ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারেনি। বলা ভালো তাদের অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। পূর্বতন তদারকি সরকার বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছিল আওয়ামী লীগের প্রতীক ফ্রিজড করার। ফলে, স্থানীয় নির্বাচনেও যদি আওয়ামী লীগ অংশ নিতে না পারে, তাহলে দলের অস্তিত্ব ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাবে। ইতিমধ্যে দলের একাংশর মধ্যে কিছুটা হলেও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে খবর। কারণ, তারা ত্রয়োদশ সংসদীয় নির্বাচনের জন্য মানসিক দিক থেকে প্রস্তুত ছিল। শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে তাদের উজ্জীবিত করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তীরে এসে ডুবল তরী। এখন স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে দলে অক্সিজেনের জোগান দিতেই হবে।
এদিকে, আবার জামায়াত নতুন সরকারকে অস্বস্তিতে ফেলতে একের পর এক কৌশল নিয়ে চলেছে। তারা যে কোনওভাবেই তারেক রহমানকে মসৃণভাবে সরকার চালাতে দেবে না, তার একটা প্রমাণ কিন্তু জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই তারা সেটা স্পষ্ট করে দিয়েছে। রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু সংসদে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে জামায়াত সহ বিরোধী দলের নেতারা প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। তারা দিতে শুরু করে সরকার বিরোধী স্লোগান। একসময় তারা সংসদ ওয়াকআউট করে। পরে জামায়াতে আমির সংবাদমাধ্যমকে যা বলেছেন, তার থেকে স্পষ্ট যে তারা বিএনপি সরকারকে খুব মসৃণভাবে চলতে দেবে না। জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান তো তারেক সরকারের জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ তুলেছেন। কারণ, বিএনপি জুলাই সনদ নিয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে। ফলে, বিরোধীদল কিন্তু গোপনে একজোট হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নেতৃত্ব দিচ্ছে জামায়াত।
এই অবস্থায় তারেক রহমান বা তাঁর সরকারের কাছে একটাই রাস্তা খোলা রয়েছে, যে কোনও উপায়ে আওয়ামী লীগকে জাতীয় রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনা। রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গীতে দুটি দল সম্পূর্ণ ভিন্ন মেরুর হলেও একটি ক্ষেত্রে তাদের মিল রয়েছে। দুটি দল গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। জামাত কখনই বাংলাদেশের মূল ধারার রাজনীতিতে প্রবেশ করতে পারেনি। সদ্যসমাপ্ত ত্রয়োদশ নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে তারা শুধু জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেনি, তারা তাদের আগের অবস্থান থেকে নিজেদের আরও মজবুত করেছে। জামায়াত চাইছে একটি সমান্তরাল ক্ষমতার একটি কাঠামো তৈরি করতে। জামায়াতের রাগের কারণ তারা বিএনপির কাছে ১২টি মন্ত্রক দাবি করেছিল। তাদের যুক্তি ছিল, আওয়ামী সরকারের আমলে জাতীয় পার্টি যদি বিরোধী দল থেকে মন্ত্রক পেতে পারে, তাহলে তারা কেন পাবে না? তারাও এখন শেখ হাসিনার ফর্মূলায় চলতে চাইছে। এই জামায়াত ইউনূস আমলে প্রশাসনের ওপর তাদের প্রভাব খাটিয়েছিল। এখন তারা তারেক রহমান সরকারের ওপর প্রভাব খাটাতে চাইছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, জামায়াত ক্ষমতায় থাকার স্বাদ পেয়ে গিয়েছে। তাই, পূর্বতন সরকারে আমলে তারা যেমন সরকারের ওপর প্রভাব খাটিয়েছিল, তারা তারেক রহমান সরকারের ওপরেও প্রভাব খাটাতে চাইছে। এই অবস্থায় তারেকের পরিত্রাতা হয়ে উঠতে পারেন শেখ হাসিনা। তার কারণও রয়েছে। হাসিনার যে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে সেই রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার সঙ্গে তারেক রহমানের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার তুলনা করা যায় না। হাসিনার রাজনৈতিক জীবন একাধিক উত্থানপতনের সাক্ষী। তারপরেও না হাসিনাকে বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতি থেকে মুছে ফেলা সম্ভব হয়েছে, না আওয়ামী লীগকে। তাদের সাইনবোর্ডে করে দেবে এমন ক্ষমতা কোনও রাজনৈতিক দলের নেই। কিন্তু বিএনপি সরকারের ওপর জামায়াতের ক্ষোভ থাকার কারণ জুলাই সনদ। দলের বক্তব্য সরকারে আসার আগে এই সনদ নিয়ে তাদের সঙ্গে ছিল বিএনপি। আর সরকারে আসীন হওয়ার পর তারা তাদের অবস্থান বদল করেছে। ফলে, জামাত কোনও অবস্থাতেই সরকারকে এক ইঞ্চি জমি ছেড়ে দেবে না, সেটা স্পষ্ট।
এদিকে, ভারতও কিন্তু বসে নেই। প্রয়াত জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল জয়শঙ্কর এবং ওম বিড়লাকে। দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে গিয়ে জিয়ার প্রতিশ্রদ্ধা জানিয়ে আসেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। এদিকে, আবার বাংলাদেশে একের পর এক আওয়ামী লীগের অফিস খুলতে শুরু করেছে। হাসিনা কর্মীদের মাঠে নামার কথা বলেছেন। কোনও প্রান্তেই কিন্তু সরকারের তরফ থেকে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এই সব দৃশ্য দেখে একটা বিষয় স্পষ্ট যে তারেক রহমান বুঝে গিয়েছেন, তার পরিত্রাতা আসলে আওয়ামী লীগ সুপ্রিমো।












Discussion about this post