ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছে। জামায়াত প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এপর্যন্ত সব কিছু আপাত দৃষ্টিতে মসৃণচলন মনে হতে পারে। যদিও রাজনৈতিকমহল থেকে বলা হচ্ছে জিয়ার দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করলেও তাদের পথচলা খুব একটা মসৃণ হবে না। তারেক সরকারকে বিরোধীরা আওয়ামী লীগ আমলের সরকারের সঙ্গে তুলনা করবে। প্রতিটি ক্ষেত্রে। প্রশ্ন উঠছে, বিরোধী শিবিরের তো আওয়ামী লীগ শব্দটায় প্রবল আপত্তি রয়েছে। তাহলে তারা কেন আওয়ামী লীগের ওপর ভর করে ক্ষমতাসীন দলকে কোণঠাসা করবে? তার কারণ রয়েছে।
আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে গোছা গোছা অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে পাহাড় প্রমাণ দুর্নীতির। এই আওয়ামী লীগ একসময় বিএনপির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। কিন্তু তারপরেও কিন্তু বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছে। বিশেষ করে আর্থিক ক্ষেত্রে। পরিকাঠামোর ক্ষেত্রেও হাসিনা সরকার ব্যাপক পরিবর্তন আনেন। ফলে, বিরোধী শিবির আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে যে বিএনপির তুলনা টানবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হয়েছেন ঠিকই। কিন্তু তাকে এক ভয়াবহ চ্যালেঞ্জের সামনে ফেলে দেওয়া হয়েছে। ইউনূসের আমলে উন্নয়নের ভিত নড়বড়ে হয়ে গিয়েছে। মব তৈরি করেছিল ইউনূস কোম্পানি। তারা দেশজুড়ে নির্বিবাদে সন্ত্রাস চালিয়ে গিয়েছে।
তারেক সরকারকে বেশ কয়েকটি ঘটনা তাড়া করে বেডা়বে। বলা যেতে পারে, জ্বলন্ত সমস্যা তাড়া করবে। সেই সব সমস্যার মধ্যে প্রধান সমস্যা দেশের বেকার যুবকযুবতীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া। পাশাপাশি খাদের কিনাড়ে চলে যাওয়া অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে তোলার দায়িত্ব তাঁর। পালাবদলের পর ইউনূস ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর মানুষের মনের মধ্যে একটা আশার আলো তৈরি হয়। তারা সরকারের থেকে ভালো কিছু প্রত্যাশ্যা করেছিলেন। কিন্তু ইউনূস যে আসলে আমেরিকার পুতুল তা নিয়ে এখন আর কারও সন্দেহ নেই। ইউনূস বিদায় হলেও তাঁর আমলে দেশে যে সব সমস্যা তৈরি হয়, সেই সমস্যা কিন্তু রয়ে গিয়েছে। সেই সব সমস্যার সমাধানের দায়িত্ব এই নতুন সরকারের। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের সার্বিক বিকাশ। কাজটা যে খুব সহজ নয়, তা নুতন করে বলার দরকার পড়ে না। পদ্মাসেতু তৈরি হয়েছে হাসিনার আমলে। রাস্তাঘাটের প্রভুত উন্নতি হয়েছে। দেশে কাঁচা রাস্তা খুঁজতে হলে দূরবীন লাগবে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে হাসিনার আমলেই। সুতরাং, তারেক সরকারের সঙ্গে প্রায় সব ক্ষেত্রে বিরোধী শিবির, বিশেষ করে জামায়াত তুলনা টানবেন। তার একটি ইঙ্গিত কিন্তু দলটির আমীর দিয়ে রেখেছেন।
জামায়াতের আমির তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুকে পেজে কিছুদিন আগে একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লেখেন, “আমরা আদর্শ একটি বিরোধীদল হিসেবে আমাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। সরকারের জনকল্যাণমূলক কাজে আমাদের অবশ্যই সমর্থন থাকবে। কিন্তু যেখানে সরকারের থেকে জবাবদিহির প্রয়োজন, সেখানে আমরা সরকারের থেকে অবশ্যই জবাব আদায় করব।” সেই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, “আমাদের উদ্দেশ্য সংঘাত নয়, সংশোধন। বাধা দেওয়া নয়, পর্যবেক্ষণ। দেশের মানুষ এমন একটি সংবাদ প্রত্যাশা করে, যা ন্যায়বিচার ও নাগরিক অধিকার রক্ষা করবে। এবং স্থিতিশীলতার সঙ্গে রাষ্ট্রকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। ”
শুধু কি জামায়াত? এনসিপিও কিন্তু সরকারকে চাপে ফেলার জন্য মুখিয়ে রয়েছে। সে ক্ষেত্রে তারা জামায়ের সঙ্গে সংসদে হাতও মেলাতে দ্বিধা করবে না। তারেক রহমান সরকারের শুভাকাঙ্খি যেমন রয়েছেন, তেমন তাঁর রাজনৈতিক শত্রুও কম নেই। জামায়াত কিন্তু সরকারের শরিক হতে চেয়েছিল। তাদের দাবি ছিল দু-একটি মন্ত্রকের। তারেক রহমান তাদের সেই আশা পূরণ করতে পারেনি। ভোটের আগে দুই দলের মধ্যে যে হৃদ্যতা ছিল, এখন তারা একে ওপরের শত্রু।












Discussion about this post