ইউনূস সরকার বিদায় নিয়েছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছে। বাংলাদেশে চলতে শুরু করেছে গণতন্ত্রের রেলগাড়ি।
সত্যি কি তাই? বাংলাদেশের গণন্ত্রের রেলগাড়ি চলছে না। চলছে আমেরিকার রেলগাড়ি। যে রেলগাড়ির ড্রাইভার থেকে শুরু করে যাত্রী, গার্ড – সবাই আমেরিকার। বাংলাদেশের একজন নাগরিকের সেই ট্রেনে জায়গা হয়নি। সৌজন্যে ইউনূস সরকার। একটা চিঠির উল্লেখ করতে হয়। চিঠি এসেছে সুদূর আমেরিকা থেকে। পাঠিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রাপকের নাম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আপাত দৃষ্টিতে মনে হবে এটা একটা শুভেচ্ছা চিঠি। কিন্তু ওটা শুভেচ্ছাচিঠি নয়। এটা আসলে মার্কিন হুমকি। আরও সুপষ্টভাবে ডনের হুমকি। বিগত অন্তর্বর্তী সরকার আমেরিকার সঙ্গে যে চুক্তি করেছে, তা দেখে হতভম্ব ও স্তম্ভিত বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)।
প্রতিষ্ঠানটির ডিরেক্টর খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম এই চুক্তি প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন। তাঁর প্রশ্ন, কীভাবে অবৈধ অন্তর্বর্তী সরকার এই চুক্তি করতে পারে? আর এখন এই চুক্তির দায় জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি সরকারের কাঁধে চেপেছে। ড. মোয়াজ্জেমর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে ইউনূস নিশ্চিত ছিলেন, তাঁর বিদায় অনিবার্য। তাদের পরে যে সরকার ক্ষমতায় আসবে, তারা যাতে আমেরিকার তল্পিবাহক হতে পারে, তার একটি চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত করে দেওয়া। সিপিডি ডিরেক্টর বলেন, “ যখন শুল্ক সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা চলছিল, তখন সরকারের তরফে বলা হল শুল্কের হার ৩৫ শতাংশ থেকে কী করে আমরা ২০ শতাংশ নামিয়ে আনব, তা নিয়ে কথাবার্তা চলছে। অন্তর্বর্তী সরকার কিছু কিছু ক্রয় চুক্তি করলেই নাকি শুল্ক হার হ্রাস করবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু পূর্বতন সরকার আমেরিকার সঙ্গে যে চুক্তি করল, সেই চুক্তি দেখে আমরা হতভম্ব। ” বাড়তি শুল্কের বোঝা মাথায় করে নয় মাসের আলোচনা শেষে অন্তর্বর্তী সরকার আমেরিকার সঙ্গে “এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড” নামের একটি বাণিজ্যচুক্তি করে। ভোটের ডামাডোলের কারণে চুক্তির বিষয় তখন জানা যায়নি। ভোট মিটেছে। বিএনপি নিরঙ্কুশ ক্ষমতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে। প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হয়েছেন তারেক রহমান। তখন ইউনূসের আরও একটি কুকীর্তি ফাঁস হয়েছে। ”
তারেক রহমান কি আমেরিকার এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে? আমেরিকার তল্পিবাহকের বদলে আত্মনির্ভর হয়ে উঠতে পারবেন? যেমনটা হয়েছে ভারত। তারেক রহমান মার্কিন বাণিজ্যিক সাম্রাজ্যবাদ থেকে উদ্ধার করতে পারেন কি না, সেটা সময় বলবে। তবে মালয়েশিয়া কিন্তু সাহসের সঙ্গে মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি থেকে সরে এসেছে। তারা আমেরিকার সঙ্গে হওয়া চুক্তি বাতিল করেছে। সে দেশের বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী দাতুক সেরি জোহারি আব্দুল ঘানি জানিয়েছেন, মালয়েশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি “এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড” এখন অকার্যকর ও শূন্য। ২০২৫ সালের ২৬ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির অধীনে মালয়েশিয়া থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক ১৯ শতাংশ নির্ধারিত ছিল। আবার কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে ছিল শুল্কুমুক্তের সুবিধে। বিনিময়ে মালয়েশিয়া মার্কি বাজারে প্রবেশাধিকার ও নীতি ছাড় দেয়।
মালয়েশিয়ার ২০২৫ সালে মার্কিন বাজারে রপ্তানি প্রায় ২৩৩ বিলিয়ন রিংগিত ছিল। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক্স, তেল ও গ্যাস, পাম তেল, এবং রাবার-ভিত্তিক পণ্য যেমন হ্যান্ডসগ্লভ। মন্ত্রী জোহারি সতর্ক করেছেন, মালয়েশিয়ার রপ্তানিকারিদের আন্তর্জাতিক শ্রম ও পরিবেশ সংক্রান্ত মানদণ্ড মেনে চলতে হবে, যাতে আরও কোনো বিঘ্ন না আসে। জোহারি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র যে কোনও শুল্ক আরোপ করতে চাইলে তা অবশ্যই স্পষ্ট ও নির্দিষ্ট কারণের ওপর ভিত্তি করে হতে হবে। যদি শুল্ক বাণিজ্য ঘাটতির কারণে আরোপ করা হয়, সে ক্ষেত্রে মার্কিন সরকারকে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট শিল্পকে শনাক্ত করতে হবে।












Discussion about this post