ঢাকায় মঞ্চ ৭১ অনুষ্ঠানে ডঃ কামাল হোসেনকে আমন্ত্রণ জানানোর পরও তিনি উপস্থিত হননি। কেন হননি, সেটা ঘিরে প্রশ্ন উঠে শুরু করেছে। এর পাশাপাশি ওই মঞ্চ ৭১ থেকে মুক্তিযোদ্ধা লতিফ সিদ্দিকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন, সাংবাদিক মঞ্জুর আলম পান্না সহ ১৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরুদ্ধে আইনে মামলা দেওয়া হয়েছে। এবং ডঃ কামাল হোসেনের নাম থাকা সত্ত্বেও তিনি কেন উপস্থিত হলেন না, সেটা ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এমনকি মঞ্চ ৭১ এর সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা কি? এমন প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। এদিকে গণফোরামের প্রতিবাদ, ডক্টর কামালের নামে মঞ্চ একাত্তরের প্রতারণা। তারা বলছে, প্রবীণ আইনজীবী ও গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ডঃ কামাল হোসেনের নাম বিক্রি করে মঞ্চ একাত্তর নামের সংগঠনটির নেতারা জাতির সঙ্গে প্রতারণা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ডঃ কামাল হোসেনের পরিবারের দাবি, তার সঙ্গে কথা না বলেই মুক্তিযোদ্ধাদের নামে হঠাৎ গজিয়ে ওঠা এই সংগঠনটি তাকে জড়িয়ে একের পর এক বিতর্কিত কর্মকান্ড করে চলছে। তাদের এমন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ডঃ কামাল হোসেনের দূরতম সম্পর্ক নেই। আর গণ ফোরাম জানিয়েছে, মঞ্চ ৭১ নামে যে সংগঠনটি ডঃ কামাল হোসেনের নাম ব্যবহার করে জনমতে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে তার সঙ্গে ডঃ কামাল হোসেন বা গণপ্রাণী কোনও সম্পৃক্ততা নেই।
এদিকে কামাল হোসেনকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এমনকি মঞ্চ ৭১ এর প্রতিষ্ঠাতা জেডাই খান পান্নার পক্ষ থেকে যে ব্যক্তি সকলের সঙ্গে যোগাযোগ এবং আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়েছিলেন তিনি হলেন, কাজী এটিএম আনিসুর রহমান বুলবুল। সেই কাজী এটিএম আনিসুর রহমান বুলবুল নিজে গিয়ে আমাল হোসেনকে আমন্ত্রণপত্র দিয়ে এসেছেন। এমনকি তিনি সেই ছবিও তুলেছিলেন। তাহলে এটা প্রমাণিত হল, কামাল হোসেন যে প্রধান অতিথি সেটা তিনি জানতেন। এমন কি বলা হচ্ছে, কামাল হোসেনের নাকি সেরকম কোনও শারীরিক পরিস্থিতি নেই, যেখানে তিনি কোনও অনুষ্ঠানে যাবেন। কিন্তু এই সমস্ত কথা যে ভুয়ো, সেটা প্রমাণিত হয়ে গিয়েছে। কারণ তাকে আমন্ত্রণ জানানোর ছবি সামনে এসেছে। এমনকি কামাল হোসেন ২৫ শে অগাস্ট একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। তাহলে কি এমন ঘটল, যে ২৮ শে আগস্ট তিনি আমন্ত্রণে যেতে পারবেন না?
কেন কামাল হোসেন ওই অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন? এই প্রশ্ন যেমন উঠছে, ঠিক একইভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কামাল হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে ওই অনুষ্ঠানে থাকবেন এমন ব্যানার লাগিয়ে একই সঙ্গে বহু মানুষকে জড়ো করার কি কোনও প্রয়াস ছিল? নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে? কেন তিনি আয়োজকদের বলেছেন, তিনি রাস্তাতে রয়েছেন? অনুষ্ঠান পিছতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হয় কামাল হোসেন মিথ্যে বলেছে, আর না হয় আয়োজকরা মিথ্যে বলছেন। এখন দেখার, এই ঘটনার জল কতদূর পর্যন্ত গড়ায়।












Discussion about this post