলে বাংলাদেশে রীতিমতো প্রভাব খাটাতে শুরু করে চিন। বেজিংয়ে প্রভাব খর্ব করতে না পারলে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতির চরিত্র যে বদলে যাবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত ছিল সাউথব্লক। অপেক্ষায় ছিল একটি মুহূর্তের। খালেদা জিয়ার মৃত্যু সেই মূহূর্তটি তৈরি করে দেয়। নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে সেই বৃত্ত সম্পূর্ণ হল। তারেক রহমান এখন দিল্লি-ঢাকা সম্পর্ককে সেই উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাইছেন, যেমনটা ছিল আওয়ামী লীগের আমলে। এই প্রসঙ্গে জাতীয় সংসদে তারেকের দেওয়া ভাষণ উল্লেখ করতে হয়। বক্তব্যের একটি অংশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শেখ মুজিব কেবল একটি মাত্র দলের নেতা ছিলেন না। তিনি ছিলেন এই ভূখণ্ডের অন্যতম প্রধান সংসদ সদস্য। তিনি ছিলেন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পুরোধা। তারেক বলেন, বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতির সূচনায় শেখ মুজিব একজন সংসদ সদস্য হিসেবে যে ভূমিকা পালন করেছিলেন তা ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমাদের উচিত ইতিহাসের সত্যকে সাহসের সঙ্গে স্বীকার করা। ”












Discussion about this post