তদারকি সরকার যখন ক্ষমতায়, সেই সময় বারে বারে একটা অভিযোগ উঠছিল যে এই সরকারের সঙ্গে ডিপ স্টেটের একটা বোঝাপডা় আছে। যদিও সেই অভিযোগের স্বপক্ষে কোনও প্রমাণ কারও কাছে ছিল না। তবে তদারকি সরকারের করা বেশ কিছু পদক্ষেপ থেকে স্পষ্ট হয়ে যায় যে তাদের সঙ্গে ডিপ স্টেটের একটা ভালো বোঝাপড়া রয়েছে। ইউনূস আমেরিকার সঙ্গে একটি বাণিজ্যচুক্তি করেছিলেন। প্রথম দিকে এই চুক্তি প্রসঙ্গে তদারকি সরকারের তরফে বলা হয়েছিল যে সেখানে কী কী শর্ত রয়েছে, তা প্রকাশ করা যাবে না এই শর্তেই চুক্তি হয়েছে। এখন আমেরিকা কিন্তু চুক্তির সেই সব শর্ত ফাঁস করে দিয়েছে। বিগত ১৮ মাসে তারা কত যে কুকীর্তি করে গিয়েছে, এবার ধীরে ধীরে প্রকাশ পাচ্ছে। এবার হাটে হাঁড়ি ভাঙলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রাক্তন উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিপ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। রীতিমতো সাংবাদিক সম্মেলন করে তদারকি সরকারের যাবতীয় কুকীর্তি ফাঁস করে দিয়েছেন। আর তার বিবৃতি থেকে আরও যে বিষয়টা পরিষ্কার অন্তর্বর্তী সরকার দ্রুত বিদায় নিক, সেটা কোনওভাবেই চায়নি ডিপ স্টেট। কী বলেছেন পূর্বতন সরকারের এই সাবেক উপদেষ্টা?
সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার যেন ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে পারে– ‘ডিপ স্টেট’ এমন একটা স্ট্রাটেজি সাজিয়ে দিয়েছিল। আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ‘আমরা যখন সরকারের দায়িত্বে ছিলাম, শুরুর দিকে আমাদের বিভিন্ন শক্তিশালী ইনস্টিটিউশন, যাদেরকে আসলে ‘ডিপ স্টেট’ বলা হয়, তাদের কাছ থেকে আমাদের অফার করা হয়েছিল। বলা হয়েছিলো, ‘শেখ হাসিনার যে মেয়াদ আছে ২০২৯ সাল পর্যন্ত, সেটি আপনারা শেষ করুন। আমরা আপনাদের সহযোগিতা করব।’ তিনি জানান, প্রস্তাবের সঙ্গে কিছু শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছিল। নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে এসব গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি একটি রাজনৈতিক রোডম্যাপও তুলে ধরা হয়। ওই রোডম্যাপে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সাজা বহাল রেখে নির্বাচনী প্রক্রিয়া প্রভাবিত করার পরিকল্পনার কথা বলা হয়।’ আসিফ বলেন, আদালতের মাধ্যমে মামলার কার্যক্রম দীর্ঘায়িত করে বিএনপি নেতাদের নির্বাচন থেকে দূরে রাখার কৌশল সাজানো হয়। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে থাকা সাজা বহাল থাকলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারতেন না। তার কথায় ডিপ স্টেট পুরো একটি কৌশল তৈরি করে দিয়েছিল। সেই কৌশল হল, কীভাবে তাদের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে ক্ষমতায় থাকা যায়। তবে এনসিপি তাদের সেই প্রস্তাবে সায় দেয়নি। তিনি আরও বলেন, এনসিপি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চেয়েছিল বলেই তারা স্বেচ্ছায় অন্তর্বর্তী সরকার থেকে পদত্যাগ করেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা এক ব্যক্তি পরবর্তীকালে তিনি বিএনপি সরকারের মন্ত্রী হয়েছেন। এর ফলে নির্বাচনে সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিএনপি সরকারের উদ্দেশ্যে তাঁর বার্তা, ‘জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তৈরি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পরিবর্তে তা লঙ্ঘনের পথে হাঁটা হয়েছে। গণরায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে সরকারকে এর ফল ভোগ করতে হবে।’ তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক সুবিধা অর্জনের জন্য এসব ব্যক্তিকে পুরষ্কৃত করা হয়েছে। ফলে, নির্বাচনী পরিবেশে একটা বৈষম্য তৈরি হয়েছে। তাঁর কথায়, ডিপ স্টেটের প্রস্তাব গ্রহণ করলে সংবিধানের ধারাবাহিকতায় যুক্তি তুলে ধরে ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার একটি বৈধতা তৈরি হয়ে যেত।
আসিফ মাহমুদের বক্তব্য ডিপ স্টেট প্রসঙ্গটি নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনায় এসেছে। যদিও এই বিষয়ে অন্য কোনও পক্ষের তাক্ষক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন সারোয়ার তুষার, জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম সহ দলটির অন্যান্য নেতারা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচন ও সাম্প্রতিক ক্ষমতা পালাবদলের প্রেক্ষাপটে অতীতের অন্তর্বর্তী সরকারে ভূমিকা এবং তথাকথিত ‘ডিপ স্টেট’–এর প্রভাব নিয়ে এ ধরনের বক্তব্য রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়াতে পারে। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও পাল্টা প্রতিক্রিয়া ছাড়া বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।











Discussion about this post