Deal done. তাই, Now or Never.
প্রতিবেদন শুরু করা যাক একটি রবীন্দ্র গান দিয়ে ‘এখন আর দেরি নয়, ধর গো তোরা হাতে হাতে ধর গো। আজ আপন পথে ফিরতে হবে সামনে মিলন-স্বর্গ।’
অনেকটাই দেরি হয়েছে। আর দেরি করা উচিত হবে না। দিল্লিতে থাকাকালীন তিনি দলের নেতা কর্মীদের হাত ধরার আহ্বান জানিয়েছিলেন। বলেছিলেন মাঠে নামার কথা। একটা পক্ষ দলটি জাতীয় রাজনীতি থেকে মুছে ফেলার চক্রান্ত করছেন। তাদের সেই চক্রান্ত ব্যর্থ করতে বদ্ধপরিকর বঙ্গবন্ধুকন্যা। এতোদি দেশের বাইরে থেকে লড়াই করেছেন। লড়াই নিজের সঙ্গে নিজের। লড়াই প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধে। এবার লড়াই দেশে ফিরে।
আগামী ২৬ মার্চ বাংলাদেশে ফিরছেন আওয়ামী লীগ সুপ্রিমো শেখ হাসিনা। তার একটা ইঙ্গিত তিনি দিয়েছিলে পবিত্র ঈদে। ঈদের দিন সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যূত প্রধানমন্ত্রী তথা আওয়ামী লিগ নেত্রী শেখ হাসিনা। দেশবাসী তথা দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বার্তায় তিনি আক্ষেপ করেছেন উৎসবের দিনে দেশে থাকতে না পারায়। একই সঙ্গে সংকল্প ব্যক্ত করেছেন স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের। অঙ্গীকার করেছেন নতুন বাংলাদেশ গড়ার। হাসিনার কথায় গোটা বাংলাদেশ এখন কারাগার। সেই জেলখানা থেকে তিনি দেশকে মুক্ত করবেন।তিনি আরও বলেছেন, স্বদেশ থেকে দূরে থেকেও আজকের পবিত্র ইদের দিনে প্রত্যাশা করি দেশের প্রতিটি মানুষ ভাল থাকুক। দেশের প্রতিটি খেটে খাওয়া, শ্রমজীবী মানুষের কাছে ইদ উৎসব হয়ে উঠুক। আমি সবসময় চেষ্টা করেছি আমার দেশের মানুষের মৌলিক চাহিদা যেন পূরণ হয়, তারা যেন পরাজিত না হয় দারিদ্র্যের কাছে। পরাজিত না হয় দেশ-বিদেশের ষড়যন্ত্রের কাছে।
এর আগে তিনি তিনটি তারিখের কথা উল্লেখ করেছিলেন। ৭, ১৭ এবং ২৬ মার্চ। তিনটি দিন বাংলাদেশের রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার রমনায় অবস্থিত রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) অনুষ্ঠিত জনসভায় শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা ও মুক্তির ডাক দিয়েছিলেন। সেই ভাষণেই তিনি উচ্চারণ করেছিলেন তাঁর ঐতিহাসিক উক্তি, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ ১৭ মার্চ হল শেখ মুজিবুরের জন্মশতবার্ষিকী। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আওয়ামী লিগ তাদের প্রাতঃস্মরণীয় নেতাকে শ্রদ্ধা নিবেদনের সুযোগ পায়নি। ঢাকায় ধানমণ্ডি-৩২ এ মুজিবুর রহমানের বাড়ি যেটি জাতীয় সংগ্রহশালা ছিল সেটি ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছিল উগ্রবাদী লোকজন। আর ২৬ মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় দিবস তথা স্বাধীনতা দিবস।
হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে আওয়ামী লিগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলি স্বাধীনতা দিবসে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ এবং অন্যত্র দিনটি উদযাপনের সুযোগ পায়নি। স্মৃতিসৌধে এবং অন্যত্র স্বাধীনতা সংগ্রামীদের শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে গ্রেপ্তার হন আওয়ামী লিগের বেশ কিছু নেতা-কর্মী। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে তিনটি দিনের মধ্যে ৭ এবং ১৭ তারিখ অতিক্রান্ত হয়েছে। রয়েছে ২৬ মার্চ। রাজনৈতিকমহলের একাংশ মনে করছে, বারে বারে দেশে ফেরার বার্তা দিয়ে দিল্লিতে তাঁর থেকে যাওয়া দলের তৃণমূলস্তরের নেতাদের মনে একটি নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। তাদের মনোবল তলানিতে চলে যাবে। সামনেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এই নির্বাচনেও যদি লীগাররা লডা়ই করতে না পারে, তাহলে দল জাতীয় রাজনীতি থেকে একপ্রকার নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। তাই, আর দেরি করা যাবে না।
দলীয় সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, আগামী ২৬ মার্চ সকালে দিল্লি ইন্দিরাগান্ধি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি বিশেষ বিমানে রওনা হবেন। দুপুর নাগাদ তিনি অবতরণ করবেন ঢাকায় হজরত শাহজালান বিমানবন্দরে তাঁর অবতরণ করবেন। স্বাধীনতা দিবসের দিন হাসিনার প্রত্যাবর্তন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে তৃণমূলস্তরের নেতাদের অক্সিজেন দেবে। ইতিমধ্যে শাহজালান বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।












Discussion about this post