তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারকে এবার ‘মধুচন্দ্রিমা’ শেষ করে দ্রুত দেশের আইনশৃঙ্খলা ফেরানোর কাজে মনোযোগী হতে আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতারা। শুক্রবার ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষজন। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও সংখ্যালঘু ঐক্য মোর্চাভুক্ত সংগঠনগুলি যৌথ ভাবে এই মানববন্ধনের আয়োজন করেছিল। বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নেতাদের অভিযোগ, বিএনপি সরকার মুখে বারবার ‘জিরো টলারেন্স’-এর কথা বললেও দেশে এখনও মব-সন্ত্রাস চলছে। বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপরে হামলা, হত্যাকাণ্ড ও মন্দিরে বোমা হামলার ঘটনা এখনও ঘটে চলেছে। এ বিষয়ে কোনও ব্যবস্থাই নেয়নি তারেক রহমানের প্রশাসন। উল্লেখ্য, বিগত মুহাম্মদ ইউনূসের আমলে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের প্রতি পদে বিপদ ছিল।
বাংলাদেশে ২০২৪ এর অগস্ট মাস থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত হিন্দু বৌদ্ধ সহ সংখ্যালঘুদের উপর হামলা নির্যাতনের ৩১০০ ঘটনা ঘটেছে। এই দাবি অবশ্য বাংলাদেশের নয়, রিপোর্ট ভারতীয় গোয়েন্দাদের। শুক্রবার ভারতীয় সংসদের নিম্নকক্ষ রাজ্যসভায় এক প্রশ্নের লিখিত জবাব এ বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এই তথ্য পেশ করেছেন। ভারতের পার্লামেন্টে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের উপর নিপীড়ন নির্যাতনের ঘটনার এই লিখিত পরিসংখ্যান প্রতিবেশী দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য যথেষ্টই অস্বস্তির হবে তা বলাই বাহুল্য। এই পরিস্থিতিতে আবার ঢাকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষজন রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ আন্দোলনে নেমে পড়লেন। সবমিলিয়ে তারেক রহমানের উপর চাপ বাড়ছে। এই আবহেই বিএনপি সরকার এক নতুন ঘোষণা করে দিল। শনিবার তিনি ঢাকায় পুরোহিত, ইমাম-সহ বিভিন্ন ধর্মীয় নেতাদের মাসিক সাম্মানিক ভাতা দেওয়ার কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন। বাংলাদেশের তথ্য-সম্প্রচার মন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে,দেশের মোট ৪৯০৮টি মসজিদ এবং ৯৯০টি মন্দিরের ধর্মীয় প্রধানদের মাসিক সাম্মানিক দেওয়া হবে। পাশাপাশি এর আওতায় থাকবে গির্জা ও বৌদ্ধবিহারগুলিও।
বিএনপি সরকারের এই আর্থিক সহায়তা প্রকল্পের রূপরেখা অনুযায়ী, প্রতিটি মসজিদ মাসে মোট ১০ হাজার টাকা সাম্মানিক হিসেবে পাবে। এ ক্ষেত্রে মসজিদের ইমাম পাবেন ৫ হাজার টাকা, মোয়াজ্জিন ৩ হাজার টাকা এবং খাদেম ২ হাজার টাকা করে পাবেন। অপরদিকে, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানদের ধর্মস্থানগুলির জন্য প্রতি মাসে ৮ হাজার টাকা করে বরাদ্দ হয়েছে। এর মধ্যে মন্দিরের পুরোহিত পাবেন ৫ হাজার টাকা এবং সেবাইত ৩ হাজার টাকা করে পাবেন। এ বিষয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী। পাশাপাশি সরকার সকল নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে বধ্যপরিকর বলেও জানান তারেক রহমান।
প্রসঙ্গত, বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থাগুলির প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বলা হয়েছে ২০২৪-এর অগস্ট থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশজুড়ে হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে লাগাতার হামলা, সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটেছে। এমনকি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দুই সপ্তাহে বেশ কয়েকজন হিন্দু যুবককে নৃশংশভাবে খুন করা হয়েছিল। যা নিয়ে সরব হয়েছিল ভারত। এবার ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর পার্লামেন্টে লিখিতভাবে জানিয়েছেন, ভারত সরকার সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারের সর্বোচ্চ নজরে এনেছে। সেই সঙ্গে ভারত এই বিষয়ে বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গেও আলোচনা করেছে। বাংলাদেশে ধর্মীয় সংহিংসতা নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের মতো দেশগুলির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চালিয়েছে বলেই জানা গিয়েছে। সবমিলিয়ে চাপ বাড়ছে তারেক রহমানের উপর। সেই চাপ কাটাতেই কি এবার ইমাম, মোয়াজ্জেমদের পাশাপাশি হিন্দু, বৌদ্ধদের সরকারি ভাতা ঘোষণা করলেন। এই প্রশ্ন উঠছে।












Discussion about this post