শেখ হাসিনা কি বাংলাদেশে ফিরছেন? সরকারিভাবে তাঁর দল আওয়ামী লীগের তরফে এই নিয়ে এখনও কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। হাসিনা নিজেও বলেছেন, তিনি নিজেও দেশে ফিরতে বদ্ধপরিকর। তবে নতুন করে হাসিনার বাংলাদেশ প্রত্যাবর্তন নিয়ে গুঞ্জন তৈরি হওয়ার কারণ পদ্মাপারে ক্ষমতার পালাবদল। বিএনপি সরকার গঠন করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হয়েছেন। দেশে গণতন্ত্রের রেলগাড়ি চলতে শুরু করেছে। গুঞ্জন তৈরি হওয়ার আরও দুটি কারণ রয়েছে।
প্রথম কারণ তারেক রহমানের একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকার। সেখানে তাঁকে আওয়ামী লীগের ওপর জারি করা নিষেধাজ্ঞা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। তারেক জিয়া সরাসরি আওয়ামী লীগের নাম উচ্চারণ না করলেও বলেন, তিনি কোনও রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণার পক্ষপাতি নন। আবার সংসদে তারেক রহমান যে ভাষণ দিয়েছেন, সেখানে তিনি বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করেন। বক্তব্যের একটি অংশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শেখ মুজিব কেবল একটি মাত্র দলের নেতা ছিলেন না। তিনি ছিলেন এই ভূখণ্ডের অন্যতম প্রধান সংসদ সদস্য। ছিলেন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পুরোধা। বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতির সূচনায় শেখ মুজিব একজন সংসদ সদস্য হিসেবে যে ভূমিকা পালন করেছিলেন, তা ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমাদের উচিত সেই ইতিহাসের সত্যকে সাহসের সঙ্গে স্বীকার করা। তারেক আরও বলেন, জাতির পিতা হিসেবে বঙ্গবন্ধুর অবস্থানকে দলীয় সংকীর্ণতার উর্ধ্বে রাখা প্রয়োজন।” তারেকের মুখে শেখ মুজিবের প্রশংসা শুনে অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন। তবে একটি বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই যে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতির অভিমুখ বদলে গিয়েছেন। এবার দ্বিতীয় কারণটি নিয়ে আলোচনা করা যাক। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আওয়ামী লীগের বন্ধ থাকা দফতর খুলতে শুরু করেছে। কোনও কোনও জায়গায় তাদের বাধা দেওয়া হচ্ছে না এমনটা নয়। কিন্তু সরকারের তরফ থেকে পুলিশ ও প্রশাসনকে এই বার্তা দেওয়া হয়েছে যে তারা যেন বাধা না দেয়। যে কারণটি সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ তা হল আসন্ন স্থানীয় নির্বাচন। কিছুদিন আগে আওয়ামী লীগ সুপ্রিমো দিল্লি থেকে দলের কর্মীদের একটি অডিও বার্তায় প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যে যেখানেই থাকুন না কেন, দেশে ফিরতে হবে। মাঠে নামতে হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারেনি। বলা ভালো তাদের অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। পূর্বতন তদারকি সরকার বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছিল আওয়ামী লীগের প্রতীক ফ্রিজড করার। ফলে, স্থানীয় নির্বাচনেও যদি আওয়ামী লীগ অংশ নিতে না পারে, তাহলে দলের অস্তিত্ব ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাবে। ইতিমধ্যে দলের একাংশর মধ্যে কিছুটা হলেও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে খবর। কারণ, তারা ত্রয়োদশ সংসদীয় নির্বাচনের জন্য মানসিক দিক থেকে প্রস্তুত ছিল। শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে তাদের উজ্জীবিত করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তীরে এসে ডুবল তরী। এখন স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে দলে অক্সিজেনের জোগান দিতেই হবে। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, হাসিনা এতটা আত্মপ্রত্যয়ী কীভাবে হচ্ছে যেখানে তিনি জানেন ক্ষমতায় যে দলটি রয়েছে, সেই দল আওয়ামী বিরোধী। আওয়ামী লীগের নাম শুনতে পারে না প্রধান বিরোধী দল জামায়াত। অসহ্য বোধ করে এনসিপি। এত কিছুর পরেও দলনেত্রী কী করে বলছেন যে তিনি দেশে ফিরবেন? কেন দলীয় কর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ দিচ্ছেন? এই প্রসঙ্গে অনেকে ১৯৮১ সালে হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়টি উল্লেখ করেন। সেই সময় তিনি গোটা দেশ চষে বেরিয়েছিলেন। দলকে সংগঠিত করেছিলেন। বর্তমান প্রেক্ষাপট বদলে গিয়েছে। হাসিনা এখন আর প্রধানমন্ত্রী নন। সে কারণে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের হাত ধরে তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলতে পারছেন, কথা বলতে পারছেন দলের তৃণমূলস্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গেও। ফলে দেশে ফেরার একটা ক্ষেত্র তিনি প্রস্তুত করেছেন।












Discussion about this post