আবার সংবাদের শিরোনামে হাসিনা। শিরোনামে আসার কারণ তাঁর ঘরওয়াপসি। বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে পালাবদল ঘটেছে। বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। তারা সরকার গঠন করেছে। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী পদে নির্বাচিত হয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে হাসিনার প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি আবার নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। আলোচনায় ওঠার অন্যতম কারণ আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন। সম্প্রতি তারেক রহমানকে একটি গণমাধ্যমের তরফ থেকে প্রশ্ন করা হয়েছিল আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ ঘোষণার প্রেক্ষিতে তাঁর এবং তাঁর দলের অবস্থান কী? তারেক রহমান সরাসরি আওয়ামী লীগের নাম উচ্চারণ করেননি। তবে জানিয়েছেন, তিনি কোনও রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণার পক্ষাপাতি নন। তারেকের উত্তরের মধ্যেই কিন্তু লুকিয়ে রয়েছে হাসিনা সহ আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি। সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ভোটে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ অধিকাংশ পদে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীরা। কয়েকটি পদ পেয়েছেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরাও। তবে সেই সংখ্যা অনেকটাই কম। আর এই জয়ের খবর সামনে আসতেই নতুন করে আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন বহু আওয়ামী লীগ কর্মী। অনেকেই বলছেন, ফের ঘুরবে হাওয়া!
বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে লড়াই করতে চায় আওয়ামী লীগ। আর তাই নতুন করে দলকে চাঙ্গা করতে চলছে মরিয়া চেষ্টা। বিবিসির খবর বলছে, ভার্চুয়াল মাধ্যমকে ব্যবহার করে সে দেশের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকও করতে পারেন শেখ হাসিনা। দিতে পারেন বার্তা। আর তার আগে আইনজীবীদের ভোটে যে জয় আওয়ালী লীগকে অক্সিজেন জোগাবে বলেই মত রাজনৈতিকমহলের। সচিব ওয়াজেদ জয় একটি সংবাদসংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন ‘‘আওয়ামী লীগ হল বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এবং প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল। আমরা শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবার। আমরা এ ভাবে অবলীলায় আমাদের দেশের মানুষ এবং আমাদের দলের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের থেকে মুখ ফিরিয়ে চলে যেতে পারি না। উনি (শেখ হাসিনা) দেশে ফিরবেন। বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা হলেই ফিরবেন।’’
তবে ৭৬ বছরের মুজিব-কন্যা দেশে এক জন ‘সক্রিয় রাজনীতিবিদ’ হিসাবে ফিরবেন কি না, তা স্পষ্ট করেননি জয়। প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের একাংশে দাবি উঠেছে, হাসিনাকে দেশে ফেরানো হোক। আবার আওয়ামী লীগের নেতাদের একাংশও বলতে শুরু করেন, হাসিনা দেশে ফিরে তাঁদের পাশে দাঁড়াবেন। এই প্রসঙ্গে জাতীয় সংসদে তারেক রহমানের ভাষণের কথাও উল্লেখ করতে হয়। বক্তব্যের একটি অংশে তিনি শেখ মুজিব কেবল একটি মাত্র দলের নেতা ছিলেন না। তিনি ছিলেন এই ভূখণ্ডের অন্যতম প্রধান সংসদ সদস্য। তিনি ছিলেন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পুরোধা। তারেক বলেন, বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতির সূচনায় শেখ মুজিব একজন সংসদ সদস্য হিসেবে যে ভূমিকা পালন করেছিলেন তা ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমাদের উচিত ইতিহাসের সত্যকে সাহসের সঙ্গে স্বীকার করা।
এদিকে আবার বেগম জিয়ার মৃত্যুর পর হাসিনা কিন্তু শোক প্রকাশ করেছিলেন। জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতে গিয়ে হাসিনা বলেছিলেন, “বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছি। বাংলাদেশে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তাঁর অবদান অপরিসীম। তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতিতে এবং বিএনপি নেতৃত্বের এক অপূরণীয় ক্ষতি হল। ” সেই সময় থেকেই গুঞ্জন তৈরি হয় হাসিনা দেশে ফিরছেন। শুধু সময়ের অপেক্ষা।
যে দলটিকে নিয়ে ভাবা হয়েছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে মুছে ফেলা যাবে, সেই দলের কার্যালয় একে একে খুলছে। এখন পর্যন্ত ৭২ টি কার্যালয় খোলা হয়েছে। জামিনে মুক্তি পাচ্ছেন একের পর এক নেতা। এটা কি স্বাভাবিকতা? না কি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটা আসলে রিভার্স গিয়ার? আদলতের বক্তব্য পেশ পরিষ্কার। চার্জশিট দূর্বল, অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই। ৫ অগাস্ট পরবর্তী আবেগি গণমামলা আদালতের কাঠগড়ায় টিকছে না। আইনের ভাষায় এটি স্বাভাবিক। কিন্তু রাজনীতির ভাষায় এটিকে বলা যায় মুড চেঞ্জ। ৭২টি কার্যালয় খুলে নীরব প্রত্যাবর্তন আওয়ামী লীগের। একসময় তালাবন্ধ ছিল যে অফিসগুলো- জেলা, মহানগর, উপজেলা পর্যায়ে আওয়ামী লীগের ৭২টি কার্যালয় খুলে গিয়েছে। রাজনীতিতে কার্যালয় মানে শুধু ভবন নয়। এটা সংগঠন পুনর্গঠন, মাঠ দখল, বার্তা দেওয়া। আর সেই বার্তা হল, আমরা ছিলাম, আমরা আছি, আমরা থাকব।












Discussion about this post