২০২৪ সালে অন্তবর্তী সরকার আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা তারা অংশগ্রহণ করতে পারেনি। শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ অগস্টের পর থেকে ভারতে আশ্রয়ে রয়েছেন। তিনি নয়াদিল্লিতে রয়েছেন। কিন্তু ভারতের কোথায় রয়েছেন তা কেউ জানে না। ভারতে বসে শেখ হাসিনা একের পর এক দলীয় নেতা-কর্মীদের বার্তা দিয়ে গেছেন। শেখ হাসিনাই বলেছিলেন, নো ভোট, নো বোট। আওয়ামী লীগের বহু নেতা-কর্মীরা তারা বাংলাদেশ ছেড়ে কেউ কেউ পালিয়ে গেছেন, আবার কেউ কেউ ঢাকাতেও রয়েছেন। ভোটে অংশগ্রহণ করেনি আওয়ামী লীগ। বহু ঘটনা, বহু প্রতীক্ষার পর বাংলাদেশে হয় নির্বাচন। সেই নির্বাচনে তারেক রহমান রেকর্ড সংখ্যক ভোটে জিতে ক্ষমতায় আসেন। তারেক ক্ষমতায় আসার পর সাংবাদিকদের বৈঠকে তারেককে জিজ্ঞাসা করা হয়, আওয়ামী লীগ কী বাংলাদেশে ফিরবে? তারেক রহমান বলেছিলেন, আমরা কোনও দল নিষিদ্ধ হয়ে থাকবে সেটার পক্ষে নয়। তারপর থেকেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে থাকে, তাহলে কী খুব তাড়াতাড়ি শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরছে? তাদের দলের ওপর থেকে কী নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে? আজকের আলোচনা সেই বিষয়ে করব। সামনেই রয়েছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নিষেধাজ্ঞার পথে থাকা আওয়ামী লীগ ঘুটি সাজাচ্ছে। আওয়ামী লীগকে আটকাতে বিএনপি এবং জামাতের দল একাধিক পদক্ষেপ করছে। এবার প্রশ্ন আসতেই পারে কেন বাংলাদেশের বর্তমান দুটি দল গুরুত্ব দিচ্ছে। কারণ, আওয়ামী লীগের দল অংশগ্রহণ করতে না পারয় তারা স্থানীয় নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে খুব সহজেই এন্ট্রি নিতে পারে।
সেই কারণে বিএনপি এবং জামাতের মাথাব্যথার কারণ। এদিকে, আওয়ামী লীগের মূল লক্ষ্য, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে ধীরে ধীরা নির্বাচনী রাজনীতিতে ফিরে আসা। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ফিরতে কী কী উদ্যোগ নিয়েছে চলুন তবে একনজরে দেখে নেওয়া যাক। আমরা জানি এর মধ্যে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাধিক তাঁর নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে আত্মগোপনে থাকা নেতাদের দেশে ফেরার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য এখন থেকেই ফেরার জন্য উল্লেখ করেছেন। দলটির দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, স্থানীয় নির্বাচনের পাশাপাশি তাদের আরেকটি লক্ষ্য পেশাজীবী সংগঠনের নির্বাচন। বিশেষ করে আইনজীবী সমিতিগুলোর নির্বাচনে কিছুটা জায়গা তৈরি করতে চায় তারা। আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করেন, পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফিরে আসতে হলে স্থানীয় নির্বাচনে আগে অংশগ্রহণ করতে হবে। অনেক নেতা-কর্মীরাই আছেন কারাগারে রয়েছে তাদেরকে আগে জামিনের বিষয়ে জোর দিতে হবে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য সরকার ও আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সক্রিয় রয়েছে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্যানেলগুলো। ফেব্রুয়ারী মাসে কয়েকটি জেলায় আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সর্বশেষ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ১৭টি পদের মধ্যে ৭টি পদে জয়ী হয়েছে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্যানেল।
যদিও সভাপতি পদে বিএনপি-সমর্থিত এবং সাধারণ সম্পাদক পদে জামায়াতে ইসলামী-সমর্থিত প্রার্থী হেরে গিয়েছেন। ২৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সভাপতিসহ ১০টি পদে জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থীরা। ১৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নোয়াখালী জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্যানেল সাধারণ সম্পাদকসহ ৯টি পদে জয়ী হয়েছে। এ ছাড়া লক্ষ্মীপুরে ৮টি ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৬টি পদে জয় পেয়েছে। এক সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, ইদের পর থেকেই নাকি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা যে প্রস্তুতি নিয়েছেন সেইভাবে কাজ করবেন। আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করছেন, পেশাজীবী সংগঠনের নির্বাচন তুলনামূলকভাবে সহজ। কারণ, সেখানে দলীয় রাজনীতির প্রভাব থাকলেও তা এতটা তীব্র নয়। কিন্তু স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী নির্ধারণের পাশাপাশি সাংগঠনিক ও মাঠপর্যায়ের নানা প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিঃসন্দেহে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের জন্য একটা সুযোগ। দলটির চিহ্নিত এবং গুরুত্বপূর্ণ অনেক স্থানীয় নেতা হয়তো হয়রানির ভয়ে নির্বাচনে অংশ নেবেন না। স্থানীয়ভাবে অনেক জনপ্রিয় ব্যক্তি আছেন যারা নিজ দলের শাসনামলে সুযোগ পাননি। তারা হয়তো এবার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রবেশের সুযোগ পাবে—এটা ঠিক। তবে জাতীয়ভাবে দলটির রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন হবে কীনা তা বলা মুশকিল। কারণ, তাদের পুরো নেতৃত্ব আত্মগোপনে।












Discussion about this post