সংবাদ শিরোনাম দেখে অনেকেই আতঙ্কিত হতে পারেন। শেখ হাসিনা এবং জামায়াতের দাবি এক হয় কী করে? তবে কি বিএনপিকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে জামায়াতের মতো একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তারা সমঝোতা করেছে? যে সরকার জনগণের ভোটে জিতে এসেছে, সেই সরকারের পতন কি শুধু সময়ের অপেক্ষা? সরকার কতদিন থাকবে, সেটা আলোচনা করার উদ্দেশ্য নিয়ে এই প্রতিবেদন নয়। প্রতিপাদ্য বিষয় জামায়াতের কোন দাবির সঙ্গে হাসিনার দাবি মিলে যাচ্ছে?
আগে হাসিনাকে নিয়ে দু-চার কথা। বাংলাদেশে ভোট হয়েছে ১২ ফেব্রুয়ারি। সেদিন আওয়ামী লীগ সুপ্রিমো তাঁর ফেসবুক পেজে এই নির্বাচন নিয়ে তীব্র বিষোদগার করেন। ক্ষমতাচ্যূত প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘অবৈধ এবং অসাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতা দখলকারী ইউনূসের আজকের নির্বাচন ছিল মূলত একটি সুপরিকল্পিত প্রহসন। জনগণের ভোটাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সংবিধানের চেতনাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আয়োজন করা হয়েছে আওয়ামী লীগ বিহীন, ভোটারবিহীন প্রতারণামূলক নির্বাচন।’’ভোটে হিংসা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হাসিনা লেখেন, ‘১১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার পর থেকেই ভোটকেন্দ্র দখল, গোলাগুলি, ভোট কেনাবেচা করতে টাকার ছড়াছড়ি, ব্যালট পেপারে সিল প্রদান এবং ফলাফল শিটে এজেন্টদের স্বাক্ষর গ্রহণের মধ্যে দিয়েই এই প্রহসনের সূচনা হয়।’ আওয়ামী লীগ সুপ্রিমো আরও লেখেন, ‘আওয়ামী লীগবিহীন এই ভোট জনগণ বর্জন ও প্রত্যাখ্যান করেছেন।’ এ প্রসঙ্গে তিনি ভোটদানের পরিসংখ্যানও তুলে ধরেছেন। হাসিনা নিজের পোস্টে লিখেছেন, ‘নির্বাচন কমিশনের বিবৃতি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা পর্যন্ত (সাড়ে তিন ঘণ্টায়) ভোটগ্রহণের হার ছিল মাত্র ১৪.৯৬ শতাংশ।’ হাসিনা মনে করেন, ‘ভোটগ্রহণের উৎকৃষ্ট সময়ে জনগণের এই কম অংশগ্রহণ’ প্রমাণ করে যে, তাঁরা ভোট প্রত্যাখ্যান করেছেন। হাসিনার অভিযোগ, আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের জোর করে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হয়েছে। এ জন্য তাঁদের ‘ভয় দেখানো হয়েছে’। গত কয়েক দিন তাঁদের উপরে ‘হামলা’ও হয়েছে। হাসিনার কথায়, ‘সকল ভয়ভীতি উপেক্ষা করে তাঁরা এই প্রতারণামূলক নির্বাচন বর্জন ও প্রত্যাখ্যান করেছেন। ফলে দেশের অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রই ছিল কার্যত ভোটারশূন্য।’
এবার দেখা যাক জামায়াত কী বলছে? গত রবিবার ১৫ মার্চ ১১ দলীয় জোট বৈঠকে বসে। বৈঠক শেষে জোটের সমন্বয়ক তথা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান বলেন, হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আমরা গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করছি। দীর্ঘদিন পর দেশে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জনগণ আশা করেছিল একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হবে। উপদেষ্টাদের একজনকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের একটি অংশ জড়িত ছিল। তারপরও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে আমরা এই নির্বাচন মেনে নিয়েছি এবং আমাদের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেছেন। তিনি আরও বলেন, একই দিনে দুটি বিষয়ে ভোট অনুষ্ঠিত হয়, একটি জাতীয় সংসদ গঠনের জন্য এবং অন্যটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের জন্য। একই দিনে ভোট গ্রহণ, ফল ঘোষণা এবং গেজেট নোটিফিকেশনও সম্পন্ন হয়েছে। তাই জনগণের রায়ের ভিত্তিতে সরকারকে এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, একই দিনে দুটি বিষয়ে ভোট অনুষ্ঠিত হয়, একটি জাতীয় সংসদ গঠনের জন্য এবং অন্যটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের জন্য। একই দিনে ভোট গ্রহণ, ফল ঘোষণা এবং গেজেট নোটিফিকেশনও সম্পন্ন হয়েছে। তাই জনগণের রায়ের ভিত্তিতে সরকারকে এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। ড. হামিদুর রহমান বলেন , জাতীয় সংসদের অধিবেশন ডাকা হলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা হয়নি।












Discussion about this post