বাংলাদেশে এখন নির্বাচিত সরকার। ১৭ বছর পর নুতন মুখ পেয়েছে বিএনপি। শুধু তাই নয়, তিনিই হয়েছেন দলের, দেশের সর্বোচ্চ প্রধান। ১২ই মার্চ বসল বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ। কিন্তু এই সংসদ অধিবেশন হল নজিরবিহীন। ফাঁকা স্পিকারের আসন রেখেই অধিবেশন, প্লাকার্ড হাতে বিরোধীরা, রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় প্রবল স্লোগান, বিক্ষোভ। সংসদের প্রথম দিনেই ওয়াক আউট। তাদের মধ্যএ অবশ্যই ছিলেন, ছাত্রনেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ, নাহিদ ইসলামরা। অনেকে বলছেন, নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হল এদিন। সেটা যে ইতিবাচকভাবে নয়, সেটা পরিষ্কার।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটেছে প্রায় ১৮ মাস হয়ে গেল। মাঝে পদ্মা দিয়ে বয়ে গেছে বহু জল। অন্তর্বর্তী সরকার এই কটা মাস শাসন করেছে। যার নেতৃত্ব দিয়েছেন নোবেল জয়ী মুহাম্মদ ইউনূস। আলোচনার থেকে সমালোচনা বেশি নিয়ে এই সরকার পার করেছে। এরপর বহু টালবাহানার পর অনুষ্ঠিত হয়েছে নির্বাচন। ১২ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সংসদ গঠিত হয়। দেড় বছরের উপর সংসদ বন্ধ থাকায়। প্রত্যেকের নজর ছিল নতুন জাতীয় সংসদের দিকে। সেই দিনের অপেক্ষা শেষ হয় ১২ই মার্চ। ওইদিন প্রত্যেকেই নজর রেখেছিলেন সংসদের দিকে। এইবারের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল, ২২৭ জনই নতুন মুখ। অনেকেই প্রথম সংসদের অভিজ্ঞতায় পা দিলেন। সংসদে অধিবেশন পরিচালনা করেন স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার। কিন্তু এবারে সেটা পুরোপুরি আলাদা। পূর্বের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেছেন। আর ডেপুটি স্পিকার সামশুল হক টুকু কারাগারে বন্দি করা হয়। তাই উপায় না পেয়ে স্পিকারের অনুপস্থিত এই অধিবেশন শুরু হল। পরে অস্থায়ী সভাপতির মাধ্যমে স্পিকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। বিএনপি নেতা মেজর অবসর প্রাপ্ত হাফিজ উদ্দিন আহমেদ স্পিকার হিসাবে নির্বাচিত হন। ডেপুটি স্পিকার হন ব্যারিস্টার কাউসার কামাল। স্পিকার নির্বাচনের পর স্পিকারদের উদ্দেশ্য করে তারেক রহমান বলেন, আজ থেকে আপনারা আর কোনও দলের নন। প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যে প্রত্যেকেই সমর্থন জানান। এরপর ৩:৩০ মিনিট নাগাদ রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে ভাষণ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। ঠিক সেই মুহূর্তেই বিরোধী পক্ষ জামায়াত-ই ইসলামী ও এনসিপির এমপিরা উঠে দাঁড়ান। হাতে প্লাকার্ড ধরেন। এরপর স্লোগান দেন। সেখানে লেখা ছিল, জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে গদ্দারি জনগণ সইবে না।
কিন্তু রাষ্ট্রপতি ভাষণ থামাননি। এদিকে অদ্ভুতভাবে সরকারি দলের সংসদরা টেবিল চাপড়ে সমর্থন দিচ্ছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার কোনও চেষ্টায় করেননি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বা সরকারি পক্ষের কেউ। এমনকি বিরোধী দলের সংসদরা স্লোগান দিতে দিতে ওয়ার্ট আউট করেন। আগে বহুবার এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু প্রথম সংসদ অধিবেশনে এই ধরনের ঘটনা নজিরবিহীন। কিন্তু এমন পরিস্থিতি কেন তৈরি হল?
আসলে রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে রাষ্ট্রপতি পদে বসিয়েছিল আওয়ামী লীগ। এদিকে আওয়ামী লীগ এখন নিষিদ্ধ। তাদের সরকারের পতন ঘটে। আর সেই সরকারে নিয়োগকৃত রাষ্ট্রপতি নিয়েই যত সমস্যা। এই নিয়েই বিরোধিতা। রাষ্ট্রপতি ভাষণে কি কি বলেছিলেন? তিনি বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের পর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে নতুন সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে। তিনি মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণ করেন। এমনকি জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসাবে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্যের বেশ কিছু বক্তব্য নিয়ে এখন নানা মহলে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক বলতেই অনেকে বলছেন, এই বক্তব্যের পান্ডুলিপি বিএনপি’র তৈরি করে দেওয়া। তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা অনেকেই দাবি করছেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণের বক্তব্য যে সরকার ক্ষমতায় থাকে, তারাই তৈরি করে দেয়। এদিনে সংসদে আইনমন্ত্রী ইউনূসের সরকারের করে যাওয়া ১৩৩টি অধ্যাদেশ তুলে ধরেন। যা নিয়ে প্রবলভাবে আলোচনা তৈরি হয়। তবে এখন একটাই প্রশ্ন, এই সংসদ কি আদেও বাংলাদেশের ভবিষতের জন্য সুফল বয়ে নিয়ে আশবে, নাকি রাজনৈতিক সংঘর্ষ তৈরি হবে আগামী দিনেও। কারণ প্রথম দিনে যে পরিস্থিতি হল, তাতে ইতিবাচকভাবে দেখছেন না রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা












Discussion about this post