ঢাকার রিপোর্টাস ইউনিটিতে মঞ্চ ৭১ কে কেন্দ্র করে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা ঘিরে প্রবল আলোচনা চলছে বাংলাদেশের বিভিন্ন মহলে। সেখানে যে সাংবাদিক, শিক্ষক সহ ১৫ জনের উপর মব করা হল, তাদেরই পুলিশ তুলে নিয়ে গিয়ে গ্রেফতার করল। তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা করে। পরে তাদের চিফ মেট্রোপলিটন আদালতে তোলা হয়। তাদের জামিন মঞ্জুর হয়নি। প্রশ্ন উঠছে, আওয়াজ তুললেই কি ঠাই কারাগারে? মুক্তিযোদ্ধা-সাংবাদিক-শিক্ষকরা কি ইউনূস প্রশাসনের চোখে সন্ত্রাসবাদী?
বৃহস্পতিবার ঢাকার রিপোর্টাস ইউনিটিতে মঞ্চ ৭১ নামে একটি সংগঠনের অনুষ্ঠানে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানে জুলাই যোদ্ধারা উপস্থিত হয়ে অনুষ্ঠানের বক্তাদের উপর একরকম হামলা চালায়। তারা হলেন কয়েকজন ছাত্র সমন্বয়ককারী, বিএনপি এবং জামাতের কয়েকজন ছাত্র যুব। কেন তারা সেখানে জড়ো হয়েছেন সেই নিয়ে প্রতিবাদ করে তারা। এবং তারা প্রত্যেকেই নাকি আওয়ামী লীগের দোসর ছিলেন। এমনটা বলা হয়। শুধু তাই নয়, তাদের চিহ্নিত করে তাদের ওপর মব সৃষ্টি করা হয়। এমনকি তাদের শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ। এমন একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। যদিও পুলিশ উপস্থিত হয়ে তাদের নিয়ে যাওয়ার পর লতিফ সিদ্দিকী সহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন, সাংবাদিক মঞ্জুর আলম পান্না সহ ১৬ জনকে গ্রেফতার করে। প্রথমে তাদের আটকে রাখা হয়। তারপরে গ্রেফতার করা হয়। শাহবাগ থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে পুলিশ মামলা রুজু করে। শাহবাগ থানার উপ পরিদর্শক তৌফিক হাসান আবেদন করেছিলেন তাদের যেন কারাগারে পাঠানো হয়।
এই ঘটনায় সাংবাদিক জয় মামুন থেকে শুরু করে অনেকেই প্রতিবাদ করেছেন। জয় মামুন লিখেছেন, হামলাকারীদের নয়, বরং হামলার শিকার বীর মুক্তিযোদ্ধা লতিফ সিদ্দিকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জন, সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্নাসহ ১৫ জনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এভাবেই রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ডালপালা মেলছে মব সন্ত্রাস আর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধ এবং একাত্তরকে করা হচ্ছে লাঞ্ছিত, কলঙ্কিত।
তবে বেশ কিছু ক্ষেত্রে এই প্রশ্ন উঠে যে জেডাই খান পান্না, তিনি কেন উপস্থিত ছিলেন না ওই অনুষ্ঠানে? তিনি তো মঞ্চ একাত্তরের প্রতিষ্ঠাতা। যদিও জানা যায়, তিনি পৌঁছানোর আগেই গন্ডগোল দেখে যায় ওই অনুষ্ঠানে। পরে আবার জানা যায়, জেডাই খান পান্না সুপ্রিম কোর্টের নিজের চেম্বারে অবস্থান করছিলেন। তার অনুষ্ঠানে আসার কোনও পরিকল্পনা ছিল না। গন্ডগোলের পর সেই চেম্বার থেকেই প্রতিবাদ করেন ভিডিও করে। এক্ষেত্রে একটি প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।
এর মধ্যে আরেকটি বিষয় সামনে এসেছে। গণফোরাম বিবৃতি দিয়ে বলছে, কামাল হোসেনের সঙ্গে এটার কোনও সম্পর্ক নেই। তখন প্রশ্ন উঠে যায়, জেডাই খান পান্না উপস্থিত হলেন না, কামাল হোসেন উপস্থিত হলেন না, এখন বলা হচ্ছে গণফোরামের তরফে, তার কোনও সম্পর্ক নেই। তাহলে এই আয়োজন এর উদ্দেশ্য কি ছিল? যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি দেশে শিক্ষক, সাংবাদিকের কন্ঠ রোধ করা, তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন আইনের মামলা রুজ করা, একটি রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর। শুধু তাই নয়, কেউ যদি আওয়ামীলীগ সমর্থক হন, তাহলেও অপরাধ কোথায়? রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তারা তো কোনও চক্রান্ত করেননি? আসলে কোন দিকে এগোচ্ছে বাংলাদেশ? এটাই সব থেকে বড় প্রশ্ন।












Discussion about this post