যে কোনও কিছুর একটা সলতে পাকানোর পর্ব থাকে। বিশেষ করে এর যদি বড়ো কোনও একটা লক্ষ্য থাকে। সেই লক্ষ্যে কোনোভাবেই পৌঁছানো সম্ভব নয়। আগে তার জন্য একটা ক্ষেত্রে প্রস্তুত করতে হয়। সেই ক্ষেত্রে অবশ্যই মসৃণ হতে হবে। কারণ সলতে একবার পাকাতে শুরু করলে মাঝপথে তাকে থামিয়ে দেওয়া যায় না। গত কয়েক মাস ধরে হাসিনার বাংলাদেশে ফেরা নিয়ে কম আলোচনা হয়নি। বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার প্রত্যাবর্তন নিয়ে একাধিক খবর প্রকাশিত হয়েছে। কোনও কোনও গণমাধ্যমে তারিখের উল্লেখ করে দাবি করা হয়, ওই তারিখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরবেন। শেষ তারিখটি ছিল ২৬ মার্চ। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, ২৬ মার্চ দেশে ফেরার কথা ছিল হাসিনার। তিনি কিন্তু এখনও দিল্লি রয়ে গিয়েছেন। তবে সামনেই বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। ফলে, একটা ধারণা তৈরি হয়েছে যে হাসিনা এবার দেশে ফিরতে বদ্ধপরিকর। কারণ, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেনি। যদিও স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পারে, তাহলে দল অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। দলের তৃণমূলস্তরের নেতাকর্মীদের মনোবল ভেঙে যাবে। পরিস্থিতি যখন এরকম সেই সময় দিল্লিতে ঘটে চলেছে একের পর এক ঘটনা। যেটাকে সলতে পাকানো পর্ব বলা যেতা পারে।
গত ২০ মার্চ দুপুরে ভারতের বিদেশমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ। ওই দিন সকালে তিনি গিয়েছিলেন বিদেশ মন্ত্রকে। সেখানে তাদের মধ্যে একপ্রস্থ কথা হয়। পরে জয়শঙ্কর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-য়ে বৈঠকের প্রসঙ্গটি উত্থাপন করেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে উভয়ের মধ্যে কথা হয়েছে।’ পাল্টাপাল্টি পোস্ট করে বাংলাদেশের হাইকমিশনারও। তিনি এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, ‘‘ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছে। অভিন্ন স্বার্থ, ও অভিন্ন সুফলের লক্ষ্যে ভারতের সঙ্গে একত্রে কাজ করার জন্য বাংলাদেশ যে তৈরি আছে, সেটা নিশ্চিত করেছি। ’’ ওই দিন বিকেলে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীষূস গয়ালের সঙ্গেও তাঁর বৈঠক হয়েছে। ভারতের একটি জাতীয় দৈনিক সেই সময় খলিলুর রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এপ্রিল মাসে ভারতে সংক্ষিপ্ত সফরে যেতে পারেন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান। এখন আর বিষয়টি ‘যেতে পারার’ মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। খলিলুর আসছেন। কেন আসছেন দিল্লিতে, সে বিষয়ে আলোচনা করা যাক। আগামী ৮ এপ্রিল ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্সে যোগ দিতে মরিশাস যাওয়ার কথা রয়েছে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রীর। যাত্রাপথে তিনি ভারতে কিছু সময়ের জন্য বিরতি নেবেন।
জয়শঙ্কর অনেক আগেই খলিলুর রহমানকে দিল্লি আসার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। দিনটি ছিল ২২ ফেব্রুয়ারি। ওই দিন বিকেলে বাংলাদেশ নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভর্মা খলিলুর রহমানের সঙ্গে দেখা করে জয়শঙ্করের পাঠানো আমন্ত্রণবার্তা পৌঁছে দেন। ওই দিন সন্ধ্যায় বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রক একটি বিবৃতি জারি করে। বিবৃতিতে বলা হয়, ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা তাঁর সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে নতুন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতির কথা জানান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে উভয় দেশের জণগনের কল্যাণে একটি অগ্রগামী ও ভারসাম্যপূর্ণ অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার বিষয়ে বাংলাদেশের অভিপ্রায় তুলে ধরেন। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করতে নিয়মিত ও গঠনমূলক যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ে উভয়ে একমত পোষণ করেন।
খলিলুর দিল্লিতে কিছু সময়ের জন্য বিরতি নিলে তিনি জয়শঙ্করের সঙ্গে দেখা করবেন না, এটা ধরে নেওয়াটা ভুল হবে। তাঁদের মধ্যে বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। আর সেই বৈঠকে হাসিনার ঘরওয়াপসি নিয়ে যে আলোচনা হবে সে বিষয়ে কোনও প্রান্তে কোনও দ্বিমত নেই। এখন অপেক্ষা খলিলুরের দিল্লিতে অবতরণের।











Discussion about this post