ছবির বাঁদিক থেকে যাকে দেখা যাচ্ছে, তিনি হাসনাত আবদুল্লা। পরনে তাঁর স্পোর্টস জার্সি। জার্সির সামনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো রয়েছে। সেখানে ইংরেজিতে লেখা ‘ইংলিশ’। জার্সির পিছনে ইংরেজিতে তাঁর নাম লেখা আছে “ হাসনাত ”। তার ঠিক নীচে ইংরেজি অক্ষরে লেখা ১০। স্পোর্টস জার্সি পরে সংসদে শপথ নিয়েছেন তিনি। আর এই ঘটনা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, এই ধরনের পোশাক পরিধান করে কী সংসদে যাওয়া যায়? অনেকের মতে, সংসদের মতো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইনপ্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠানে এমন পোশাক পরা ছিল অপেশাদারী ও অসম্মানজনক। অন্যদিকে হাসনাতের সমর্থকদের দাবি, আন্দোলনের সময় তিনি যে জার্সি পরতেন সেটিকেই তিনি শপথের দিন বেছে নিয়েছেন। যা জনগণের সংগ্রামের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করে। প্রসঙ্গ উত্থাপনের কারণও রয়েছে।
ইংরেজিতে Bad Blood বলে একটা কথা রয়েছে। বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায় বদ রক্ত। শরীরে যার বদ রক্ত, তাঁর কাছ থেকে ভদ্র ও মার্জিত আচরণ আশা করাটাই অবাস্তব। হাসনাত আবদুল্লার শরীরে বইছে সেই বদ রক্ত। সুতরাং, সংসদে তাঁর আচার আচরণে সেই রক্তের ছাপ থাকবে, তা নতুন করে উল্লেখ করা দরকার পড়ে না। রাস্তায় যা কিছু করা যেতে পারে। হাসনাত আবদুল্লা গ্যাং গত দেড় বছরে সেটাই করেছে। কিন্তু সংসদ আর পাড়ার রক যে এক নয়, কিংবা কথার কুস্তির মঞ্চ নয়, এই নেতাটি সেটা ভুলে গিয়েছিলেন। ভুলে গিয়েছিলেন, সংসদের কিছু নিয়ম রয়েছে। সেই নিয়ম ক্ষমতায় আসীন দলের সদস্যদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, বিরোধী দলের সদস্যদের ক্ষেত্রেও সেই একই নিয়ম প্রযোজ্য। নিয়মের বাইরে গিয়ে সংসদে কিছু করলে স্পিকারের যে ঘাড়ধাক্কা দিয়ে বের করার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে, সেটা হাসনাত আবদুল্লার মতো জুলাই জঙ্গি ভুলে গিয়েছিলেন। তাই, স্পিকার সংবিধান প্রদত্ত অধিকার প্রয়োগ করে মার্শালকে ডেকে হাসনাতকে চ্যাংদোলা করে সংসদের বাইরে বের করে দেন।
স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে হাসনাত রীতিমতো তর্কে জড়িয়ে যান। সংসদ অবশ্যই কথা বলার মঞ্চ। জনগণের ভোটে জিতে তারা নির্বাচিত প্রতিনিধি। তারা সংসদে কথা বলবেন মানে যে কেন্দ্রে থেকে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হয়েছে, সেই কেন্দ্রে মানুষদের হয়ে কথা বলবেন। এমনকী তাঁকে যার ভোট দেননি, তিনি তাদেরও প্রতিনিধি। সুতরাং সংসদে তাঁর কথা বলার অধিকার রয়েছে। এটা সংবিধান প্রদত্ত অধিকার। কিন্তু হাসনাত আবদুল্লা সংসদে যা করেছেন, তা কোনওভাবেই সংসদীয় আচরণ বলা যাবে না। সংবিধানের ফ্লোরে দাঁড়িয়ে এই জুলাই বিপ্লবী অশালীন ভাষা প্রয়োগ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে, ট্রেজারি বেঞ্চের সদস্যরা তো বটেই বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা তাঁকে শান্ত হওয়ার অনুরোধ করেন। এমনকী স্পিকার তাকে শান্ত হওয়ার অনুরোধ করেন।
কিন্তু বিপ্লবের বদ রক্ত যার শরীরে, সে কী করে সংসদে দাড়িয়ে ভদ্র-সভ্য আচরণ করবে? হাসনাত আবদুল্লা রীতিমতো টেবিল চাপড়াতে শুরু করেন। পরিস্থিতি একসময় চরমে পৌঁছলে স্পিকার হাফিজউদ্দিন মার্শাল ডাকেন। মার্শালকে তিনি নির্দেশ দেন হাসনাতকে সংসদের বাইরে বের করে দেওয়ার। মার্শাল স্পিকারের নির্দেশ পালন করেন। অংসদীয় আচরণের জন্য হাসনাতের সংসদ সদস্যপদ বাতিল হয়ে গিয়েছে। যদিও হাসনাতের সমর্থকদের দাবি, পুরোটাই গুজব। এনসিপির তরফে বলা হচ্ছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হাসনাতকে নিয়ে যে পোস্ট ঘোরাঘুরি করছে সেগুলি ভুয়ো। সংসদ সচিবালয় সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে হাসনাত আবদুল্লার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলি হল স্পিকার সতর্ক করার পরেও হাসনাত রুলিং ভেঙেছেন। সংসদ ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছে। অশালীন শব্দ ব্যহার করেছেন এই জুলাই যোদ্ধা।












Discussion about this post