ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় শিক্ষা সম্পাদক অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম। মেধার বদলে দলীয় নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ এসব পদে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তিনি ইসলাম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অধ্যাপক ইসলাম শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউট্যাব) সভাপতি। তিনি আগে শিক্ষক সমিতির প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠনের আহ্বায়ক ছিলেন। বর্তমানে অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের শিক্ষাবিষয়ক সহ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
আগে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচর্যের পদ থেকে সরে দাঁড়াতে চেয়ে একাধিকবার রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর কাছে আবেদন জানা অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান। তখন থেকে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে বসতে চলেছেন অধ্যাপক ইসলাম। এদিকে অধ্যাপক মামুন আহমেদকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে। এদিকে আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) পদটি ফাঁকা পড়ে রয়েছে। ঈদের পর ওই পদে কাউকে নিয়োগ করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রশ্ন উঠতে পারে, বিএনপির টার্গেট কেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়? এটা শুধু বিএনপি বা তারেক রহমানের টার্গেট নয়। হাসিনা যখন ক্ষমতায় ছিলেন সেই সময় আওয়ামী লীগের নজরে ছিল এই বিশ্ববিদ্যালয়। এই প্রসঙ্গে হাসিনার একটি বক্তব্য উল্লেখ করা যেতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৩ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে হাসিনা বলেছিলেন, “ ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারত ভেঙে এই অঞ্চলে যে রাষ্ট্র ব্যবস্থার সৃষ্টি হয়, সেই রাষ্ট্রটি বাংলা ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর নিরাপদ আবাসভূমি ছিল না। এ সত্যটি সবার আগে অনুধাবন করতে পেরেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের তৎকালীন তরুণ ছাত্র শেখ মুজিবুর রহমান। যিনি সবার আগে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলন গড়ে তুলতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। কালক্রমে হয়ে উঠেছেন বাঙালি জাতির পিতা, বাঙালির ইতিহাসের মহানায়ক ও সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি। সেই থেকে ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কিত জ্ঞান ও বিজ্ঞানের নিবিড় চর্চা এবং দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সক্রিয় ভূমিকা রাখার পাশাপাশি ‘বাংলাদেশ’ নামক একটি জাতিরাষ্ট্র সৃষ্টিতে এ প্রতিষ্ঠানটির অনবদ্য অবদান চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
অর্থাৎ বাংলাদেশে জাতীয় রাজনীতিতে নির্ণায়ক শক্তি বা কেন্দ্র হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। পাশাপাশি আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের রাজনীতির ভরকেন্দ্র হিসেবে দেখা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলি হল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। তারেক রহমান প্রবাসে থাকলেও এটা বুঝতে তাঁর বিন্দুমাত্র অসুবিধে হয়নি যে এই সব নামজাদা বিশ্ববিদ্যালয়গুলি তাদের ছাত্র সংগঠন দখল করতে না পারলে সরকারকে টিকিয়ে রাখা বেশ মুশকিল হবে। তাই, এক ধাক্কায় সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উপাচার্যদের নাম ঘোষণা করেন। কাকে, কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য করা হয়েছে, একবার দেখে নেওয়া যাক। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য পদে নিয়োগ করা হয়েছে অধ্যাপক মো. আল ফোরকান। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পেয়েছেন অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলাম। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নিয়োগ করা হয়েছে অধ্যাপক রইসউদ্দিনকে। অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান খানকে বাংলাদেশ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নিয়োগ করা হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নুরুল ইসলাম খানকে ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য করা হয়েছে। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নতুন উপাচার্য হচ্ছেন অধ্যাপক মো. মাসুদ। অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে শুরু হল তারেকায়ন। শব্দটি নিয়ে একটু আলোচনা করা যাক।
পশ্চিবঙ্গে বাম রাজত্বে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে উপচার্য হিসেবে নিয়োগ করা হত আলিমুদ্দিন ঘনিষ্ঠদের। এমনকী স্কুলে প্রধানশিক্ষক পদেও বাম ঘনিষ্ঠদের নিয়োগ করা হত। সেই সময় রাজ্য কমিটির সম্পাদক এবং পলিটব্যুরোর সদস্য ছিলেন অনিল বিশ্বাস। শিক্ষাজগতে তৈরি হল এক নতুন শব্দ অনিলায়ন। সেই সূত্রে বলা যায় বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হল তারেকায়ন।












Discussion about this post